
এই জয়ের ঠিক কি ব্যাখ্যা হতে পারে? শেষ ওভারে আফগানিস্তানকে জিততে হলে লাগে ৮ রান। বল হাতে মুস্তাফিজুর রহমান। স্ট্রাইকে রশিদ খান। প্রথম বলে নিলেন দুই রান। আবারও স্ট্রাইকে রশিদ। মুস্তাফিজ নিজের বলে নিজেই ক্যাচে পরিণত করলেন আফগান ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় নামকে। ৪ বলে দরকার ছয় রান। পরের বলে লেগ বাই ১ রান। পরের বলটি ডট। আবারও লেগ বাই ১ রান। শেষ বলে জিততে হলে লাগে একটা চার। কাটার মাস্টারখ্যাত সেখানে অতিমানবীয় কিছু করে দেখালেন ঠিকই। এই বলে আর কোনও রান নেই। জয়ের নায়ক বনে গেলেন নিমেষেই।
টানা দুই পরাজয়ে যখন খাদের কিনারায় পৌঁছে গিয়েছিল বাংলাদেশ সেখানে এই জয়টা এবার স্বপ্ন দেখাচ্ছে এশিয়া কাপের ফাইনালে খেলার।
আফগানিস্তানের সঙ্গে ম্যাচটা ছিল বাঁচা-মরার ম্যাচ। এই ম্যাচটা হারলে পরের ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচটা হয়ে দাঁড়াতো নিছক নিয়ম রক্ষার ম্যাচে।
আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে রবিবার টস জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু শুরুটা সুখকর করতে পারেনি টাইগারদের টপ অর্ডারের ব্যাটসম্যানরা।
মিডল অর্ডারে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ আর আগের রাতে খুলনা থেকে ঢাকা হয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতে উড়ে যাওয়া ইমরুল কায়েসের জুটিতে ভর করে ২৫০ রানের লক্ষ্য ছুড়ে দেয় আফগানিস্তানকে।
এই জুটি থেকে আসে ১২৮ রান। দুজনেই করেন অর্ধশত করে রান। মাহমুদুল্লাহর ৭৪ আর ইমরুল কায়েসের ৭২ রান।
জবাবে ব্যট করতে নেমেই দ্রুত রান তোলার চেষ্টা করে। এই সুযোগটা কাজে লাগান মুস্তাফিজুর রহমান। দ্রুত বিদায় করেন ওপেনার ইহসানউল্লাহকে। মোহাম্মদ শাহাজাদের সহজ ক্যাচ হাত ফসকে গেলে স্কোর বোর্ডে ৫৩ রান যোগ করেন এই ওপেনার।
এরপর অতি সাবধানী আফগানরা। কখনও ধীরে আবার কখনও দ্রুত রান তোলার চেষ্টা। ৭১ রান করা হাসমতউল্লাহকে ফিরিয়ে মাশরাফি বিন মুর্তজা আবারও জয়ের পথে ফিরিয়ে আনেন দলকে। ৩৯ রানে আসগর আফগানকেও ফেরান বাংলাদেশ অধিনায়ক।
শেষদিকে সাকিব আল হাসান, নাজমুল ইসলাম আর মুস্তাফিজের নিয়ন্ত্রিত বলে ৩ রানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।
আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর সুপার ফোরের ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে লড়বে টাইগাররা। ফাইনালে জায়গা করে নিতে এই ম্যাচটা যে জেতাই লাগবে বাংলাদেশকে।
এমআর/ওয়াই




