logo
  • ঢাকা শনিবার, ২৩ জানুয়ারি ২০২১, ৯ মাঘ ১৪২৭

দেশে এখন বিশ্বের সবচেয়ে দামি মুরগির চাষ হচ্ছে

Black chicken black eggs
কালো মুরগি ও কালো ডিম
দেশে বিভিন্ন প্রজাতির মুরগি পাওয়া খেলেও হাঁটে বাজারে হাতের নাগালে কয়েক প্রজাতির মুরগির দেখা মেলে। নিত্য দিনের মাংসের চাহিদা পূরণ করতে পাকিস্তানি কক কিংবা পোল্ট্রি মুরগি বেশি ব্যবহার করা হয়। তবে এসবের বাইরেও যে অনেক মুরগি আছে তা হয়তো দেখা মেলে না। এমনই একটি প্রজাতির নাম কালো মুরগি। 

দেশের অনেক মানুষের কাছে কালো মুরগি পরিচিত নয়। কালো মুরগিকে বলা হয় বিশ্বের সবচেয়ে দামি মুরগি। দেশে এই মুরগি এখন বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে। 

কালো মুরগির বৈশিষ্ট্য হলো- মাথার ঝুঁটি থেকে পা পর্যন্ত সব অঙ্গের রং কালো। এমনকি পালক, চামড়া, ঠোঁট, নখ, ঝুঁটি, জিভ, মাংস, হাড়ও কালো। 

এই মুরগির আসল নাম আয়্যাম কেমানি, ইন্দোনেশীয় ভাষায় আয়্যাম মানে মুরগি এবং কেমানি অর্থ পুরোপুরি কালো। ভারতের মধ্য প্রদেশ, উত্তর প্রদেশ এই মুরগির নাম কাদাকনাথ বা কালোমাসি। ভারতের মধ্য প্রদেশ থেকে বাংলাদেশে আনা হয়েছে কালো মুরগি।

কালো মুরগি বিষয়ে শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মাকসুদা বেগম বলেন, বাংলাদেশের কৃষিবিজ্ঞানীরা কালো মুরগিকে কেদারনাথ ব্রিড বা কালোমাসি নামে চেনেন। এটি প্রথম দেশে আসে ২০১৬ সালে। 

বাংলাদেশে নরসিংদী জেলার কামরুল ইসলাম মাসুদ এটির উৎপাদন শুরু করেন। কাজের সূত্রে ভারতে গিয়ে কালো মুরগি খেয়ে তিনি অবাক হন। এরপর তিনি দেশে নিয়ে এসে উৎপাদন শুরু করেন।

তিনি বলেন, এর গুনাগুণ সম্পর্কে জানতে পেরে উৎপাদনের কথা ভাবি। শুরুতে ৩০০ মোরগ ও মুরগি নিয়ে আসি। এখন  খামারে মাসে দুই থেকে আড়াই হাজার কালো মুরগির বাচ্চা ফোটে। এই মুরগি বা মোরগের ওজন দুই থেকে আড়াই কেজি পর্যন্ত হতে পারে। একটি মুরগি ডিম পাড়ার উপযোগী হতে ছয় মাসের মত সময় লাগে। 

একজোড়া কালো মুরগি ও মোরগের দাম চার হাজার টাকা। ২০১৬ সালে একজোড়া মুরগি ও মোরগের দাম ছিল দশ হাজার টাকা।

কালো মুরগির পুষ্টিগুণ

অনেকে মনে করেন কালো মুরগি নানা ধরণের রোগ সারায়। ঔষধি গুনাগুণের জন্য দেশে এই মুরগির অনেক কদর।

অধ্যাপক মাকসুদা বেগম বলেন, দেশি মুরগির চেয়ে এই মুরগির মাংসের স্বাদ বেশি। খাদ্যগুণের বিচারে কালো মুরগির মাংসে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং আয়রন রয়েছে। সাধারণ মুরগির তুলনায় এই মুরগির মাংসে কোলেস্টরেলের মাত্রাও অনেক কম থাকে। এই মুরগি রক্তচাপ এবং রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। এই মুরগির মাংসে ফ্যাটি অ্যাসিড উপাদান অনেক বেশি থাকে। কিন্তু প্রোটিনের মাত্রা অন্য সব মুরগির মাংস থেকে কয়েক গুণ বেশি।

সূত্র- বিবিসি বাংলা

জিএ/ এমকে

RTV Drama
RTVPLUS