ঢাকা বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩

ফের ২৫ পয়সা কলরেটে ফিরছে সিটিসেল

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর ২০২৪, ০৮:৩৩ পিএম
আপডেট : ০৮ নভেম্বর ২০২৪, ০৯:০৭ পিএম
ফাইল ছবি

চড়াই-উতরাই পেরিয়ে আবারও সাশ্রয়ী মূল্যে কথা বলার সুযোগ দিতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি নিয়ে ফিরছে বাংলাদেশের প্রথম সিডিএমএ প্রযুক্তির মোবাইল ফোন অপারেটর সিটিসেল।

সম্প্রতি রাজধানীর মহাখালীতে অবস্থিত সিটিসেলের হেড অফিস থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, ১৯৮৯ সালে বিটিআরসি থেকে মোবাইল ফোন প্রবর্তনের জন্য বাংলাদেশ টেলিকম লিমিটেড (বিটিসিএল) তরঙ্গ দৈর্ঘ্য বরাদ্দ লাভ করে। লাইসেন্স নেওয়ার পরের বছর হংকং হাচিসন টেলিকমিউনিকেশন লিমিটেড ওই কোম্পানিতে বিনিয়োগ করলে এর নাম বদলে হয় হাচসন বাংলাদেশ টেলিকম লিমিটেড। ১৯৯৩ সালে এটির মালিকানায় আবার পরিবর্তন আসে। বিএনপির সাবেক সিনিয়র নেতা ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোরশেদ খানের মালিকানাধীন প্যাসিফিক মটরস ও ফারইস্ট টেলিকম মিলে এইচবিটিএল-এর শেয়ার কিনে নেয়। কোম্পানির নাম বদলে হয় প্যাসিফিক বাংলাদেশ টেলিকম লিমিটেড ও সিটিসেল নামে ব্র্যান্ডিং শুরু হয়। ২০০৪ সালে এ কোম্পানিতে বিনিয়োগ করে সিঙ্গাপুরের সিংটেল। ২০০৭ সালের শেষের দিকে সিটিসেল নতুন লোগো উন্মোচন করে। গ্রাহক সংখ্যার দিক থেকে এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম মোবাইল অপারেটর কোম্পানি ছিল। কিন্তু ২০১৬ সালে তৎকালীন আওয়ামী সরকারের রোষানলে সিটিসেলের লাইসেন্স বাতিল করা হয়। ওই বছরের ২০ অক্টোবর বিটিআরসি কোম্পানিটির কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়। এ সময় এর গ্রাহক সংখ্যা ছিল ৬ লাখের কিছু বেশি। ৩ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সিটিসেলের তরঙ্গ আবার খুলে দেওয়া হয়। যা ৬ নভেম্বর আবার বন্ধ করা হয়। ২০২৩ সালে সিটিসেলের লাইসেন্স চূড়ান্তভাবে বাতিল করা হয়।

সিটিসেল বন্ধের সময় বিটিআরসির এক বিজ্ঞপ্তিতে দেখা যায়, সিটিসেলের কাছে সরকারের পাওনা ছিল ৪৭৭ কোটি টাকা। পরে ২৪৪ কোটি টাকা পরিশোধ করে সিটিসেল। সে হিসাবে সিটিসেলের বকেয়া ২৩৩ কোটি টাকা। কিন্তু কোর্টের গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্টে দেখা যায়, সিটিসেলকে ১০ মেগা হার্জ তরঙ্গ বরাদ্দ দেওয়ার কথা থাকলেও দেওয়া হয়েছে ৮ দশমিক ৮২ মেগা হার্জ। সে হিসাবে সিটিসেলের কাছে সরকারের সবশেষ মোট বকেয়ার পরিমাণ ১২৮ কোটি টাকা।

গত ১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনে (বিটিআরসি) চিঠি পাঠিয়ে অপারেটিং ও রেডিও ইকুইপমেন্ট লাইসেন্স দুটি ফেরত চেয়েছে। চিঠিতে কোম্পানিটি দাবি করেছে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে প্রথমে তাদের তরঙ্গ স্থগিত করা হয়। এ জন্য সাবেক টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিমকে দায়ী করেছেন তারা।

