• ঢাকা বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১১ আশ্বিন ১৪২৫

টাইব্রেকার ভাগ্যে চূর্ণবিচূর্ণ রাশিয়ার স্বপ্ন

স্পোর্টস ডেস্ক, আরটিভি অনলাইন
|  ০৮ জুলাই ২০১৮, ০৩:৫০ | আপডেট : ০৮ জুলাই ২০১৮, ১০:৩৫
বিশ্বকাপের সর্বশেষ পাঁচ আসরে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা সব স্বাগতিক দেশই খেলেছে শেষ চারে। আজ ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামার আগে রাশিয়ার কাছে চাওয়া ছিল এর ধারাবাহিকতা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকার ভাগ্যে সে আশায় গুড়েবালি।নিজ দেশে রাশিয়া এখন অতিথি মাত্র। পুরো ম্যাচ জুড়ে ছিল টান টান উত্তেজনা ও নাটকীয়তায় ভরপুর। যেন সব কিছুর ডালি সাজিয়ে বসেছিল সোচি। 

যেই ক্রোয়েশিয়ার টাইব্রেকার ভাগ্য ভালো না তারাই কি না এবারের বিশ্বকাপে দুই ম্যাচে টাইব্রেকার ভাগ্যে জিতে সেমিফাইনালে! উভয় ম্যাচেই শেষ শটটি নিয়েছেন বার্সেলোনার ইভান রাকিটিচ। তার শট জালে জড়াতেই উল্লাসে মাতে গোটা ক্রোয়েট শিবির। আর এতে করে ১৯৯৮ বিশ্বকাপের পর আবারও সেমিতে উঠলো ডেভর সুকারের উত্তরসূরীরা। 

রাশিয়ার সোচিতে ২১তম বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের শেষ লড়াইয়ে বাংলাদেশ সময় রাত ১২টায় মুখোমুখি হয় ক্রোয়েশিয়া-রাশিয়া। ম্যাচের শুরুতে রাশিয়ার আক্রমণে খেই হারিয়ে ফেলে ক্রোয়েশিয়া। এরপর আস্তে আস্তে ম্যাচে ফিরে ক্রোয়েটরা। খেলার ৫ মিনিটের মাথায় ২টি সহজ সুযোগ পেলেও সেখান থেকে গোল করতে ব্যর্থ হয় রাশিয়া। আক্রমণ ভাগের ব্যর্থতার থেকে কৃতিত্ব বেশি ক্রোয়েশিয়া ডিফেন্ডারদের।

কিন্তু ম্যাচে ৩১তম মিনিটে ডেনিস চেরিশেভের গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিক রাশিয়া। জিউবার দারুণ অ্যাসিস্টে বল পায়ে নিয়ে ডি-বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ের শটে গোলপোস্টের বাঁ দিক দিয়ে জালে জড়ান ভিয়ারিয়াল স্ট্রাইকার। ডেনমার্কের বিপক্ষে শেষ ষোলোতে দারুণ সব সেভ করা সুবাসিচ বল ঠেকানোর কোনও সুযোগ তৈরি করতে পারেননি।

তবে রাশানদের এ উল্লাস বেশিক্ষণ থাকেনি। কারণ এর ঠিক আট মিনিটের মাথায় হাসি কেড়ে নেন ক্রোয়েশিয়ার আন্দ্রেই ক্রামারিচ। ম্যাচের ৩৯তম মিনিটে বাম উইং থেকে বল নিয়ে এগিয়ে আসেন মারিও মানজুকিচ। একজন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে দারুণ এক ক্রস করেন মানজুকিচ। এই ক্রসেই অসাধারণ এক হেড করেন ক্রামারিচ। তিনজন ডিফেন্ডার থাকলেও ক্রমানারিচের হেড ঠেকাতে পারেননি। গোলরক্ষক আকিনফিভকে ফাঁকি দিয়ে বল প্রবেশ করে রাশিয়ার জালে।

এরপর বেশ কয়েকটি সুযোগ পেয়েছিল রাশিয়া ও ক্রোয়েশিয়া। কিন্তু দুই দলের ডিফেন্ডারদের সজাগ দৃষ্টির কারণে কোন দল আর গোলের দেখা পায়নি।

দ্বিতীয়ার্ধে নেমে দুই দল সমানতালে লড়তে থাকে। খেলার ৫৯ মিনিটে ক্রোয়েশিয়ার সুযোগ এসেছিল এগিয়ে যাওয়ার। ইভান পারিচিচের নেওয়া শটটি গোলপোস্টে লেগে ফিরে আসে।

