• ঢাকা বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৪ আশ্বিন ১৪২৫

জরিমানায় সেরেনা, পাশে দাঁড়ালো ডব্লিউটিএ

স্পোর্টস ডেস্ক, আরটিভি অনলাইন
|  ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৫:৩৫ | আপডেট : ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৫:৪৭
প্রথম জাপানি হিসেবে গ্র্যান্ড স্ল্যাম জিতে ইতিহাস গড়লেন বেচারি নাওমি ওসাকা। কিন্তু ২০ বছর বয়সী এই তরুণীর জয় ঢাকা পড়ে গেলো অযাচিত বিতর্কে। দ্বিতীয় সেট জয়ের মুখোমুখি যখন নাওমি তখনই সেরেনা উইলিয়ামসকে দেখা যায় চেয়ার আম্পায়ারের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়তে। চেয়ার আম্পায়ারকে সেরেনা ‘চোর’ও ‘মিথ্যাবাদী’বলে বসেন। যার জেরে তাকে একটি গেমও খোয়াতে হয়।

ঘটনার সূত্রপাত ঘটে শনিবার ইউএস ওপেন নারীদের ফাইনালের দ্বিতীয় সেট চলাকালীন। তার আগে ২-৬ ফলে প্রথম সেট জিতে নেন সেরেনা। দ্বিতীয় সেটেও সেসময় ৩-৪ ফলে এগিয়ে ছিলেন নাওমি। সেই অবস্থায় চেয়ার আম্পায়ার অভিযোগ করেন কোচিং বক্স থেকে খেলা চলাকালীন সেরেনার কোচ প্যাট্রিক মুরাতগ্লু তাকে নির্দেশ দিচ্ছেন।

এই অভিযোগে সেরেনাকে কোড ভায়োলেশনের জন্য সতর্ক করা হয়। পাশাপাশি র‌্যাকেট ছুঁড়ে ফেলার জন্য তার একটি পয়েন্ট পেনাল্টি হিসেবে কেটে নেয়া হয়। এরপরই আম্পায়ারের সঙ্গে বাদানুবাদে জড়ান ৩৬ বছর বয়সী এই তারকা। কোর্টের মধ্যে তিনি কেঁদেও ফেলেন।

নাওমি অবশ্য এই ঝামেলার মধ্যেও মাথা ঠাণ্ডা রেখে ম্যাচ বের করে নেন। তবে ম্যাচের পর এই বিতর্ক আরও অনেকদূর গড়িয়েছে।

আম্পায়ারের সঙ্গে বাজে ব্যবহারের জন্য ১৭ হাজার ডলার জরিমানা গুণতে হচ্ছে এই মার্কিন তারকাকে। টুর্নামেন্টের রানার্সআপ হওয়ায় ১.৮৫ মিলিয়ন ডলার পেয়েছেন সেরেনা। সেখান থেকে জরিমানার অর্থ কেটে নেয়া হবে বলে জানিয়েছে ইউনাইটেড স্টেটস টেনিস অ্যাসোসিয়েশন (ইউএসটিএ)।

এদিকে ম্যাচ হারার পর সংবাদ সম্মেলনে আম্পায়ারের সিদ্ধান্তকে ‘লিঙ্গ বৈষম্য’হিসেবে উল্লেখ করেছেন সেরেনা। তিনি দাবি করে বলেছেন, ম্যাচে আবেগের বশে তিনি আম্পায়ারকে ওই কথাগুলো বলেছিলেন। একই কাজ কোনও পুরুষ খেলোয়াড় করলে ছাড় পেয়ে যেতেন।

সেরেনা উল্লেখ করেন, এবারের টুর্নামেন্টেই কোর্টে ফ্রেঞ্চ খেলোয়ার আলাইজ কর্নেটের টি-শার্ট পরিবর্তন করার কথা। যার জন্য কর্নেটকে প্রথমে ‘অখেলোয়াড় সুলভ আচরণে’অভিযুক্ত করা হলেও পরে টুর্নামেন্ট আয়োজকদের পক্ষে ক্ষমা চাওয়া হয়।

সেরেনা বলেছেন, তিনি নিশ্চিত কোনও পুরুষ খেলোয়াড়, চেয়ার আম্পায়ারকে চোর বললে তার গেম কেটে নেয়া হতো না।

টেনিসের রাণী খ্যাত এই তারকা জানিয়েছেন, নারীদের জন্য তিনি লড়াই করে যাবেন। এই ম্যাচে নিজের আবেগ প্রকাশ করায় নিজের ক্ষতি হয়েছে ঠিকই কিন্তু এদিনের ঘটনা ভবিষ্যতের শক্তিশালী নারীদের কাছে উদাহরণ হয়ে থাকবে।

অন্যদিকে জনপ্রিয় সব টেনিস খেলোয়াড়দের সঙ্গে টেনিস ওয়ার্ল্ড টেনিস অ্যাসোসিয়েশনও (ডব্লিউটিএ) সেরেনার পাশে দাঁড়িয়েছেন। টেনিসের সর্বোচ্চ সংস্থার প্রধান নির্বাহী স্টিভ সিমন বলেন, কোর্টে নারী-পুরুষ সবাইকে যেন সমান চোখে দেখা হয়। সবার প্রতি একই বিচার প্রতিষ্ঠায় সংস্থা কাজ করে যাবে।

ওয়াই/পি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়