Mir cement
logo
  • ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ জুন ২০২১, ৩ আষাঢ় ১৪২৮

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে রেস্টুরেন্ট হবে না, লাগানো হবে এক হাজার গাছ

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে রেস্টুরেন্ট হবে না, লাগানো হবে এক হাজার গাছ
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে লাগানো হবে এক হাজার গাছ

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণে মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এখানে প্রায় এক হাজার গাছ লাগানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

গত এক সপ্তাহ ধরে সেখানে গাছ কেটে প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রতিবাদে বিভিন্ন ব্যক্তি ও পরিবেশবাদী সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিবাদমুখর হওয়ার পর, আজ সরকারের পক্ষ থেকে এমন সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতা স্তম্ভ নির্মাণ (তৃতীয় পর্যায়) প্রকল্পের পরিচালক ও সরকারের যুগ্মসচিব মো. হাবিবুল ইসলাম শনিবার (৮ মে) এ কথা জানান।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা অর্জনে বিভিন্ন সময়ের আন্দোলন ও ঘটনাসহ মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ও বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরার উদ্দেশে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতায় ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ইতোমধ্যে শিখা চিরন্তন, স্বাধীনতা স্তম্ভ ও ভূগর্ভস্থ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর নির্মাণ করা হয়েছে। এখানে মহান মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণ, আধুনিক নগর উপযোগী সবুজের আবহে আন্তর্জাতিক মানে গড়ে তোলা এবং দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করার লক্ষ্যে ‘ঢাকাস্থ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতা স্তম্ভ নির্মাণ’(তৃতীয় পর্যায়)’ শীর্ষক মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হচ্ছে।

মো. হাবিবুল ইসলাম বলেন, ‘বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘোরাঘুরির পরিবেশ নেই। উদ্যানের একদিক দিয়ে প্রবেশ করে অন্যদিক দিয়ে নিরাপদে বের হয়ে যাওয়ার পরিবেশও নেই। আমরা মাস্টারপ্ল্যানের মাধ্যমে পুরো উদ্যানটা একটা আন্তর্জাতিক মানের করে গড়ে তুলতে চাচ্ছি। যেখানে পাকিস্তানি শাসনবিরোধী ২৩ বছরের মুক্তিসংগ্রাম ও ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সম্বলিত ভাস্কর্য স্থাপন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের স্থানে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপন, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের স্থানে ভাস্কর্য স্থাপন, ইন্দিরা মঞ্চ নির্মাণ, ওয়াটার বডি ও ফাউন্টেন নির্মাণ, ভূগর্ভস্থ ৫০০ গাড়ির জন্য কার পার্কিং ও শিশুপার্ক নির্মাণসহ বিভিন্ন নির্মাণকাজ চলমান।’

তিনি বলেন, এই কর্মযজ্ঞ বাস্তবায়ন করতে গিয়ে উদ্যানের কিছু গাছ কাটা নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে এসব কার্যক্রমগুলোর বিষয়ে খণ্ডিত তথ্য প্রচারিত হওয়ায় অনেকের মাঝে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হচ্ছে। তাই সবার উদ্দেশে জানাতে চাই, আগামী বর্ষা মৌসুমে এখানে প্রায় এক হাজার গাছ লাগানো হবে। সারা বছর যাতে উদ্যানের কোনো না কোনো গাছে ফুল থাকে, তেমনি পরিকল্পিতভাবে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম বিন্যাস করা হয়েছে।

রেসকোর্স ময়দানে প্রথম গাছ লাগিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এটিকে উদ্যান হিসেবে সৃষ্টি করেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের স্থান ও পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সারেন্ডার করার স্মৃতি মুছে ফেলার উদ্দেশে জিয়াউর রহমান অবৈধভাবে রাষ্ট্রপতি হয়ে এই উদ্যানের ১৫ একর জায়গাজুড়ে ১৯৭৯ সালে শিশুপার্ক নির্মাণ করেন। পরিবেশবাদীরা তখন প্রশ্ন তোলেনি কেন? পুরো উদ্যানে সাতটি ‘ফুড কিওস্ক’তৈরি করা হবে। যেখানে পানি ও হালকা স্ন্যাকসের ব্যবস্থা থাকবে। এর পেছন দিকে নারী-পুরুষদের জন্য পৃথক টয়লেট ফ্যাসিলিটি থাকবে।

পি

RTV Drama
RTVPLUS