বিটিআরসিকে পাঠানো চিঠিতে প্যাসিফিক টেলিকম জানায়, তরঙ্গ বন্ধ করায় গত ৮ বছরে ব্যাংক ঋণ, কর্মচারীদের বকেয়া, অবকাঠামোর ক্ষতি–সবমিলিয়ে তাদের প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। ৮ বছর কার্যক্রম বন্ধ থাকায় প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আয় সম্ভব হয়নি। এতে সরকার প্রায় ৪৩০ কোটি টাকা কর ও ফি থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তারা এখন লাইসেন্স বাতিলের জন্য জারি করা পত্রের প্রত্যাহার চায়। পাশাপাশি প্রযুক্তি নিরপেক্ষ লাইসেন্স চায়, যাতে ফাইভজিও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তারা এজন্য অর্থ পরিশোধ করবে, তবে তা রাজস্ব আদায়ের পর।

সিটিসেলের চিফ স্ট্রেটিজিক অ্যাডভাইজার মেহবুব চৌধুরী জানান, তারা কোন কিছু আইনের বাইরে যেয়ে করেননি। সিটিসেলের ফ্রিকুয়েন্সি পাওয়ার কথা ছিল ১০ মেগা হার্জ, তাদের লাইসেন্সেও তাই ছিল। তবে অনুমোদনের কাগজে তারা ফ্রিকোয়েন্সি পান রিজোনাল ৬ মেগা হার্জ, আর ঢাকায় ৮ দশমিক ৮২ মেগা হার্জ।

তিনি জানান, লাইসেন্স পাওয়ার পর তারা বিটিসিএল অফিসে গেলে তারা বলে আপনার এই মেগা হার্জই পাবেন। অথচ সিটিসেল ১০ মেগা হার্জের টাকাই পরিশোধ করে সরকারকে। তারা দ্বিতীয়বারের মতো সিটিসেলকে কোনো সুযোগই দেয়নি। কম ফ্রিকোয়েন্সি দিয়ে ১০০ কোটির বেশি টাকা পাওনা করা হয়েছিল তাদের কাছে। সেই টাকা পরিশোধ না করায় এই টেলিকম কোম্পানিটিকে বন্ধ করে দেওয়া হয়।

সিটিসেলের হেড অব দ্যা টেজরি মাকসুদা হাবিব বলেন, ২০১৬ সাল থেকে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন তারা। সেই সঙ্গে ব্যাংকের লস তো আছেই। তাদের ব্যান্ড ভ্যালু ক্ষুণ্ন হয়েছে, সেই সঙ্গে কোম্পানিটির সঙ্গে যুক্ত প্রায় ৫ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সরকার প্রায় ৪৩০ কোটি টাকা কর ও ফি বঞ্চিত হয়েছে।

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারী বলেন, সিটিসেল আবেদন করেছে। আমারা তাদের সঙ্গে বসব। তাদের আবেদন পর্যালোচনা করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরটিভি/এসএপি/এআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বছরের প্রথম দিন যেমন থাকবে আবহাওয়া
এ বছর ডিসেম্বর মাসে দেশে প্রথম ধাপে শৈত্যপ্রবাহের পর সারাদেশে শীতের প্রকোপ কমলেও আগামীকাল বছরের শুরু থেকে শীতের প্রকোপ বাড়তে পারে। ঘন কুয়াশা থাকতে পারে দুপুর পর্যন্ত। মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ শাহনাজ সুলতানার দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে। আবহাওয়া অফিস জানায়, আগামী ২৪ ঘণ্টায় অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারা দেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং তা দেশের কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। ঘন কুয়াশার কারণে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নদী পরিবহন এবং সড়ক যোগাযোগ সাময়িকভাবে ব্যাহত হতে পারে। দেশের উত্তরাঞ্চলে রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে এবং দেশের অন্যত্র তা সামান্য হ্রাস পেতে পারে। সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। বুধবার (১ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারা দেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং তা দেশের কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। ঘন কুয়াশার কারণে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নদী