২৮ বছর পর সেমির স্বপ্ন ইংল্যান্ডের সামনে

প্রকাশ | ০৭ জুলাই ২০১৮, ১৩:৫৪ | আপডেট: ০৭ জুলাই ২০১৮, ১৪:০২

স্পোর্টস ডেস্ক, আরটিভি অনলাইন

রাশিয়া বিশ্বকাপ থেকে ইতোমধ্যে বাদ পড়েছে ল্যাটিন আমেরিকার দলগুলো। তাই আজ থেকে বিশ্বকাপের মূল লড়াই হবে ইউরোপিয়ানদের মধ্যে। আজ কোয়ার্টার ফাইনালের তৃতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড ও সুইডেন। ইউরোপিয়ান ফুটবলের দৃষ্টিকোণ থেকে কঠিনতম এক ম্যাচ। দুই দলের লড়াইয়ের পরিসংখ্যান সমানে-সমান। সামারা অ্যারেনায় ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশ সময় রাত আটটায়। 

টাইব্রেকার ভাগ্য সবসময়ই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ছিল। কলম্বিয়ার বিপক্ষে সেই ভাগ্য পরীক্ষায় সফল তারা। আর এ কারণে ৫২ বছর পর শিরোপা জয়ের জন্য মুখিয়ে থ্রি লায়নসরা। অপরদিকে ২৮ বছর পর বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠার হাতছানি ইংল্যান্ডের সামনে। তাই আজ সুইডেনকে হারিয়ে সেমিতে উঠতে চায় তারা।
--------------------------------------------------------
আর পড়ুন : ফ্রিতে পিএসজিতে যোগ দিলেন বুফন
--------------------------------------------------------

বিশ্বকাপ থেকে ল্যাটিন দলগুলো বিদায়ের পর এবার পঞ্চমবারের মতো সর্ব ইউরোপীয় সেমিফাইনাল দেখবে ফুটবল বিশ্ব। নিজেদের মধ্যেকার লড়াইয়ের পর ফিফা বিশ্বকাপের ২১তম আসরের সোনালি শিরোপাটাও শেষ পর্যন্ত থাকছে ইউরোপিয়ানদের ঘরেই।

তারকাখ্যাতি ও শক্তির বিচারে সুইডেনের বিপক্ষে এগিয়ে থেকেই মাঠে নামবেন হ্যারি কেনরা। কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার পথে ইংলিশরা দুর্দান্ত খেলেছে। নিজেদের গ্রুপ থেকে রানার্সআপ হয়ে ওঠা ইংল্যান্ড সুন্দর ফুটবলে সবার মন ভরিয়েছে। অধিনায়ক হ্যারি কেনের ওপরই এ ম্যাচের স্পটলাইট থাকবে। তিন ম্যাচে ছয় গোল করে তিনিই বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুট জেতার সবচেয়ে বড় দাবিদার। 

সুইডিশদের বিপক্ষে ম্যাচেও থ্রি লায়নরা জিতবে বলে বিশ্বাস ইংলিশ কোচ গ্যারেথ সাউথগেটের, পেনাল্টি শুটআউটে বিশ্বকাপে প্রথম জয় পেয়েছি। আশা করি, শেষ চারে ওঠার পথেও ইংলিশদের বড় সাফল্য উপহার দিতে পারব। ইংলিশ ডিফেন্ডার জন স্টোনস আরও একধাপ এগিয়ে বললেন বিশ্বকাপ জেতার স্বপ্নের কথা, আমরা ট্রফি নিয়ে ফিরতে চাই।

যদিও এর আগে বিশ্বকাপে আটটি কোয়ার্টার ফাইনালের ছয়টিতে হারার বিবর্ণ রেকর্ডও এখন চোখ রাঙাতে পারছে না ইংলিশদের। ১৯৬৬ সালের পর দেশকে আরেকটি বিশ্বকাপ এনে দেয়ার বড় স্বপ্নই দেখছে থ্রি লায়নরা।

