রোহিঙ্গা স্থানান্তরকে ‘ভুলভাবে ব্যাখ্যা’ না করতে ঢাকার আহ্বান

প্রকাশ | ০৫ ডিসেম্বর ২০২০, ০৯:২৩

আরটিভি নিউজ
ফাইল ছবি

রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টাকে ‘ছোট করা’ বা ‘ভুল ব্যাখ্যা’ না দিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সর্বোচ্চ সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

শুক্রবার (৪ ডিসেম্বর) রোহিঙ্গাদের স্থানান্তর এবং জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর প্রতিক্রিয়ার প্রেক্ষাপটে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে দিয়েছে।

বিবৃতিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের নাগরিক এবং তাদের অবশ্যই মিয়ানমারে ফিরে যেতে হবে। অস্থায়ীভাবে আশ্রয় পাওয়া এসব নাগরিকের সুরক্ষা ও নিরাপত্তার জন্য বাংলাদেশ সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। এই পর্যায়ে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত প্রত্যাবাসন শুরু করতে মিয়ানমারের উপর চাপ দেয়া, কারণ এটাই এই সঙ্কটের একমাত্র টেকসই সমাধান। একই সঙ্গে সবাইকে বাংলাদেশ সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টাকে ছোট বা ভুল ব্যাখ্যা না করার জন্য সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করার আহ্বান জানাই।

ভাসানচরে রোহিঙ্গারা স্বেচ্ছায় গিয়েছেন জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ভূমিধ্বস ও অন্যান্য ঝুঁকি থেকে উত্তরণে কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরের চাপ কমাতে বাংলাদেশ সরকার এক লাখ রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে প্রথম ধাপে কক্সবাজারের উখিয়ার শরণার্থী শিবির থেকে এক হাজার ৬০০ জন রোহিঙ্গা ভাসানচরে পৌঁছেছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ১০ লাখ রোহিঙ্গার অস্থায়ী আবাসন কক্সবাজারের জনাকীর্ণ ক্যাম্পগুলোতে প্রতি বছর হাজার হাজার শিশু জন্ম নিচ্ছে। এখান থেকে তাদের সরানো অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। হতাশায় নিমজ্জিত এই জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা খারাপ হতে থাকায় নিজস্ব পরিকল্পনা এবং নিজস্ব অর্থায়নে ভাসানচরকে তৈরি করতে বাধ্য হয়েছে বাংলাদেশ সরকার। সে কারণে সরকার সেখানে ৩৫ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয় করেছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ১৩ হাজার একর ভাসানচর দ্বীপে বছরব্যাপী মিঠা পানি, চমৎকার হ্রদ ও যথাযথ অবকাঠামো ও আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। এর মধ্যে বিদ্যুৎ ও পানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ, কৃষি জমি, ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র, দুটি হাসপাতাল, চারটি কমিউনিটি ক্লিনিক, মসজিদ, গুদাম, টেলিযোগাযোগ পরিষেবা, থানা, বিনোদন ও শিক্ষা কেন্দ্র, খেলার মাঠ ইত্যাদি রয়েছে।

এটি কক্সবাজারের ক্যাম্পগুলোর অস্থায়ী কাঠামোগুলোর মতো নয়, ভাসানচরের আবাসনটি কংক্রিট দিয়ে নির্মাণ করা যা ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয়েও অক্ষত থাকবে।

এতে বলা হয়, সুপার ঘূর্ণিঝড় আম্পানেও ভাসানচরে দ্বীপটি সুরক্ষিত ছিল। দ্বীপ সম্পর্কে কিছু মহলের আশঙ্কার বিপরীতে ভাসানচর বিশাল ঝড়ের মধ্যেও সুরক্ষিত ছিল বলে সরকার জানায়।

বিবৃতিতে বলা হয়, জলোচ্ছ্বাসের তীব্রতা সত্ত্বেও দ্বীপের এক হাজার ৪৪০টি ঘর এবং ১২০টি আশ্রয় কেন্দ্রের কোনও ক্ষতি হয়নি। দ্বীপটি নৌপথ দিয়ে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে সংযুক্ত।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বাংলাদেশ সরকার ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের জন্য উপযুক্ত স্যানিটেশন এবং চিকিৎসা সুবিধার পাশাপাশি পর্যাপ্ত খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করেছে। এতে উপযুক্ত হাসপাতাল, পর্যাপ্ত কোভিড টেস্টিং এবং চিকিৎসার সুবিধা রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

মহিলা পুলিশসহ পুলিশ সদস্য মোতায়েন করে দ্বীপে পর্যাপ্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে। অঞ্চলটি পুরোপুরি সিসিটিভি ক্যামেরায় আচ্ছাদিত বলে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।

মিয়ানমারে নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের সাময়িকভাবে একটি আধুনিক দ্বীপে নিয়ে যাওয়াকে বিশ্বে ‘মানবতার অনন্য’ উদাহরণ হিসেবে দেখছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

এসএস