Mir cement
logo
  • ঢাকা সোমবার, ২৩ মে ২০২২, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

'প্রাকৃতিক খাবার খেলে ও নিয়মিত হাঁটলে কমে যাবে রোগব্যাধি'

প্রাকৃতিক, খাবার, খেলে, ও, নিয়মিত, হাঁটলে, কমে, যাবে, রোগব্যাধি,

বর্তমান বিশ্বে বেশিরভাগ মানুষই ডায়াবেটিস, ওজন বেড়ে যাওয়াসহ নানান সমস্যায় ভুগছেন। কারণ মানুষ হাঁটছে না, দীর্ঘক্ষণ বসে থাকে। এজন্য পরিমিত খেতে হবে। প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খেতে হবে। ব্যায়াম করতে হবে।

মঙ্গলবার (১৮ জানুয়ারি) রাতে রাজধানীর ধানমন্ডির একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত সায়েন্টিফিক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি অনুষদ বিভাগের সাবেক ডিন অধ্যাপক ড. চৌধুরী মাহমুদ হাসান।

তিনি বলেন, কিছু রোগ ন্যাচারাল মেডিসিন দিয়েই ভালো উপকার হয়। এটা আমাদের বুঝতে হবে-কোন পদ্ধতিটা কোন রোগীর ওপর প্রয়োগ করা হবে। সেই অনুযায়ীই চিকিৎসা করাতে হবে। এখানে সবাই মিলে একটা সমন্বিত চিকিৎসা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, তাহলেই রোগীরা উপকৃত হবে।

ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেডের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর অধ্যাপক ড. চৌধুরী মাহমুদ হাসান বলেন, চিকিৎসা বিজ্ঞানের তিনটি দিক-মেডিকেল ব্যবস্থাপত্র, ফার্মাসিস্ট ও নার্স। তার সঙ্গে এখন যুক্ত হয়েছে কমপ্লিমেন্টারি মেডিসিন বা সাপ্লিমেন্টারি মেডিসিন। তার পাশাপাশি পুষ্টি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে এখন। আমেরিকার ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) পুষ্টির ওপর বেশ জোর দিয়েছে।

ইবনে সিনার ন্যাচারাল মেডিসিন বিভাগের উদ্যোগে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনা করেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন চিকিৎসা বিজ্ঞানী আমেরিকান সেন্টার অব রিজেনারেটিভ হেলথের কনসালটেন্ট ড. এম মজিবুল হক।

তিনি বলেন, প্রত্যেকের শরীরে একশ'টা বডি সেল আছে। এই বডি সেলগুলো প্রতি মুহূর্তে রিজেনারেটেড হয়। আজ আমার একটা অর্গান বা অঙ্গ অসুস্থ হলে যদি আমরা রি-জেনারেটেড খাবার দেই তাহলে সেটা সুস্থ হবে। আর যদি ভালো খাবার না দিই, তাহলে সুস্থ অঙ্গও অসুস্থ হবে। আমাদের শরীর একটা ভাঙা-গড়ার মধ্যে যায়।

অধ্যাপক ড. আবু খুলদুন আল মাহমুদের সভাপতিত্বে 'রিজেনারেটিভ হেলথ উইথ নিউট্রিশন অ্যান্ড অলটারনেটিভ মেডিসিন' শীর্ষক সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন দেশের প্রখ্যাত পুষ্টিবিদ আখতারুন্নাহার আলো, ইবনে সিনা স্পেশালাইজড হাসপাতালের ক্লিনিক্যাল ডায়েটিশিয়ান অ্যান্ড নিউট্রিশনিস্ট কনসালটেন্ট সুমাইয়া শাহানাজ, প্রখ্যাত পুষ্টিবিদ ইশরাত জাহান, পুষ্টিবিদ সিরাজাম মুনিরা প্রমুখ।

ড. এম মজিবুল হক বলেন, আজ ৭০ ভাগ মানুষ ক্রনিক বা দুরারোগ্য ব্যাধিতে ভুগছে। পৃথিবীর ৭৫ ভাগ মানুষকে কোনো না কোনো মেডিসিন নিতে হয়। পৃথিবীর অর্ধেকের বেশি মানুষ মারা যাচ্ছে হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকে। বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের মাঝে ৯ কোটি মারা যাবে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকে। আমাদের কার্ডিলজিস্টের কী অভাব রয়েছে? গ্যাপটা কোথায়? সেটা হলো পুষ্টি।

ড. মুজিবুল হক বলেন, সুস্থ থাকার জন্য আমাদের মেডিকেল চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা আছে। তবে এর পাশাপাশি পরীক্ষিত পুষ্টির সমন্বয় রিজেনারেটিভ মেডিকেল থেরাপি বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত ন্যাচারাল মেডিসিন এবং সর্বোপরি লাইফস্টাইল মডিফিকেশন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।

ড. মুজিবুল হক আরও বলেন, ওষুধ আমাদেরকে সাময়িকভাবে সুস্থতা দান করলেও দীর্ঘমেয়াদী এর নানাবিধ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এমতাবস্থায় গতানুগতিক ওষুধের পরিমাণ যথাসম্ভব কমিয়ে ন্যাচারাল মেডিসিন তথা স্বাস্থ্যসম্মত খাবারের ওপর বিশেষভাবে জোর দেওয়া প্রয়োজন। এজন্য ফাস্টফুড তথা জাঙ্ক ফুড পরিহার করে প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত খাবার খেতে হবে, কেমিক্যালমুক্ত খাবার খেতে হবে।

এনএইচ/এসকে

মন্তব্য করুন

RTV Drama
RTVPLUS