logo
  • ঢাকা বুধবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২১, ১৩ মাঘ ১৪২৭

পিকে হালদারের মা লীলাবতিসহ ২৫ জনকে দেশ ত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

PK Haldar has been banned from leaving the country
পি কে হালদার এবং দুদকের লোগো।। ফাইল ছবি
আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেডের (আইএলএফএসএল) সিংহভাগ ঋণের সুবিধাভোগী প্রশান্ত কুমার (পি কে) হালদারের মা লীলাবতি হালদার ও তার সহযোগী অমিতাভ অধিকারীসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন হাইকোর্ট। 

আজ মঙ্গলবার (৫ জানুয়ারি) হাইকোর্টের বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল বেঞ্চ এ আদেশ দেন। 

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক, সঙ্গে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মেহেজাবীন রাব্বানি দিপা ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আন্না খানম কলি। দুদকের পক্ষে ছিলেন মো. খুরশীদ আলম খান ও মো. মোশাররফ হোসেন।

জানা গেছে, পি কে হালদার জালিয়াতির মাধ্যমে ইন্টারন্যাশনাল লিজিং থেকে নামে-বেনামে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা বের করে নেন। এ কারণে ইন্টারন্যাশনাল লিজিং গ্রাহকের আমানতের টাকাও ফেরত দিতে পারছিল না। এ নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে শোরগোল শুরু হলে গোপনে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান পি কে হালদার। পি কে হালদারের কারণে ইন্টারন্যাশনাল লিজিংসহ আরও কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিপদে পড়ে যায়। প্রতিষ্ঠানগুলো একপ্রকার দেউলিয়া হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় টাকা ফেরত পেতে ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের একাধিক গ্রাহক আদালতের শরণাপন্ন হন। পরে হাইকোর্ট প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান হিসেবে সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদকে নিয়োগ দেন।

আদালতের আদেশে চেয়ারম্যান হিসেবে ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের দায়িত্ব নিয়ে খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ দেখেন পি কে হালদার লুটপাট করে প্রতিষ্ঠানটিকে এতটাই খারাপ অবস্থায় নিয়ে গেছেন, যেটিকে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় টেনে তোলা সম্ভব নয়। পরে দায়িত্ব থেকে ইস্তফা দেন তিনি। এরপর হাইকোর্ট গত মার্চে ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের চেয়ারম্যান হিসেবে সাবেক সচিব নজরুল ইসলাম খানকে নিয়োগ দেন। এরপর পি কে হালদারের সঙ্গে ইন্টারন্যাশনাল লিজিং যোগাযোগ স্থাপন করে। একপর্যায়ে পি কে হালদার দেশের বাইরে থেকে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক কেলেঙ্কারির দায় স্বীকার করে দেশে ফিরে এসে অর্থ ফেরত দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। এ জন্য আবেদনও করেন। ওই আগ্রহের পরিপ্রেক্ষিতে গত রোববার ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের পক্ষে আদালতের জিম্মায় পি কে হালদারকে দেশে ফেরত আসার সুযোগ দেওয়ার আবেদন করা হয়।

পি কে হালদার ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের নিয়ন্ত্রণ নেন মূলত হাল ইন্টারন্যাশনাল, বিআর ইন্টারন্যাশনাল, নেচার এন্টারপ্রাইজ, নিউ টেক এন্টারপ্রাইজের নামে। আর টাকা বের করেন প্রায় অর্ধশতাধিক প্রতিষ্ঠানের নামে। একইভাবে পিপলস লিজিং, এফএএস ফাইন্যান্স ও বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানিকেও (বিআইএফসি) ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়েছেন পি কে হালদার। পিপলস লিজিং অবসায়ন হচ্ছে, অন্যগুলো গ্রাহকদের টাকা ফেরত দিতে পারছে না। এসব অপকর্মের সময় তিনি রিলায়েন্স ফাইন্যান্স ও এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন।

কেএফ

RTV Drama
RTVPLUS