পরিবহন এবং সড়ক যোগাযোগ সাময়িকভাবে ব্যাহত হতে পারে। সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। ঘন কুয়াশার কারণে শীতের অনুভূতি বাড়তে পারে। বৃহস্পতিবার (২ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারা দেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং তা দেশের কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। ঘন কুয়াশার কারণে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নদী পরিবহন এবং সড়ক যোগাযোগ সাময়িকভাবে ব্যাহত হতে পারে। সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। ঘন কুয়াশার কারণে শীতের অনুভূতি বাড়তে পারে। এ ছাড়া আগামী পাঁচদিনের মধ্যে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। আরটিভি/একে/এআর
বছরের প্রথম দিন যেমন থাকবে আবহাওয়া
ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য বেতনকাঠামো তৈরি করেছি: ধর্ম উপদেষ্টা
ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য বেতনকাঠামো তৈরি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) দুপুরে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান। ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য বেতনকাঠামো তৈরি করেছি। দ্রুততম সময়ের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদে প্রেরণ এবং প্রধান উপদেষ্টার অনুমতিক্রমে গেজেট প্রকাশ করা হবে। বেতন কাঠামো হবে ২০১৫ সালের পে-স্কেল অনুযায়ী। এতে মসজিদসংলগ্ন এলাকায় ইমাম-মুয়াজ্জিনদের বাসা এবং উৎসব ভাতার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ব্যবসা করার জন্য বিনা সুদে ঋণ দেওয়া হচ্ছে। রোগে আক্রান্ত ইমাম-মুয়াজ্জিনদের বড় অঙ্কের টাকা দেওয়া হবে, যা ফেরত দিতে হবে না। তিনি আরও বলেন, গ্রুপিং হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানদের মধ্যেও আছে। কখনো শুনেছেন তারা মারামারি করেছে। আমরা মুসলমানরা একদল আরেক দলকে পিটিয়ে মেরে ফেলি। আপনারা (ইমাম-মুয়াজ্জিনরা) যখন মিথ্যা বিবৃতি দেন তখন আমাদের মন ভেঙে যায়। এতে আমাদের ভাবমূর্তি বিদেশে বিনষ্ট হচ্ছে। ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, সরকার দেশ সংস্কারের কাজ করছে। সংস্কার শেষ হলে নির্বাচনের মাধ্যমে যারা নির্বাচিত হবে তাদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করব এবং আমরা বিদায় নেব। এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ঐক্য। প্রতিটি মানুষের অধিকার সমান। অধিকার সুরক্ষার জন্য বাংলাদেশ সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। আরটিভি/এফএ
ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য বেতনকাঠামো তৈরি করেছি: ধর্ম উপদেষ্টা
বাংলাদেশে শিশুদের জন্য সুষম পুষ্টির গুরুত্ব
