• ঢাকা মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১০ আশ্বিন ১৪২৫

‘বার্সা ও আর্জেন্টিনার মেসির মধ্যে পার্থক্য বোঝাপড়া’

স্পোর্টস ডেস্ক, আরটিভি অনলাইন
|  ২৪ আগস্ট ২০১৮, ১০:২১ | আপডেট : ২৪ আগস্ট ২০১৮, ১৫:১৩
লিওনেল আন্দ্রেস মেসি। আর্জেন্টিনা ও বার্সেলোনার প্রাণ ভোমরা। বর্তমান ফুটবল বিশ্বের সেরাদের একজন। বার্সেলোনার মেসি আর আর্জেন্টিনার মেসি এক হলেও তাকে দুভাগে বিভক্ত করে আর্জেন্টাইনরা। সকলেই বলে বার্সেলোনায় যে মেসিকে দেখা যায় আর্জেন্টিনার জার্সিতে সে মেসিকে দেখা যায় না। 

এ যেমন রাশিয়া বিশ্বকাপে দ্বিতীয় রাউন্ড থেকেই ছিটকে যায় আর্জেন্টিনা। যেখানে একেবারে নিষ্প্রভ ছিলেন মেসি। তবে আর্জেন্টিনাকে রাশিয়া বিশ্বকাপে তুলেছিলেন কিন্তু এই এলএমটেন নিজেই। কোয়ালিফায়ারের শেষ ম্যাচ অবিশ্বাস্য এক হ্যাটট্রিক করে দলকে বিশ্বকাপের টিকিট পাইয়ে দেন। 

২০১৫ ও ২০১৬ সালে আর্জেন্টিনা কোপা আমেরিকার ফাইনালে চিলির কাছে পরাজিত হয়। সে দু’বারই তার কোচ ছিলেন মার্টিনো। তার পরেই নাটকীয়ভাবে অবসর নেন মেসি। তখনই ‘এলএম ১০’ ও মার্টিনোর পথ আলাদা হয়ে যায়। অবসর থেকে ফেরেন মেসি। আর মার্টিনো পাড়ি জমান মার্কিন মুলুকে। 

মেসিকে নিয়ে বার্সেলোনা ও আর্জেন্টিনা এ দু’জায়গাতেই কোচিং করিয়েছেন এমনি একজন হচ্ছেন জেরার্দো টাটা মার্টিনো। সম্প্রতি তার এক সাক্ষাতকারে উঠে এসেছে আর্জেন্টিনা ও মেসি সম্পর্কে অনেক কথা।

রাশিয়া বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার ব্যর্থতার কারণ প্রশ্নে মার্টিনো বলেন, বিশ্বকাপে আমি আর্জেন্টিনাকে কোচিং করাইনি। তাই আমার পক্ষে বলা সম্ভব নয়। একটা কথা অবশ্য বলতে পারি, রাশিয়ায় নামার আগে আর্জেন্টিনা মানসিক দিক থেকে ধাক্কা খেয়েছিল। টানা তিনটি বড় প্রতিযোগিতার ফাইনালে পৌঁছেও ট্রফি জিততে পারেনি। ব্রাজিল বিশ্বকাপের ফাইনালে জার্মানির কাছে হারতে হয়েছিল মেসিদের। দুটো কোপা আমেরিকা ফাইনালেও মুখ থুবড়ে পড়ে আর্জেন্টিনা। আর এর ফলে ফুটবলাররা প্রচণ্ড চাপে পড়ে গিয়েছিল। এই চাপ কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি ছেলেদের পক্ষে। বারবার ফাইনালে পৌঁছে মাথা হেঁট করে মাঠ ছাড়ার ফলে ফুটবলারদের আত্মবিশ্বাসটাই নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। রাশিয়ায় সেই আত্মবিশ্বাসের অভাবই দেখা গিয়েছে।

১৯৮৬ সালের পরে আর্জেন্টিনা আর বিশ্বকাপ জেতেনি। বিশ্বকাপ জয়ের রোডম্যাপ সম্পর্কে তিনি বলেন, আর্জেন্টিনা কোন স্টাইলে খেলবে, তা নিয়ে চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই। আর্জেন্টিনার সমস্ত বয়সভিত্তিক দলগুলোর জন্য একটাই মাস্টার প্ল্যান তৈরি করা দরকার। দীর্ঘমেয়াদি একটা পরিকল্পনা থাকা দরকার। 

আর্জেন্টিনা ও বার্সেলোনার মেসির পার্থক্য বুঝাতে গিয়ে তিনি বলেন, এর পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। গঠনগত দিক থেকে বার্সেলোনা ও আমাদের জাতীয় দলের মধ্যে যথেষ্ট পার্থক্য রয়েছে। দলের সতীর্থদের মধ্যে বোঝাপড়াটা খুবই দরকারি। বার্সেলোনায় মেসি প্রায় এক দশক ধরে একই সতীর্থদের সঙ্গে খেলে চলেছে। ফলে বোঝাপড়াও ভাল। তাছাড়া সতীর্থদের ব্যক্তিগত দক্ষতার জন্য বার্সায় মেসি খোলা মনে খেলতে পারে। সব চাপ ওকে নিতে হয় না।  শুধু মেসি নয়, যে কোনও ফুটবলারকে অনুকূল পরিস্থিতিতে খেলার সুযোগ দেয়া হলে, সেই ফুটবলারের কাছ থেকে সেরাটাই সব সময় পাওয়া যায়। বার্সেলোনায় যেমন মেসি নিজেকে মেলে ধরে। জাতীয় দলে মেসি কি এই ধরনের সুযোগ সুবিধা পায়?  

এএ/ এমকে

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়