Mir cement
logo
  • ঢাকা শনিবার, ৩১ জুলাই ২০২১, ১৬ শ্রাবণ ১৪২৮

মৃ'ত ব্যক্তির নামে রোহিঙ্গা নারীর জাতীয় পরিচয়পত্র, দুদকের মামলা

ফাইল ছবি

রোহিঙ্গা নাগরিক রমজান বিবি মৃত এক বাংলাদেশি নারীর নাম ব্যবহার করে ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র ও জন্মনিবন্ধন সনদ লাভ করেন। শুধু তাই নয় জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়ার পর বাংলাদেশি পাসপোর্ট করার জন্যও কাগজপত্র তৈরি করেছিলেন তিনি। তবে শেষ রক্ষা হয়নি রমজান বিবির।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জালে ওই নারী ও চক্রের সাথে জড়িত চার মিয়ানমার নাগরিকের একটি দল ধরা পড়েছে। রোহিঙ্গা নাগরিকদের জন্মসনদ, জাতীয়তা সনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) প্রদান এবং পাসপোর্ট আবেদন করতে সহায়তা করার দায়ে চট্টগ্রামের হাটহাজারীর মির্জাপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. নুরুল আবছারের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন, ওই ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার মো. নুরুল ইসলাম, জন্ম নিবন্ধন প্রস্তুতকারী মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন, হাটহাজারী উপজেলা নির্বাচন অফিসারের ডাটা এন্ট্রি অপারেটর (অস্থায়ী) মো. সাইফুদ্দিন চৌধুরী, কেরানীগঞ্জের লালবাগ উপজেলা নির্বাচন অফিসের টেকনিক্যাল এক্সপার্ট (অস্থায়ী) সত্য সুন্দর দে, ডবলমুড়িং উপজেলা নির্বাচন অফিসারের অফিস সহায়ক মো. জয়নাল আবেদীন, চট্টগ্রামের সিনিয়র জেলা নির্বাচন অফিসারের কার্যালয়ের অফিস সহায়ক মো. নুর আহম্মদ এবং রোহিঙ্গা চার নাগরিক হলেন- রমজান বিবি ওরফে লাকী, লাকীর কথিত পিতা মো. আ. ছালাম, ছালামের ছেলে মোহাম্মদ আজিজুর রহমান এবং লাকীর স্বামী সৌদি প্রবাসী রোহিঙ্গা নাগরিক নাজির আহম্মেদ।

মঙ্গলবার (১৫ জুন) দুদকের চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে সংস্থাটির উপসহকারী পরিচালক মো. শরীফ উদ্দিন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। দুদকের জনসংযোগ দফতর সংবাদ মাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, আসামিরা প্রতারণা ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে ভুয়া পরিচয় ও নাম ঠিকানা ব্যবহার করে ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র, জাতীয়তা সনদপত্র ও জন্মনিবন্ধন তৈরি করে বাংলাদেশি পাসপোর্ট তৈরির চেষ্টা করেছেন। এর আগে রোহিঙ্গা নাগরিক রমজান বিবি ২০১৯ সালের জুলাই মাসে স্থানীয় এক মৃত নারী লাকীর নাম ধারণ করে হাটহাজারী ৩ নং মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদ হতে নাগরিক সনদপত্র ও জন্ম নিবন্ধন সনদ গ্রহণ করেন। সেখানে অপর রোহিঙ্গা আ. ছালামকে পিতা পরিচয় দিয়েছেন এবং সৌদি প্রবাসী রোহিঙ্গা নাগরিক নাজির আহম্মেদকে স্বামী হিসাবে উল্লেখ করেছেন। নাজির আহম্মদ প্রকৃত স্বামী হলেও ছালাম তার প্রকৃত পিতা নন।

এর আগে আ. ছালাম ও ছেলে আজিজুর রহমান জাল নথিপত্র বানিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করেন। একই প্রক্রিয়ায় সৌদি প্রবাসী রোহিঙ্গা নাগরিক নাজির পাসপোর্ট তৈরি করেছিলেন বলেও অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে।

জাতীয় পরিচয়পত্র ও জন্মনিবন্ধন সনদ তৈরিতে ইউনিয়ন পরিষদের তৎকালীন চেয়ারম্যান ও মেম্বার এবং নির্বাচন অফিসের ওই কর্মচারীরা সহায়তা করেছেন বলে দুদকের অনুসন্ধানে প্রমাণিত হয়েছে। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯/৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/১০৯ ধারাসহ ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫ (২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

এম/এমএন

মন্তব্য করুন

RTV Drama
RTVPLUS