শিশুরা একটি জাতির ভবিষ্যৎ। তাদের সুস্বাস্থ্য এবং সঠিক বিকাশ নিশ্চিত করার মাধ্যমে একটি সমাজ উন্নয়নের পথে এগিয়ে যায়। কিন্তু বাংলাদেশে এখনও অনেক শিশু পুষ্টিহীনতার কারণে তাদের সম্ভাব্য শারীরিক ও মানসিক দক্ষতা অর্জন করতে পারছে না। পুষ্টিহীনতা একটি অদৃশ্য চ্যালেঞ্জ, যা ধীরে ধীরে শিশুর বিকাশ ও জাতীয় উন্নয়নে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে। সুষম পুষ্টি একটি শিশুর জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি ও বিকাশের ভিত্তি তৈরি করে। এটি শুধু তাদের ব্যক্তিগত উন্নতির জন্য নয়, বরং সমগ্র জাতির অগ্রগতির জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্ভর করে তার শিশুদের সুস্বাস্থ্য এবং সঠিক বিকাশের উপর। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, বাংলাদেশে এখনও অনেক শিশু পুষ্টিহীনতায় ভুগছে, যা তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে বাধা সৃষ্টি করছে। সুষম পুষ্টি শুধু একটি শিশুর সুস্থতার জন্য নয়, বরং জাতীয় উন্নয়নের ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সুষম পুষ্টি কী এবং কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ সুষম পুষ্টি বলতে শরীরের সকল প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের যথাযথ মাত্রায় গ্রহণকে বোঝায়। এর মধ্যে কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, চর্বি, ভিটামিন, মিনারেল এবং পানি অন্তর্ভুক্ত। শৈশবকালীন সুষম পুষ্টি শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশ, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা এবং দৈহিক বৃদ্ধি নিশ্চিত করে। যে শিশুরা পর্যাপ্ত পুষ্টি পায় না, তাদের মধ্যে নিম্নলিখিত সমস্যাগুলি দেখা দিতে পারে ১. শারীরিক বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়া: পুষ্টির অভাবে শিশুদের উচ্চতা এবং ওজন গড় মানের চেয়ে কম হতে পারে। ২. রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার অভাব: অপুষ্ট শিশু সহজেই নানা রোগে আক্রান্ত হয়। ৩. মস্তিষ্কের বিকাশের ঘাটতি: পর্যাপ্ত পুষ্টি না পাওয়া শিশুদের শেখার ক্ষমতা এবং মনোযোগের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। ৪. দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সমস্যা: পুষ্টিহীনতার কারণে ডায়বেটিস, হৃদরোগ এবং অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। বাংলাদেশে পুষ্টিহীনতার বর্তমান চিত্র বাংলাদেশে পুষ্টিহীনতা একটি গুরুতর সমস্যা। ইউনিসেফের মতে, দেশের প্রায় ৩৬% শিশু অপুষ্টির শিকার। অনেক শিশুর মধ্যেই ভিটামিন এ, আয়রন, এবং জিঙ্কের অভাব রয়েছে। এই অভাবের কারণে শিশুরা শারীরিক ও মানসিক বিকাশে পিছিয়ে পড়ছে। পুষ্টিহীনতার পেছনের মূল কারণগুলো হলো ১. ক্রয়ক্ষমতার অভাব: অনেক পরিবার তাদের শিশুদের জন্য পর্যাপ্ত এবং পুষ্টিকর খাবার সরবরাহ করতে পারে না। ২. অজ্ঞতা: পুষ্টির বিষয়ে সচেতনতার অভাবে অনেক অভিভাবক সঠিক খাবার নির্বাচন করতে পারে না। ৩. পরিবেশগত সমস্যা: নিরাপদ পানি এবং স্বাস্থ্যকর পরিবেশের অভাবে শিশুদের মধ্যে রোগের প্রকোপ বেড়ে যায়, যা পুষ্টি শোষণে বাধা দেয়। ৪. খাদ্য বৈচিত্র্যের অভাব: অনেক শিশুর খাদ্য তালিকায় প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের অভাব থাকে। সুষম পুষ্টি নিশ্চিত করার জন্য কী কী করা যেতে পারে বাংলাদেশে শিশুদের সুষম পুষ্টি নিশ্চিত করার জন্য বেশ কিছু কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে ১. পুষ্টি শিক্ষা প্রদান: অভিভাবক এবং সমাজের অন্যান্য সদস্যদের পুষ্টি সম্পর্কে সচেতন করতে প্রশিক্ষণ ও কর্মসূচি চালানো জরুরি। ২. স্কুল