এদিকে বেশ কয়েকটি সুযোগও নষ্ট করে রাশিয়া। শেষ পর্যন্ত খেলার ৯০ মিনিট পর্যন্ত কোন দল গোলের দেখা না পাওয়াতে খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।

এরপর পুরো নব্বই মিনিটে কোনও গোল না হওয়ায় খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। এখানেও সেই নাটকীয়তা। ১০০তম মিনিটে ক্রোয়েশিয়ার ডোমাগজ ভিদা অসাধারণ এক হেডে গোলটি করে ক্রোয়েশিয়াকে লিড এনে দেন। রাশিয়ান গোলরক্ষক আকিনফিভের হাত থেকে ফসকে আসা বলকে কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন কুতেপভ। সেই কর্নার কিকটি নেন লুকা মদ্রিচ। সেই বলটিকেই অসাধারণ এক হেডে রাশিয়ার জালে জড়িয়ে দেন ভিদা।

খেলার ১১১ মিনিটে রাশিয়ার সুযোগ এসেছিল সমতায় ফেরার। কর্নার থেকে দুর্দান্ত এক শট নেন রাশিয়ার ১১ নম্বর জার্সি পরিহিত রোমান জোবিন। কিন্তু জোরালো শটটি দুর্দান্ত ভাবে রক্ষা করেন ক্রোয়েশিয়ার গোলকিপার ডানিজেল সুবাচিচ। ১১১ মিনিটে ডানিজেল দলকে রক্ষা করতে পারলেও ১১৪ মিনিটের সময় আর পারেননি। 

ডি-বক্সের ডান কোনে বলে হাত লাগিয়ে ফাউল করেন পিভারিক। রেফারি ফ্রি কিকের বাঁশি বাজান। শট নেন অ্যালান জাগোয়েভ। তার নিখুঁত শট থেকে ভেসে আসা বলে মাথা ছুঁইয়ে হেড করেন মারিও ফার্নান্দেস। আর এতে সমতায় ফেরে রাশিয়া। আর এতে করে ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। 

টাইব্রেকারের প্রথম শট নিতে আসেন রাশিয়ার ফেদর স্মলভের। ডান দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে ফেদরের শট ঠেকিয়ে দেন সুবাসিচ। অন্যদিকে ক্রোয়েশিয়ার ব্রজোভিচ রাশিয়ার আকিনফিভকে ফাঁকি দিয়ে বল জালে পাঠান। এতে ১-০ তে এগিয়ে যায় ক্রোয়েশিয়া। 

দ্বিতীয় টাইব্রেকার নিতে আসেন রাশিয়ার আলান জাগোয়েভ। এবার আর তিনি ভুল করেননি গোল করে এগিয়ে নেন দলকে। অপরদিকে ক্রোয়েশিয়ার কোভাসিচের শট ঠেকিয়ে দেন রাশিয়ার আকিনফিভ। এতে দুই শট পর স্কোর দাঁড়ায় ১-১ এ। 

তৃতীয় শট নিতে আসেন রাশিয়ার মারিও ফার্নান্দেস। কিন্তু তিনি চাপের কাছে নতি স্বীকার করে বারপোস্টের বাহিরে শট করে বসেন। অপরদিকে ক্রোয়েট অধিনায়ক লুকা মদ্রিচ গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। এতে তিন শট পর স্কোর দাঁড়ায় ২-১ এ। 

চতুর্থ শট নিতে আসেন রাশিয়ার সের্গেই ইগনাশেভিচ তিনি শট থেকে গোল করেন। অপরদিকে ক্রোয়েশিয়ার ভিদাও তার শট থেকে গোল আদায় করে নেন। এতে চার শট পর স্কোর দাঁড়ায় ৩-২ এ। 

পঞ্চম শট নিতে আসেন রাশিয়ার দালের কুজিয়ায়েভ। তিনি স্পট কিক থেকে গোল করলে দলের স্বপ্ন জিইয়ে থাকে। কিন্তু শেষ শটে ইভান রাকিটিচ গোল আদায় করে নিয়ে স্বপ্ন ভাঙে রাশিয়ার সেই সঙ্গে দর্শক হয়ে যায় স্বাগতিকরা। 

এ জয়ের ফলে ২০ বছর পর আবারও ফুটবলের সর্বোচ্চ প্রতিযোগিতায় সেরা চারে উঠলো ক্রোয়েশিয়া। আগামী ১১ জুলাই মস্কোর লুঝিনিকি স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত বারোটায় দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড ও ক্রোয়েশিয়া। এর আগে ১০ জুলাই সেইন্ট পিটার্সবার্গ স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত বারোটায় প্রথম সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে ফ্রান্স ও বেলজিয়াম।

এএ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়