logo
  • ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২০, ১১ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

এএসপি হত্যা মামলায় চিকিৎসক গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে কর্মবিরতি, রোগীদের ভোগান্তি

Strike in protest of doctor's arrest in ASP murder case, suffering of patients
জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউট ও হাসপাতাল
পুলিশ কর্মকর্তা এএসপি আনিসুল করিম শিপন হত্যা মামলায় জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালের রেজিস্ট্রার আব্দুল্লাহ আল মামুনকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে কর্মবিরতি পালন করছে এই হাসপাতালের ডাক্তার, নার্স ও কর্মচারীরা। আজ বুধবার (১৮ নভেম্বর) সকাল থেকে তারা এই কর্মবিরতি পালন শুরু করে। পরিস্থিতিতে ওই হাসপাতালে রোগীদের চিকিৎসা সেবা বন্ধ রয়েছে। ফলে চরম ভোগান্তীতে রয়েছেন সেবা প্রত্যাশী রোগীরা।

বিক্ষোভকারীরা জানতে চান, হাসপাতালের অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া কীভাবে পুলিশ একজন কর্তব্যরত চিকিৎসককে গ্রেপ্তার করে? এ বিষয়ে হাসপাতালটির অভিভাবকের ভূমিকা কী? এসব বিষয় জানতেই তারা পরিচালকের কক্ষের সামনে অবস্থান করছেন বলে জানান।

ইনস্টিটিউটের চিকিৎসক গোলাম মোস্তফা মিলন বলেন, একজন চিকিৎসককে অন্য আসামির রিমান্ডের কথার ওপর ভিত্তি করে এভাবে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এতে আমাদের আপত্তি আছে। আমরা একটি ভীতিকর পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি। গ্রেপ্তারের ভয় আর চিকিৎসা একসঙ্গে চলতে পারে না।

চিকিৎসকরা ৩ টি দাবি নিয়ে পরিচালকের কক্ষের সামনের অবস্থান করেছেন, প্রথমত কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া বেআইনিভাবে সরকারি কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তারের যথাযথ ব্যাখ্যা এবং তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও সসম্মানে চাকরিতে পুনর্বহাল। দ্বিতীয়ত, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিত হয়ে কর্ম পরিবেশ ফিরিয়ে আনার আশ্বাস। তৃতীয়ত, বিএপি এবং বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দের উপস্থিত হয়ে কর্মপরিবেশ ফিরিয়ে দেওয়া।

এ বিষয়ে ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার  বলেন, হাসপাতালের জুনিয়র ও সব কর্মকর্তা-কর্মচারী ডা. মামুনের মুক্তির বিষয়ে কী কী পদেক্ষেপ নেওয়া হয়েছে জানতে আমাদের অবরুদ্ধ করে রেখেছে। আমরা এখনও সেই অবস্থায়। কিন্তু আগেই তাদের বলেছি, গণমাধ্যমকেও বলেছি, বিষয়টি এখন আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে। আমরা আইনগতভাবেই এটি মোকাবিলা করবো।

তিনি আরও বলেন, নিয়ম অনুযায়ী হাসপাতালে গ্রেপ্তার করতে হলে পরিচালককে জানাতে হবে। কিন্তু আমাকে এ বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি। রেজিস্ট্রার হাসপাতালের ডর্মিটরিতে থাকতেন। তাকে সকালে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে জানিয়েছি। তিনি এ বিষয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পরামর্শ দিলে আমরা তা করেছি।

অবরুদ্ধ থাকা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক হেলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, আমরা সকাল থেকেই অবরুদ্ধ অবস্থায় আছি। বিক্ষুব্ধরা সকাল থেকেই  মামুনের মুক্তিরর দাবিতে স্লোগান দিচ্ছেন। তবে ইতোমধ্যে বিষয়টি সমাধানের জন্য বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. আবু রায়হান এসেছেন। তিনি বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলছেন। দেখা যাক কী হয়। তিনিও বিষয়টি আইনিভাবে সমাধানের কথা বলেছেন। এদিকে এ ঘটনায় ভোগান্তিতে পড়েছেন ওই হাসপাতালের রোগীরা।

প্রসঙ্গত, গত ৯ নভেম্বর বেলা ১১টায় আদাবরের মাইন্ড এইড হাসপাতালে চিকিৎসা করতে গিয়ে হাসপাতালটির কর্মচারীদের মারধরের পর আনিসুল করিম শিপন নিহত হন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। তিনি ৩১তম বিসিএস পুলিশে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছিলেন। এই ঘটনায় নিহতের বাবা ফয়েজ উদ্দিন বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় মঙ্গলবার সকালে শেরেবাংলা নগর সরকারি স্টাফ কোয়ার্টারের বাসা থেকে মামুনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আনিসুলের ঘটনায় করা মামলায় আদালতে যারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মামুনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ।

কেএফ/পি

RTVPLUS