জঙ্গি সন্তান এবং তাদের পরিবার

প্রকাশ | ০৯ অক্টোবর ২০১৬, ১৪:৫৯

আরটিভি রিপোর্ট

জঙ্গিবাদ এমন এক ঘৃণিত অপরাধ, যার সঙ্গে জড়িতদের মৃতদেহ পর্যন্ত গ্রহণ করছে না পরিবার। অথচ বাবা-মা জীবনের সর্বস্ব উজাড় করে সেই সন্তানকেই লালন-পালন করেছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে তৈরি হওয়া সামাজিক নিন্দা ও চাপের জন্য জন্মদাতা মা-বাবাও পর্যন্ত জঙ্গি সন্তানের মৃতদেহ নিতে অস্বীকার করছেন। জঙ্গিবাদের সামাজিক প্রতিক্রিয়া নিয়ে খান আলামিন’র ধারাবাহিক রিপোর্টের প্রথম পর্ব।

জঙ্গিবাদে দীক্ষা নিয়েও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছেন গাইবান্ধার মাহমুদ। পরিবারের মাধ্যমে র‌্যাবের কাছে আত্মসমর্পণ করে নিজের ভুলের জন্য জাতির কাছে ক্ষমাও চেয়েছেন। তার ফিরে আসা মা আক্তার জাহানের জীবনে এনে দিয়েছে স্বস্তি ও অনাবিল আনন্দ। সে কথা বলতে গিয়ে সুখের কান্নায় বারবার কথা জড়িয়ে আসে মায়ের।

কিন্তু এই মায়ের মতো ভাগ্য সুপ্রসন্ন হয়নি গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হামলাকারী বা কল্যাণপুরে তাজ মঞ্জিলে নিহত জঙ্গিদের মায়ের। সন্তানের মৃতদেহ পর্যন্ত গ্রহণ করেননি তারা। শেষ পর্যন্ত আঞ্জুমানে মুফিদুল ইসলামের মাধ্যমে জঙ্গিদের মরদেহ বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

যে মা গর্ভে ধারণ করে সন্তানকে পৃথিবীর আলো দেখিয়েছেন, যে বাবা অক্লান্ত পরিশ্রম করে সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়েছেন, তারা কেন সন্তানের মৃতদেহ পর্যন্ত নিতে অস্বীকার করছেন? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে যে সামাজিক ঘৃণা ও চাপ তৈরি হয়েছে, তারই প্রতিফলন ঘটেছে পরিবারের এমন আচরণে।

সন্তান যে অপরাধই করুক, বাবা-মা সব সময়ই তার পাশে এসে দাঁড়ায়। সহায়তার হাত বাড়ায়। অথচ জঙ্গিবাদের মতো ন্যাক্কারজনক অপরাধে সেই বাবা-মা’ই বুকে পাথর চেপে হলেও সন্তানকে অস্বীকার করছেন।

এস