নব্য জেএমবির একটি দল হামলার পরিকল্পনা করেছিল

প্রকাশ | ১১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৬:৫৮ | আপডেট: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৭:৫৭

আরটিভি নিউজ
আসামি গ্রেপ্তার (প্রতীকী ছবি)

রাজধানীর উত্তরার আজমপুর এলাকা থেকে নব্য জেএমবির ৪ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি)। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। 

গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- মামুন আল মোজাহিদ ওরফে সুমন (২৪), আল আমীন ওরফে আবু জিয়াদ (২৬), মোজাহিদুল ইসলাম ওরফে রোকন ওরফে আবু তারিক (২৪) ও সারোয়ার হোসেন রাহাত (২৩)। তারা সবাই নব্য জেএমবির একটি স্লিপার সেলের সদস্য।

সিটিটিসি জানায়, গ্রেপ্তারকৃত নব্য জেএমবির এই সেলটি সিঙ্গেল অ্যাটাকের পরিকল্পনা করছিল। সেই পরিকল্পনা মাফিক তারা চলতি বছরের ২৪ জুলাই রাতে পল্টনে পুলিশ চেকপোস্টের পাশে হঠাৎ করেই বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটায়। যদিও এর আগে এই একই সেলের সদস্যরা সিলেটের হজরত শাহজালালের মাজারেও বোমা নিক্ষেপ করেছিল। কিন্তু ওই বোমাটি বিস্ফোরিত হয়নি।

সিটিটিসি’র সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার অহিদুজ্জামান নূর জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন জানিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। 

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃতরা চলতি বছরের ২৪ জুলাই রাত ১০টার দিকে পল্টনে পুলিশ চেকপোস্টের পাশে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনার সাথে জড়িত। ওই বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। বিস্ফোরণস্থল থেকে ২০০ গজ দূরে পল্টন থানা পুলিশের একটি চেকপোস্ট ছিল। ওই ঘটনায় পল্টন থানায় বিস্ফোরক আইনে একটি মামলা হয়। এই ঘটনায় গত ১২ আগস্ট সিলেট থেকে শেখ সুলতান মোহাম্মদ নাইমুজ্জামান (২৬), সানাউল ইসলাম সাদি (২৮), রুবেল আহমেদ (২৮), আব্দুর রহিম জুয়েল (৩০) ও সায়েম মির্জা (২৪) নামে ৫ জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করে সিটিটিসি ইউনিট।

সিটিসির কর্মকর্তারা জানান, নাইমুজ্জামানের নেতৃত্বে নব্য জেএমবির একটি সেল সিঙ্গেল অ্যাটাকের পরিকল্পনা করেছিল। এজন্য নাইমুজ্জামান অনলাইনের মাধ্যমে সামরিক শাখার সদস্যদের বোমা তৈরির প্রশিক্ষণ ও হামলার জন্য উদ্বুদ্ধ করতো। এরই ধারাবাহিকতায় তারা ঢাকার পল্টনে ও নওগাঁয় একটি মন্দিরে বোমা বিস্ফোরণ ঘটায়।

সিটিটিসির একজন কর্মকর্তা জানান, গ্রেপ্তারকৃত ৪ জঙ্গির বাড়ি গাজীপুরের শ্রীপুর থানাধীন বড়মি এলাকায়। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে সুমন ইংরেজি সাহিত্যে গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করেছে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগে একাধিক মামলাও রয়েছে। জঙ্গিদের এই গ্রুপটি গাজীপুরে এক ব্যক্তিকে জবাই করে হত্যা করেছে বলে স্বীকার করেছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। গ্রেপ্তারকৃতদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে অনেক তথ্য পাওয়া যাবে।

কেএফ/জিএ