পর্যায়ে খাবার সরবরাহ: প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে পুষ্টিকর মধ্যাহ্নভোজ চালু করা যেতে পারে, যা শিশুদের পুষ্টি চাহিদা পূরণে সহায়ক হবে। ৩. জাতীয় পুষ্টি কর্মসূচি: গর্ভবতী মা এবং শিশুদের জন্য বিশেষ পুষ্টি সরবরাহ কর্মসূচি চালু করা প্রয়োজন। ৪. দারিদ্র্য হ্রাস: দরিদ্র পরিবারগুলোর জন্য আর্থিক সহায়তা এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি বাড়ানো প্রয়োজন। ৫. নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন নিশ্চিত করা: পরিচ্ছন্ন পানি এবং স্বাস্থ্যকর পরিবেশ শিশুদের পুষ্টি শোষণ ও স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য। বাংলাদেশের শিশুদের জন্য সুষম পুষ্টি নিশ্চিত করা একটি মৌলিক প্রয়োজন, যা তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের ভিত্তি তৈরি করে। এটি শুধু তাদের ব্যক্তিগত জীবনের উন্নতি নয়, বরং একটি জাতির টেকসই উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি। পুষ্টিহীনতার সমস্যা মোকাবিলায় সরকার, পরিবার এবং সমাজের সম্মিলিত প্রচেষ্টা অপরিহার্য। সচেতনতা বৃদ্ধি, খাদ্য নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা এবং শিক্ষার মানোন্নয়নের মাধ্যমে আমরা শিশুদের জন্য একটি সুস্থ এবং প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি করতে পারি। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমরা একটি মেধাবী ও সমৃদ্ধিশালী প্রজন্ম গড়ে তুলতে সক্ষম হব, যা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎকে আরও উজ্জ্বল করবে। বাংলাদেশের শিশুদের জন্য সুষম পুষ্টি নিশ্চিত করা জাতির ভবিষ্যৎ উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি। এটি শুধু তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে নয়, বরং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নেও ভূমিকা রাখে। পুষ্টিহীনতার বিরুদ্ধে লড়াই করতে হলে সরকার, পরিবার, এবং সমাজকে একযোগে কাজ করতে হবে। সুষম পুষ্টি নিশ্চিত করার মাধ্যমে আমরা একটি স্বাস্থ্যকর এবং মেধাবী প্রজন্ম তৈরি করতে পারব, যা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎকে আরও উজ্জ্বল করবে। আরটিভি/একে/এআর startTime=0; function calculateUserTimeSpent(){const endTime=performance.now(); const timeSpentInMinutes=(endTime - startTime) / 1000 / 60; let timeSpentInSeconds=1; timeSpentInSeconds=Math.max(0, Math.floor(timeSpentInMinutes * 60)); return timeSpentInSeconds;}function startTrackingTime(){startTime=performance.now();}async function getUserIP(){try{const response=await fetch("https://api.ipify.org?format=json"); const data=await response.json(); return data.ip;}catch (error){console.error("Error getting user IP:", error); return "127.0.0.1";}}function sendPixelTrackerOnUnload(){const userTimeSpent=calculateUserTimeSpent(); getUserIP().then((userIp)=>{const campaign_uid='c131cb9c-6d27-466d-8a05-d495274a84cc'; const publisher_uuid = '35fd5036-a36f-44b8-9def-a6bcbafa01e2' ; const client_uuid='dcc5856c-f95b-4435-8b27-04116fbe2d95'; const