Mir cement
logo
  • ঢাকা সোমবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২১, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

সেই কিশোর গাড়িচালকের বাবাকে তিরস্কার করলেন বিচারক

আইনজীবী তারজেল হোসেন

রাজধানীর বেইলি রোডে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালিয়ে রিকশা গুঁড়িয়ে দেওয়া সেই কিশোরকে গ্রেপ্তার করে গাজীপুরের টঙ্গী কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। গত শুক্রবারের ওই দুর্ঘটনায় পাঁচ মাসের শিশুসহ তিন আরোহী আহত হয়েছে। এরপর ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। এ ঘটনায় মামলা হলে সেই কিশোর চালককে চুয়াডাঙ্গা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

কাকরাইলের উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ওই কিশোরকে ঢাকার আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়ার আবেদন করে পুলিশ। ওই কিশোরের পক্ষে তার বাবা সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তারজেল হোসেন জামিন আবেদন করেন। দুটি আবেদনই নাকচ করে কিশোরকে গাজীপুরের টঙ্গী কিশোর উন্নয়নকেন্দ্রে পাঠানোর আদেশ দেন ঢাকার ৬ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ও শিশু আদালতের বিচারক আল-মামুন।

শুনানির সময় বিচারক ওই কিশোরের বাবাকে তিরস্কার করেন। বলেন, বিচার তো আপনার হওয়া উচিত। এ সময় কিশোরকে দেখিয়ে বলেন, ‘ওর তো গাড়ি চালানোর বয়স হয়নি। লাইসেন্স নেই। ওর হাতে গাড়ি দিল কেন? ওর বাবা এত দায়িত্বহীন কেন?’

গাড়ি কার নামে নিবন্ধিত, জানতে চাইলে ওই কিশোর বলে, তার বাবার নামে গাড়ি। তখন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জেসমিন আক্তার বিচারককে বলেন, ‘সেকেন্ড হ্যান্ড গাড়ি, ৬ মাস আগে কেনা হয়েছে। তার বাবা সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী।’

বিচারক তারজেলের কাছে তার ছেলের গাড়ি চালানোর লাইসেন্স আছে কি না জানতে চাইলে তিনি না সূচক জবাব দিয়ে বলেন, তার ছেলে যে গাড়ি নিয়ে বের হয়েছিল, তা তিনি জানতেন না। তখন বিচারক তাকে বলেন, ‘সাজা তো আসলে আপনার হওয়া উচিত।’

কাকরাইলের উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ওই কিশোরকে বিচারক বলেন, ‘এখনও অনেক সময় পড়ে আছে। বড় হও, অনেক গাড়ি চালাতে পারবে। তুমি তো একজনের ছেলে। যে শিশুটাকে আহত করেছ, সেও তো কারও ছেলে। কত সময়, কত দিন পড়ে আছে, জীবনটা কী এত ছোট!’

শিশু বিবেচনায় রিমান্ড আবেদন নাকচ করার কথা জানালেও কিশোর উন্নয়নকেন্দ্রে দায়িত্বশীল কর্মকর্তার উপস্থিতিতে একদিন জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি দেন বিচারক।

আরআর/টিআই

মন্তব্য করুন

RTV Drama
RTVPLUS