• ঢাকা বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৪ আশ্বিন ১৪২৫

নিষেধাজ্ঞা থেকে ফিরে পাকিস্তানের নাটকীয় জয়

স্পোর্টস ডেস্ক, আরটিভি অনলাইন
|  ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৮:০৮ | আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৮:৫২
ফিফার নিষেধাজ্ঞা থাকায় তিন বছর আন্তর্জাতিক ফুটবলের বাহিরে ছিল পাকিস্তান। সেই নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে সাফ ফুটবলের উদ্বোধনী ম্যাচে মাঠে নামে পাকিস্তান। আর এই দিনটিকেই স্মরণীয় করে রাখলো তারা।

বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের সাফ সুজুকি ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে বাংলাদেশ সময় বিকেল চারটায় মুখোমুখি হয় পাকিস্তান-নেপাল। খেলার শেষ মুহূর্তে এসে নিশ্চিত ড্রয়ে পরিণত হওয়া ম্যাচকে জয়ে রূপ দিয়ে দলকে উল্লাসে ভাসান মোহাম্মদ আলি। 

ম্যাচের শুরু থেকে দু’দলই আক্রমণ পাল্টা আক্রমণে খেলা জমিয়ে তোলে। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা কেউই পাচ্ছিল না। ম্যাচের ৩৫তম মিনিটে ডান দিক থেকে ভেসে আসা ক্রসে বক্সের ভিতর থেকে হেড করার চেষ্টা করেন পাকিস্তানের মুহাম্মদ রিয়াজ। এ সময় তাকে ফেলে দিলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান জর্ডানের রেফারি মোহাম্মদ হাসান। স্পট কিক থেকে কাঙ্ক্ষিত গোল আদায় করেন হাসান নাভীদ বশির। এরপর উভয় দল আক্রমণ শানালেও গোলের দেখা পাচ্ছিল না কেউই। শেষ পর্যন্ত এক গোলের লিড নিয়ে বিরতিতে যায় উভয় দল। 

বিরতি থেকে এসে পাকিস্তানের উপর আক্রমণ শানাতে থাকে নেপাল। বল পজিশনে এগিয়ে থাকলেও ফিজিক্যাললি তারা পাকিস্তানের কাছে পরাজিত হয়। বার বার নেপাল আক্রমণ পাকিস্তানের ডিফেন্সে এসে আটকে যায়। ম্যাচের ৭৫তম মিনিটে লিডকে দ্বিগুণ করার সুযোগ পেয়েছিল পাকিস্তান। কাউন্টার অ্যাটাক থেকে মাঝমাঠে বল পান সাদউল্লাহ। একজনকে কাটিয়ে দ্রুত গতিতে কয়েকগজ সামনে গিয়ে গোলরক্ষককে এগিয়ে আসতে দেখে ৩৫ গজ দূর থেকে পোস্টে শট নেন তিনি। কিন্তু ভাগ্য সহায় না হওয়ায় গোলরক্ষককে ফাঁকি দিতে পারলেও পোস্টে লেগে ফিরে আসে। 

এরপর গোলের জন্য উভয় দলই মরিয়া হয়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত ৮২তম মিনিটে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায় নেপাল। ডান প্রান্ত থেকে নেয়া কর্নার সতীর্থ খেলোয়াড়ের মাথা হয়ে বিমল ঘারতি মাগারের সামনে আসতেই বা পায়ের প্লেসিংয়ে বল পাকিস্তানের জালে পাঠিয়ে দেন তিনি। আর এ গোলেই সমতায় ফেরে নেপাল। 

৮৮তম মিনিটে পাকিস্তানের মোহাম্মদ আলীর দুর্দান্ত শট ধরেন নেপালের গোলরক্ষক। পরের মিনিটে পরপর দুটি সুযোগ আসে নেপালের কাছে। কিন্তু সুনিল ও সুজালের দুটি শট দুর্দান্তভাবে রুখে দেন পাকিস্তানের গোলরক্ষক ইজাজ বাট। 

অবশেষে সকলেই যখন ধরে নিয়েছিল ড্রয়ের শেষ হচ্ছে উদ্বোধনী ম্যাচ তখনি নাটকীয়ভাবে ম্যাচ জিতে নেয় পাকিস্তান। ইনজুরি সময়ের শেষ মিনিটে মোহাম্মদ আদিলের ক্রস সাদউল্লাহর মাথা ছুঁয়ে মোহাম্মদ আলীর সামনে গেলে বল ও মাথার নিঁখুত সংযোগ করে বলকে নেপালের জালে পাঠান। এতে করে জয়োল্লাস করে পাকিস্তানের দর্শকরা। 

এ জয় নিয়ে পাকিস্তান তিনটি উদ্বোধনী ম্যাচে দুইবারই জয় তুলে নিয়েছে। ২০০৩ সালে ঢাকায় উদ্বোধনী ম্যাচে ভারতকে ১-০ গোলে পরাজিত করে। এরপর ২০০৯ সালে ঢাকায় উদ্বোধনী ম্যাচে শ্রীলংকার কাছে ১-০ গোলে পরাজিত হয়। এবার নেপালকে হারিয়ে দারুণভাবে দক্ষিণ এশিয়ার টুর্নামেন্ট শুরু করলো তিন বছরের মতো ফুটবলের বাইরে থাকা দেশটি।

ওয়াই/এএ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়