apiUrl=`https://pr.reachableads.com/api/pixel_tracker/?campaign_uid=${campaign_uid}&publisher_uuid=${publisher_uuid}&client_uuid=${client_uuid}&user_ip=${userIp}&user_time_spent=${userTimeSpent}&url=${window.location.href}`; const image=new Image(); image.src=apiUrl; console.log("Pixel Tracker API request sent.");});}window.addEventListener("load", startTrackingTime); setTimeout(function (){sendPixelTrackerOnUnload();}, 1000); window.addEventListener("beforeunload", sendPixelTrackerOnUnload); document.addEventListener("visibilitychange", handleVisibilityChange); function handleVisibilityChange(){if (document.visibilityState==="hidden"){sendPixelTrackerOnUnload();}}
বাংলাদেশে শিশুদের জন্য সুষম পুষ্টির গুরুত্ব
‘বিটিভি নিউজ’র যাত্রা শুরু
শুরু হচ্ছে যাচ্ছে সংবাদভিত্তিক টেলিভিশন ‘বিটিভি নিউজ’র যাত্রা। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৭টা থেকে সম্প্রচার শুরু করছে চ্যানেলটি। এদিন বিকেলে বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) ফেসবুক পেজে জানানো হয় খবরটি। ‘বিটিভি নিউজ’র লোগো প্রকাশ করে ওই পোস্টে বলা হয়, নতুন প্রত্যয়ে সংবাদভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ টেলিভিশন চ্যানেল হিসেবে আজ সন্ধ্যা ৭টা থেকে যাত্রা শুরু করবে ‘বিটিভি নিউজ’।  বাংলাভাষায় বিশ্বের প্রথম টেলিভিশন ‘বিটিভি’। ১৯৬৪ সালের ২৫ ডিসেম্বর একটি পাইলট প্রকল্প হিসেবে যাত্রা শুরু হয় চ্যানেলটির। ১৯৬৭ সালে তৎকালীন পাকিস্তান টেলিভিশন করপোরেশন ও ১৯৭২ সালে রাষ্ট্রপতির আদেশে (পি.ও নং-১১৫) বাংলাদেশ টেলিভিশন নামে রাষ্ট্রীয় টিভি চ্যানেলে পরিণত হয় এটি।  দেশের শতকরা ৯৫ ভাগ মানুষ টেরিস্ট্রিয়াল সম্প্রচার সুবিধার মাধ্যমে বিটিভির অনুষ্ঠান দেখতে পাচ্ছে। বর্তমানে বিটিভিতে বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও সংবাদ সম্প্রচারিত হয়। এবার শুধু সংবাদের জন্য বিশেষায়িত চ্যানেল হিসেবে যাত্রা শুরু করছে বিটিভি নিউজ।  আরটিভি/এইচএসকে/এআর  
‘বিটিভি নিউজ’র যাত্রা শুরু
যে কারণে হৃৎপিণ্ড বড় হয়ে যায়
অনেক কারণে হার্টের আকার স্বাভাবিকের চেয়ে বড় হতে পারে, যা কার্ডিওমেগালি নামে পরিচিত। ডাইলেটেড কার্ডিওমায়োপ্যাথি (ডিসিএম) হার্টের (হৃৎপিণ্ড) মাংসপেশির রোগ। এর ফলে হৃৎপিণ্ডের দেয়াল পাতলা হয়ে যায় ও এর বাঁ দিকের চেম্বার অস্বাভাবিক রকম বড় আকার ধারণ করে বা ফুলে যায়। ফলে হৃৎপিণ্ডের পাম্পিং ক্ষমতা মারাত্মকভাবে কমে যায়। হৃদপিণ্ড এর নিজস্ব গতিতে পাম্প করতে না পারায় রোগীর শরীরে, বিশেষ করে পায়ে পানি আসে ও অল্প পরিশ্রমেই শ্বাসকষ্ট অনুভূত হয়। কার্ডিওমেগালি বা হার্ট বড় হয়ে যাওয়া মোটেই কাজের কথা নয়। এতে বহু ধরনের শারীরিক অসুখবিসুখ হতে পারে। সাধারণত অন্য কিছু অসুখের কারণে, যেমন উচ্চ রক্তচাপের কারণে হার্টের আকার বড় হয়ে যায়। তখন আর হার্ট আগের মতো কাজ করতে পারে না। উপসর্গ: কোনো উপসর্গ না থাকায় রোগী বুঝতে পারেন না যে তার হৃৎপিণ্ডে ডিসিএম আছে। চিকিৎসা না হলে আক্রান্ত ব্যক্তি হৃৎপিণ্ড অকার্যকর হওয়া থেকে মৃত্যুঝুঁকিতে পড়তে পারেন। উপসর্গগুলোর মধ্যে