• ঢাকা শনিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮, ১ পৌষ ১৪২৬

স্বাধীনতার সাক্ষী কল-রেডী

আতিকা রহমান
|  ২৪ মার্চ ২০১৭, ১২:২১ | আপডেট : ২৪ মার্চ ২০১৭, ২১:৫৩
কল-রেডী। কেবল একটি মাইক সার্ভিস নয়, বাংলাদেশের স্বাধীনতার সাক্ষীও। কল-রেডীর মাইক্রোফোনেই বঙ্গবন্ধু ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ দিয়েছিলেন। ৪৭ সালে জন্ম নেয়া প্রতিষ্ঠানটি ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সঙ্গে ওতপ্রতোভাবে জড়িত। তবে উদ্যোগ না থাকায় স্বাধীনতার ৪৬ বছরেও রাষ্ট্রীয়ভাবে কোথাও স্থান হয়নি কল-রেডীর। ৭ মার্চের ভাষণে ব্যবহৃত মাইক্রোফোনটি জাদুঘরে সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছেন কল-রেডীর প্রতিষ্ঠাতাদের পরিবারের সদস্যরা।

৭ মার্চ কল-রেডীর সামনে দাঁড়িয়ে বঙ্গবন্ধু অমোঘ কন্ঠে ঘোষণা দিয়েছিলেন, এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম, স্বাধীনতার সংগ্রাম।  ঐতিহাসিক ঘোষণাকে লাখো মানুষের কানে পৌঁছে দিয়েছিলো যে কল-রেডী, তার যাত্রা শুরু পুরান ঢাকার লক্ষীবাজারে ১৯৪৭ সালে।  তিন ভাই হরিপদ, দয়াল ও কানাই ঘোষের হাত ধরে।

western ভাষা আন্দোলন, ছয় দফা, ৬৯র গণঅভ্যূত্থান পেরিয়ে ৭১-এর মার্চের উত্তাল সময়ে ইয়াহিয়া সরকারের রক্তচোখ এড়িয়ে রেসকোর্স মাঠের মঞ্চে কল-রেডীর ১৮টি মাইক্রোফোন বসানো হয়েছিলো। মাঠ ও আশপাশে লেগেছিলো দু’শর মতো মাইক। সারাদেশে ভাষণ ছড়িয়ে দিতে ছিলো একটি রেকর্ডার।

৭ মার্চ রাতে পাকিস্তান সরকারের পান্ডারা কল-রেডীর অফিস জ্বালিয়ে দেয়। স্বাধীনতার পর ১০ জানুয়ারি দেশে ফিরেও, এই মাইক্রেফোনে ভাষণ দেন বঙ্গবন্ধু। ইতিহাসের সাক্ষী এসব মাইক্রোফোন, স্ট্যান্ড ও মাইকগুলো, ঘোষ ভাইয়েরা যক্ষের ধনের মতো আগলে রাখেন। যেগুলো আজও সযত্নে আগলে আছেন তাদের উত্তরসূরিরা।

বায়ান্ন থেকে ৭১ পরবর্তী বাংলাদেশের সব আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় সাহসী ভূমিকা ছিলো কল-রেডীর। যার ধারাবাহিকতা আছে আজও। অথচ এর নেপথ্যের মানুষগুলো কোনদিন মূল্যায়ন পাননি। 

কেবল বঙ্গবন্ধু নন, কল-রেডীর মাইকে বক্তব্য দিয়েছেন প্রয়াত ইন্দিরা গান্ধী, নেলসন ম্যান্ডেলা, বিল ক্লিনটনের মতো বিশ্বনেতারা।

লক্ষীবাজারের ৩৬ ঋষিকেশ দাস লেনে, আজও ইতিহাসকে ধারণ করে দাঁড়িয়ে আছে দেশের স্বাধীনতার অন্যতম সাক্ষী কল-রেডী।

এমসি/ এমকে

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়