বাংলাদেশে জাপানের রাষ্ট্রদূতের এক বছর পূর্তিতে দূতাবাসের ফেসবুক স্টেটাস

প্রকাশ | ১১ অক্টোবর ২০২০, ১৫:৪২ | আপডেট: ১৩ অক্টোবর ২০২০, ১৫:৫০

আরটিভি নিউজ
ঢাকায় নিযুক্ত জাপানি রাষ্ট্রদূত

আমি জাপানের রাষ্ট্রদূত হিসেবে গত অক্টোবরে বাংলাদেশে আসার পর ইতিমধ্যেই এক বছর হয়ে গেছে।

গত বছরে দ্বিপাক্ষীক উন্নয়নের দিকে ফিরে তাকালে দেখা যায় বিভিন্ন উচ্চ পর্যায়ের মতবিনিময় এবং আলোচনাগুলোতে অনেক অগ্রগতি দেখা গিয়েছে।

২০১৯ সালের অক্টোবরে মহামান্য রাষ্ট্রপতি জনাব মোঃ আবদুল হামিদ এবং মিসেস হামিদ জাপানের নতুন সম্রাট নারুহিতোর পদ গ্রহণের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী জনাব ইমরান একই মাসে জাপান সফর করেছেন।

২০১৯ সালের রাগবি বিশ্বকাপ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে মাননীয় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জনাব মোঃ জাহিদ আহসান রাসেলও জাপান সফর করেছিলেন এবং ২০২০ সালের আগস্টে জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মধ্যে একটি টেলিফোন সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

এই বছরের মার্চ থেকে নতুন করোনাভাইরাসের মহামারিটি অর্থনৈতিক কার্যক্রম এবং সাংস্কৃতিক আদান প্রদানের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রগুলোতে আমাদের যৌথ কার্যক্রমে প্রভাব ফেলেছে। কিন্তু এই মহাদুর্যোগের সময়েও মহামারির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জাপান বাংলাদেশকে সমর্থন অব্যাহত রেখেছে।

আগস্টে জাপানি সরকার বাংলাদেশ সরকারকে কোভিড-১৯ সংকট প্রতিক্রিয়া জরুরি বাজেট সহায়তা ঋণ ৩৫ বিলিয়ন ইয়েন (প্রায় ৩৩ কোটি মার্কিন ডলার) দেওয়ার জন্য চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এছাড়াও, জাপান স্বাস্থ্যসেবা খাতে চিকিৎসা সরঞ্জাম অবদান রেখেছিল এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মাধ্যমে জরুরি সহায়তা প্রদান করেছে।

কোভিড-১৯ মোকাবেলায় অবদান ছাড়া, ২০২০ সাল লক্ষণীয় ছিল বাংলাদেশের জন্য জাপানের অফিসিয়াল উন্নয়ন সহায়তা (ওডিএ) এর ক্ষেত্রে কারণ আগস্টে সর্ববৃহৎ বার্ষিক ওডিএ ঋণ প্যাকেজ ৩৩৮ বিলিয়ন ইয়েন (প্রায় ৩.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এই বছরের ঋণের প্যাকেজটিতে ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি), হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বর্ধিতকরণ, যমুনা রেলওয়ে সেতু নির্মাণ, এবং চট্টগ্রাম-কক্সবাজার হাইওয়ে উন্নয়নসহ সহায়তাগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়। মাতারবাড়ীতে চলমান গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণের পাশাপাশি এই বৃহৎ আকারের অবকাঠামো প্রকল্পগুলো বাংলাদেশি শিল্পের বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় এবং এগুলো সম্পন্ন হয়ে গেলে বাংলাদেশের ভবিষ্যতের প্রতীক হবে। জাপান বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্য সমর্থন অব্যাহত রাখবে কারণ এটি বঙ্গোপসাগর এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের সামগ্রিক স্থিতিশীলতার জন্য সরাসরিভাবে সহায়ক।

ব্যবসায়িক সম্পর্কের ক্ষেত্রে, আমি উল্লেখ করে আনন্দিত যে বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ৩০০টিরও বেশি জাপানি সংস্থা কাজ করছে এবং গত ১০ বছরে এই সংখ্যাটি তিনগুণ বেড়েছে। জাপানের সরাসরি বিনিয়োগও গত ৮ বছরে দ্বিগুণ হয়েছে। আমি জাপান এবং বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ আরও জোরদার করে ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নতির জন্য আরও কাজ করতে উৎসুক।

এই বছর ২০২০ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী পালন করা হচ্ছে এবং ২০২১ সাল হচ্ছে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০তম বার্ষিকী। আরও এগিয়ে, ২০২২ সালে জাপান ও বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের ৫০তম বার্ষিকী পালন করা হবে। এই মাইলফলকগুলো সুযোগ হিসাবে গ্রহণ করে, আমি জাপান এবং বাংলাদেশের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং বিনিময় আরও গভীর করার জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবো।

আমরা বাংলাদেশে ভ্রমণ/ বসবাসকারী জাপানি নাগরিকদের নিরাপত্তা এবং সুরক্ষা নিশ্চিত করা অব্যাহত রাখছি। আমরা জাপান এবং বাংলাদেশের মধ্যে আরও শক্তিশালী সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য আপনাদের মতামত এবং সহযোগিতা কামনা করছি।

এমকে