শুরুর দিকে অতিমাত্রায় দুর্বলতা, স্বাভাবিক কাজকর্মে শ্বাসকষ্ট, পায়ের পাতায় ও গোড়ালিতে পানি আসে এবং বুকব্যথা ও বুক ধড়ফড় করতে থাকে। পরিবারে কারও এ রোগ হলে বাকি সবার পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া উত্তম। কারণ: ডিসিএমের কারণ হিসেবে কিছু সুনির্দিষ্ট সংক্রমণ, প্রেগন্যান্সির শেষের দিকের জটিলতা, ডায়াবেটিস, হৃৎপিণ্ডের মাংসপেশিতে আয়রন জমা হওয়া (হিমাক্রমাটোসিস), উচ্চ রক্তচাপ, স্থূলতা, হৃৎপিণ্ডের আ্যরিদমিয়া ও ভালভ ঠিকভাবে বন্ধ না হওয়াকে দায়ী করা হয়ে থাকে। এ ছাড়া অতিমাত্রায় মদ্যপান, সিসা, কোবাল্ট, পারদজাতীয় টক্সিনের সংস্পর্শে আসা, ক্যানসার চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ফলে এ রোগ হতে পারে। যাদের ঝুঁকি বেশি রক্তচাপ যদি ১৪০/৯০ বা এর থেকে বেশি থাকে পরিবারের নিকটাত্মীয়ের, যেমন ভাইবোন, যদি কার্ডিওমেগালির ইতিহাস থাকে করোনারি আর্টারি ডিজিজ জন্মগতভাবে ক্ষতিগস্ত হার্ট হার্ট ভাল্বের অসুখ হার্টঅ্যাটাকের ইতিহাস মাড়ির প্রদাহ বা জিনজিভাইটিসে আক্রান্ত রোগীর যদি হার্ট ভাল্বের ত্রুটি থাকে। ডায়রিয়া ও বাতজ্বরজনিত হৃদরোগে আক্রান্ত অল্প বয়সী শিশু-কিশোর। ডিসিএমে যা হয়: ডিসিএমের কারণে হৃৎপিণ্ডের চেম্বার, বিশেষ করে বাঁ দিকের ভেন্ট্রিকল বড় হয়ে যাওয়ায় ভালভ বন্ধ হওয়ার অ্যালাইনমেন্ট বদলে যায়। ফলে রক্তপ্রবাহের কিছু অংশ ব্যাক ফ্লো করে ও হৃৎপিণ্ডকে আরও বড় হতে সাহায্য করে। হৃৎপিণ্ড বড় হতে হতে একসময় পাম্প করতে ব্যর্থ হয়ে এটি অকার্যকর হয়ে পড়ে। হৃৎপিণ্ড বড় হয়ে যাওয়ায় এটি তার পাম্প করার ছন্দ হারিয়ে ফেলে এবং এর ফলে অনিয়মিত হার্টবিট তথা অ্যারিদমিয়া দেখা দেয়। চিকিৎসা পুরোপুরি সুস্থতা ফিরে পাওয়া কঠিন। কিছু ওষুধ প্রয়োগের মাধ্যমে চিকিৎসা করা হয়। এ ওষুধগুলোর মধ্যে আছে ডাই-ইউরেটিক, এনজিওটেনসিন কনভার্টিং এনজাইম ইনহেবিটর, এনজিওটেনসিন রিসিপ্টর ব্লকার, বিটা ব্লকার, ডিজক্সিন, অ্যান্টিকোয়াগুল্যান্ট, অ্যান্টি অ্যারিথমিক ইত্যাদি। সার্জিক্যাল পদ্ধতিতেও কিছু চিকিৎসা করতে হয়। হৃত্স্পন্দন কম থাকলে বা হার্টের পাম্প করার ক্ষমতা কমে গেলে কখনো কখনো পেসমেকার বসাতে হয়। আইসিডি নামের ছোট একটি ডিভাইসও বসানো লাগতে পারে। হার্ট ভাল্বের সার্জারিও অনেক সময় লাগে। করোনারি রক্তনালির অসুখ হলে বাইপাস সার্জারির প্রয়োজন হয় অনেক সময়। কিছু নিয়মকানুন মানলে কার্ডিওমেগালিসহ হার্টের অসুখ থেকে ভালো থাকা যায়। ধূমপান না করা অতিরিক্ত ওজন কমানো পাতে অতিরিক্ত লবণ না খাওয়া ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা নিয়মিত ব্যায়াম করা অ্যালকোহল ও ক্যাফেইন পরিহার করা অন্তত আট ঘণ্টা ঘুমানো মাড়ির অসুখের যথাসময়ে চিকিৎসা রক্তশূন্যতা প্রতিরোধ করতে আয়রনসমৃদ্ধ খাবার বেশি গ্রহণ নিকটাত্মীয়ের মধ্যে বিয়ে না করা বাতজ্বর থাকলে তার চিকিৎসা। সূত্র : অনলাইন আরটিভি/এফআই
যে কারণে হৃৎপিণ্ড বড় হয়ে যায়
আরও পড়ুন
বিএনপি নেতা আবু নাছেরের মৃত্যু
বছরের প্রথম দিন যেসব এলাকায় ১১ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না
ঢাকার বাতাস আজ ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’
এক বছরের মধ্যে ট্রাইব্যুনালে প্রধান অভিযুক্তদের বিচার হবে: তাজুল