অসুস্থ স্বামীর রক্ত জোগাড়ে গিয়ে ধর্ষিত: সজীব-শিল্পী রিমান্ডে

প্রকাশ | ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৭:২০ | আপডেট: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২২:১৫

আরটিভি নিউজ
সজীব-শিল্পী

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গুরুতর অসুস্থ স্বামীর জন্য রক্ত জোগাড়ে গিয়ে ধর্ষিত হওয়ার ঘটনায় দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ। র‍্যাব-২ এর হাতে গ্রেপ্তার ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি মনোয়ার হোসেন ওরফে সজীব (৪৩) এবং একাজে সহায়তাকারী মাশনু আরা বেগম ওরফে শিল্পীর (৪০) দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। আজ রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) তাদের ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে মিরপুর মডেল থানা পুলিশ।

মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তাদের ৭ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন মিরপুর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) তপন কুমার বিশ্বাস। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম দেবদাস চন্দ্র অধিকারী ২দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে রাজধানীর মিরপুরে মনিপুরীপাড়ায় শিফা ভিলার একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে র‍্যাব-২ তাদের গ্রেপ্তার করে।

র‍্যাব-২ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এএসপি মো. আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, গত ১৫ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) বিকেল ৪টার দিকে ভুক্তভোগী নারী অসুস্থ স্বামীকে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে মেডিসিন বিভাগে ভর্তি করান। দায়িত্বরত চিকিৎসক জানান, তার স্বামীর জন্য ‘ও পজেটিভ’ রক্ত প্রয়োজন এবং জরুরিভাবে রক্তের ব্যবস্থা করতে হবে।

ভুক্তভোগী নারী হাসপাতালের দ্বিতীয় তলার ব্লাড ব্যাংকের সামনে গিয়ে তিন-চারজন পুরুষকে বসা দেখতে পেয়ে রক্তের বিষয়ে জানতে চাইলে মনোয়ার হোসেন ওরফে সজীব রক্তের ব্যবস্থা করে দেবেন বলে জানান। পরের দিন ১৬ সেপ্টেম্বর (বুধবার) দুপুর দেড়টার দিকে কৌশলে রক্তের ব্যবস্থা করে দেয়ার নাম করে মিরপুরে মাশনু আরা বেগম ওরফে শিল্পীর বাসায় নিয়ে যান। ওই বাসায় নিয়ে শিল্পীর সহযোগিতায় তাকে ধর্ষণ করেন মনোয়ার।

এএসপি মো. আবদুল্লাহ আল মামুন আরও জানান, ভুক্তভোগী নারী লোকলজ্জার ভয়ে ও স্বামীর অসুস্থতার কারণে ধর্ষণের বিষয়টি গোপন রাখেন। পরে গত ২৪ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সজীব ওই নারীর স্বামীর মোবাইলে কল করে বলে, রক্তের ব্যবস্থা হয়েছে। আপনার স্ত্রীকে হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় পাঠিয়ে দেন। তখন ওই নারী পুনরায় ধর্ষিত হওয়ার ভয়ে তার স্বামীকে বিষয়টি খুলে বলেন।

এরপর তারা দুজন র‍্যাব-২ এর অধিনায়ক (সিও) লে. কর্নেল ইমরান উল্লাহ সরকার বরাবর অভিযোগ করলে ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়। এ প্রেক্ষিতে র‍্যাব-২ এর একটি দল মনোয়ার হোসেন ও তার সহযোগী শিল্পীকে গ্রেপ্তার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মনোয়ার শিল্পীর সহযোগিতায় ভিক্টিমকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করে। শিল্পীর সঙ্গে তার অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে বলে জানান মনোয়ার।

কেএফ/এম