তবে সুইডেনকে হিসাব থেকে বাদ দিলে ভুল হবে। জার্মানির গ্রুপ থেকে চ্যাম্পিয়ন হয়ে শেষ ষোলোয় উঠেছিল সুইডেন। শেষ ষোলোর ম্যাচে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ১-০ গোলের জয়ে শেষ আটে এসেছে সুইডিশরা। ১৯৫৮ সালে বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলা সুইডেন নিজেদের বিশ্বকাপ সম্ভাবনা টিকিয়ে রাখতে মরিয়া হয়েই লড়বে আজ। 

অন্যদিকে ইংলিশ মিডিয়ার হাঁকডাকের দাঁতভাঙা জবাব দিতে চান সুইডিশ অধিনায়ক আন্দ্রেয়াস গ্রাংকভিস্ত, ইংল্যান্ড নাকি জয়ের ব্যাপারে ৯৯ শতাংশ নিশ্চিত! শুনেই আমার হাসি পাচ্ছে। মাঠেই আমরা বুঝিয়ে দেব বলার চেয়ে করাটা কত কঠিন।

পরিসংখ্যানে দুই দল
ফিফা র‌্যাংকিংয়ের ১২ নম্বর দল ইংল্যান্ড। অপরদিকে ইংলিশদের থেকে দ্বিগুন পিছিয়ে ২৪ নম্বরে আছে সুইডেন। অতীতে সর্বমোট ২৪ বার মুখোমুখি হয়েছে ইংল্যান্ড-সুইডেন। যার মধ্যে সাতটিতে জয় পেয়েছে সুইডেন, আটটিতে জয় পেয়েছে ইংল্যান্ড। বাকি নয় ম্যাচ ড্র হয়। ২০০২ ও ২০০৬ সালে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে মুখোমুখি হয়েছিল ইংল্যান্ড ও সুইডেন। দুবারের দেখায়ই ড্র হয়। ২০০২ সালে ১-১। ২০০৬ সালে ২-২। ২০১২ সালে এক আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে শেষ দেখা হয়েছিল এই দুই দলের। সেবারে ৪-২ গোলে ইংল্যান্ডকে হারিয়েছিল সুইডেন।

টুর্নামেন্টে মোটে দুটি গোল হজম করেছে সুইডেন। এখন পর্যন্ত এই বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম চার ম্যাচে নয়টি গোল করেছে ইংল্যান্ড।চলতি বিশ্বকাপে গোলদাতাদের তালিকায় সবার শীর্ষে আছেন হ্যারিকেইন। এখন পর্যন্ত ছয়টি গোল করেছেন ইংলিশ অধিনায়ক ।

বিশ্বকাপে কখনও টাইব্রেকারে না জেতা ইংলিশদের ফাঁড়াও কাটলো এবার। শেষ ষোলোর ম্যাচে টাইব্রেকারের অগ্নিপরীক্ষায় শেষ পর্যন্ত কলম্বিয়ার বিপক্ষে জয় পায় হ্যারিকেনের দলই।বিশ্বকাপের নিজেদের ৬ ম্যাচের ৫টিতে কোন গোল খায়নি সুইডেন। অপরদিকে বিশ্বকাপের শেষ ১৫ ম্যাচের ১৪টিতেই অপরাজিত ইংল্যান্ড।

হলুদ কার্ডের কারণে কোয়ার্টার ফাইনালে নিষিদ্ধ ছিলেন সুইডিশ মিডফিল্ডার সেবাস্তিয়ান লারসন। আজ সুইডেন একাদশে ফিরবেন এই তারকা। অপরদিকে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখায় আজ মিকায়েল লুসতিগকে পাচ্ছে না সুইডেন।

ইংল্যান্ডের জর্ডান হেন্ডারসন, কাইল ওয়াকার, রুবেন লফটাস-চিক ও জেসি লিনগার্ড ইতিমধ্যে একটি করে হলুদ কার্ড দেখেছেন। আজ আর একটি হলুদ কার্ড দেখলেই পরের ম্যাচে নিষিদ্ধ হবেন তারা। দুই জয় এবং এক হার নিয়ে গ্রুপ রানার্সআপ হয়ে নক-আউটে উঠে ইংলিশরা। অপরদিকে সমান সংখ্যাক জয় নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠে সুইডেন।

আর পড়ুন : 

এএ/ এমকে