Mir cement
logo
  • ঢাকা মঙ্গলবার, ১৮ মে ২০২১, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮

মেলার প্রথম দিন দেখা যায়নি বইপ্রেমীদের উচ্ছ্বাস

বইমেলায় দর্শনার্থী

সব শঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে দেড় মাস পর বইমেলা শুরু হলেও প্রথম দিনে দেখা দেখা যায়নি বইমেলাকে ঘিরে বইপ্রেমীদের সেই চিরচেনা উচ্ছ্বাস। অনেকটা ঢিলেঢালাভাবেই শুরু হলো প্রথম দিনের মেলা।

বৃহস্পতিবার (১৮ মার্চ) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে বেলা সাড়ে ৩টায় ভার্চ্যুয়ালি মেলা উদ্বোধনের পরই সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।

প্রতিবছর ফেব্রুয়ারি মাসে বইমেলা শুরু হলেও মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে এ বছর বইমেলা দেড় মাস পর শুরু হলো।

অমর একুশে বইমেলা-২০২১ প্রথমে ভার্চ্যুয়ালি আয়োজনের জন্যও প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছিল। তবে প্রকাশকদের অসন্তোষের মুখে সে সিদ্ধান্ত থেকে ফিরে আসতে হয়। কিছুদিন আগে করোনা পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক থাকলেও বর্তমানে আবারও করোনার সংক্রমণ বাড়তে থাকায় অস্বস্তিতে আছেন প্রকাশক, লেখক ও দর্শনার্থীরা।

বিগত বছরগুলোতে মেলার প্রবেশদ্বার খোলার আগে থেকেই মেলায় প্রবেশের জন্য দর্শনার্থীদের বিশাল সারি দেখা গেলেও এ বছর তেমন চিত্র চোখে পড়েনি। তবে করোনা ভীতি এড়িয়ে যারা মেলায় এসেছেন তাদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা যায়।

রাজধানীর একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করেন তাসনিম আরা মীম। তিনি তার স্বামী ও বাচ্চাকে নিয়ে এসেছেন বইমেলায়। ঘুরেঘুরে দেখছেন বইমেলা। শঙ্কা কাটিয়ে বইমেলা শুরু হওয়ায় উচ্ছ্বাসের সাথে তিনি বলেন, অনেক দিন পর অফিস টু বাড়ি, বাড়ি টু অফিস এই রুটিন বাদ দিয়ে বইমেলায় আসার সুযোগ হলো। করোনার কারণে বাসায় অফিস করে আমরা ক্লান্ত। অবশেষে প্রাণের মেলায় আসার সুযোগ হলো।

তিনি বলেন, আজ কোনো বই কিনবো না। তবে এখন কিছু বই পছন্দ করে রেখে যাবো। সামনে আরও কিছু বই পছন্দ করে একসাথে কিনবো।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অনিক বলেন, বইমেলা হবে কি হবে না তা নিয়ে অনেক চিন্তায় ছিলাম। তবে অবশেষে বইমেলা হওয়ায় আমি খুব আনন্দিত। বছরে এই একটা সময় পছন্দের বইগুলো সব একসাথে পাওয়া যায়। পছন্দের লেখকদের সাথে সরাসরি কথা বলা ও তাদের স্বাক্ষর সহ বই কেনার সুযোগ সারা বছর থাকে না। তাই বইমেলা আমার কাছে এক অন্যরকম অনুভূতির নাম। যেখানে প্রাণ ভরে নতুন বইয়ের ঘ্রাণ নেওয়ার সুযোগ থাকে।

ইতি প্রকাশনের প্রকাশক মোহাম্মদ জহির দীপ্তি বলেন, আজকে মেলার প্রথম দিন তাই বই প্রেমীদের উপস্থিতি কিছুটা কম। তার উপর করোনার প্রভাবতো আছেই। তবে আগামীকাল যেহেতু শুক্রবার তাই আশা করছি কাল দর্শনার্থীদের বাড়বে। প্রতিবার শীতে বই মেলা হয়, কিন্তু এবার যেহেতু গরমে মেলা হচ্ছে তাই ক্রেতা কম হবে বলেই মনে হচ্ছে।

এ বছর কেমন বেঁচাকেনা আশা করছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বছর বইমেলা হবে কি হবে না তা নিয়ে অনেক বড় শঙ্কা ছিল। সব ছাপিয়ে বইমেলা হচ্ছে ঠিকই, তবে বেশি একটা বেঁচাকেনা হবে বলে মনে হচ্ছে না।

সমগ্র প্রকাশনের প্রকাশক শওকত আলী তারা বলেন, বইমেলার প্রাণ শিক্ষার্থীরা। করোনার কারণে দীর্ঘদিন ধরে স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রয়েছে। তাই বইমেলায় লোক সমাগম কম। সামনেও যে খুব বেশি একটা লোক সমাগম হবে আমরা সে আশাও করতে পারছি না। তবে শুক্রবার ও সরকারি ছুটির দিনে কিছুটা লোক সমাগম হতে আরে বলে আশা করছি।

তবে মেলার আয়তন বেশি ও ৪০টি খাবারের দোকানের অনুমতি দেওয়ায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, এটি মূলত বইমেলা। পৃথিবীর কোনো দেশে এমন নজির নেই যেখানে বইমেলায় এতোগুলো খাবারের দোকানের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এটা খুবই হতাশাজনক ব্যাপার। পাশাপাশি মেলার আয়তন বেশি হওয়ায় বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিরা মেলায় ঘুরে স্বাচ্ছন্দ বোধ করবেন না। তারা অল্প ঘুরাঘুরি করেই ক্লান্ত হয়ে যাবেন। যার প্রভাবও মেলার বেচাকেনার উপর পড়বে।

তাছাড়া মেলার প্রথম দিন হওয়ায় অনেক দোকান সাজানো-গোছানোর কাজ এখনো শেষ হয়নি। শ্রমিকদের দেখা গেছে তাড়াহুড়ো করে কাজ শেষ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।

আরএস/ এমকে

RTV Drama
RTVPLUS