• ঢাকা শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৬ আশ্বিন ১৪২৫

১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবির অভিযোগ

স্ত্রীর মামলায় ফাঁসছেন মোসাদ্দেক

আরটিভি অনলাইন ডেস্ক
|  ২৬ আগস্ট ২০১৮, ২৩:০৮ | আপডেট : ২৭ আগস্ট ২০১৮, ০৮:৪৫
বিয়ে হয়েছে প্রায় ছয় বছর আগে। খালাতো বোন সামিয়া শারমিন সামিয়ার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও পরে পারিবারিকভাবেই সম্পন্ন হয় বিয়ে। বিয়ের পর প্রথম তিন বছর কেটেছে ভালভাবেই। কিন্তু শেষ তিন বছরে হয়ে উঠেছেন বেপরোয়া। সূত্র- মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের ঘনিষ্ঠ জন।

তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী জাতীয় দলে জায়গা পাওয়ার পরই নাকি অতীত ভুলতে শুরু করেন এই উদীয়মান ক্রিকেটার।

একের পর এক ঝামেলার সূত্রপাত ঘটে মোসাদ্দেক-সামিয়ার সংসারে। সবশেষ পারিবারিক ঝামেলা গড়ালো আদালতে।

আজ রোববার সামিয়ার বড় ভাই মোজাম্মেল কবির মামলা দায়ের করেন ময়মনসিংহের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এক নম্বর আদালতে।
-------------------------------------------------------
আরও পড়ুন : রবি-বিসিবির চুক্তি বাতিল
-------------------------------------------------------

মোজাম্মেল কবিরের দায়ের করা মামলায় উল্লেখ করা হয়, যৌতুক দাবির কথা।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের ঘনিষ্ঠজন আরটিভি অনলাইনকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মোসাদ্দেক হোসেন চট্টগ্রামের এক মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক করে আসছিলেন। তার স্ত্রীর ধারণা, ওই মেয়ের চাপেই বর্তমান স্ত্রীর সঙ্গে খারাপ ব্যবহার শুরু করেন।

তিনি আরও বলেন, ঘরে বসেই বন্ধুদের নিয়ে মদপান করতেন মোসাদ্দেক। এছাড়াও নানান অসামাজিক কার্যক্রমে লিপ্ত হতেন তিনি। মূলত এসব কারণে প্রতিবাদ করায় সামিয়ার গায়ে হাত তুলতো মোসাদ্দেক।

এদিকে বাদীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম দুলাল আরটিভি অনলাইনকে জানান, ২০১২ সালে আপন খালাত ভাই মোসাদ্দেকের সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন শহরের আকুয়া চৌরঙ্গী মোড় এলাকার সামিয়া। বিয়ের পর ময়মনসিংহের কাচিঝুলিতে নিজ বাসায় সামিয়াকে রেখে সৈকত বেশিরভাগ সময় খেলার জন্য ঢাকায় থাকেন। এদিকে, যৌতুকের দাবিতে মোসাদ্দেক দীর্ঘদিন ধরে তার স্ত্রীকে নির্যাতন করে আসছিলেন। গত ১৫ আগস্ট দুপুরে তিনি ফের ১০ লাখ টাকা যৌতুক না পেয়ে স্ত্রীকে নির্যাতন করে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। তিনি জানান, গত ১৫ আগস্ট নিজ বাসায় স্ত্রী সামিয়াকে বাবার বাড়ি থেকে ১০ লাখ টাকা যৌতুক এনে দেয়ার জন্য স্বামী মোসাদ্দেক ও তার মা পারুল বেগম মারপিট করেন। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা সামিয়াকে উদ্ধার করেন। এরপর ঈদের বন্ধ থাকায় মামলা করতে বিলম্ব হয় তার স্ত্রীর। এব্যাপারে ক্রিকেটার মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি সাড়া দেননি।

চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১নং আমলী আদালতের পেসকার মো: আনোয়ার হোসাইন জানান, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের বিরুদ্ধে রোববার একটি মামলা দায়ের হয়েছে। মামলায় সৈকতের মা পারুল বেগমকেও আসামি করা হয়েছে। আদালত উপজেলা মহিলা ও শিশু বিষয়ক কর্মকর্তাকে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।   

কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি মাহমুদুল ইসলাম জানান, গত ১৫ আগস্ট জাতীয় দলের ক্রিকেটার মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত তার স্ত্রী শারমিন সামিয়ার বিরুদ্ধে একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। সেখানে বলা হয়, ৬ বছর আগে শারমিন সামিরার সঙ্গে বিয়ে হয়। কিন্তু এরপর থেকে নানা অজুহাতে বনিবনা হচ্ছিল না। তার বৃদ্ধ মা পারুল বেগমকে নানাভাবে নির্যাতন করতো। ১৫ আগস্ট তার বাসার টিভি ও মোবাইল ফোনসহ আসবাবপত্র ভাংচুর করা হয়েছে। ওসি জানান, জিডিতে উল্লেখ রয়েছে, গত ১৬ আগস্ট কাজী অফিসে গিয়ে স্ত্রী শারমিন সামিয়াকে তালাক প্রদান করেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত।

আরও পড়ুন : 

এমআর/জেএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়