• ঢাকা শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৬ আশ্বিন ১৪২৫

আর্জেন্টিনার হট সিটের আরেক প্রার্থী কেম্পেস

স্পোর্টস ডেস্ক, আরটিভি অনলাইন
|  ০৬ জুলাই ২০১৮, ১৫:২১ | আপডেট : ০৬ জুলাই ২০১৮, ১৭:০৫
নক আউট পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছে দু’বারের চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। আর এতে করে শিরোপার না পাওয়ার আক্ষেপ গিয়ে ঠেকেছে ৩৬ বছরে। আর এতে করে কোচের ম্যাচ পরিকল্পনা দল সাজানোর অদক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এমনকি বিশ্বকাপ চলাকালীন সময়েই জাতীয় দলের খেলোয়াড়রাও তাকে বরখাস্ত করতে দেশটির ফুটবল ফেডারেশনকে অনুরোধ জানিয়েছিল। 

বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর আর্জেন্টিনার এই কোচকে এখনও বরখাস্ত করা হয়নি। আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ-ব্যর্থতা মেনে নিতে পারছেন না দলটির শুভাকাঙ্ক্ষী ও ভক্তরা। ক্ষোভে ফুঁসছেন আর্জেন্টিনার সাবেক কিংবদন্তিরাও। নতুন খবর, আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের কোচ হতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বিশ্বকাপ জয়ী সাবেক স্ট্রাইকার মারিও কেম্পেস। যার হাত ধরে আর্জেন্টিনার তাদের প্রথম বিশ্বকাপ ট্রফি ঘরে তোলে। 

--------------------------------------------------------
আরও পড়ুন : মিরান্ডার হাতে ফিরে এলো ব্রাজিলের আর্মব্যান্ড
--------------------------------------------------------

আবশ্য এর আগেই বিনা পয়সায় জাতীয় দলের দায়িত্ব নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন দিয়াগো ম্যারাডোনা। শুধু ম্যারাডোনা নন, আর্জেন্টিনার দায়িত্ব নেয়ার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেন আর্জেন্টিনার সাবেক ফরোয়ার্ড পেরু জাতীয় দলের বর্তমান কোচ রিকার্ডো গারেকা এবং আর্জেন্টিনার সাবেক অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার রিভারপ্লেটের কোচ মার্সেলো গালার্দো। গারেকার কোচিংয়ে এবার রাশিয়া বিশ্বকাপে পেরু খেলেছে ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া আর ডেনমার্কের বিপক্ষে।

গত এক যুগে যেখানে আর্জেন্টিনা পাল্টেছে ৮জন কোচ, সেখানে জার্মানী পরিবর্তন করেছে একজন। অথচ এত পরিবর্তনের পরেও দলটিকে গুছিয়ে নিতে পারেননি কোনও কোচ। মেসির মতো সর্বকালের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় থাকার পরও সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ এ কোচরা। 

এখানেই কোচের দৌড় থেমে থাকেনি। শেষ খবর বলছে, সাম্পাওলি যেকোনো মুহূর্তে পদত্যাগ করতে পারেন বা তাকে ছাঁটাই করা হতে পারে। তার জায়গায় নতুন কোচ হিসেবে স্থলাভিষিক্ত হতে পারেন সদ্যই ইংলিশ প্রিমিয়ারে ম্যানচেস্টার সিটিকে শিরোপা পাইয়ে দেয়া স্প্যানিশ কোচ পেপ গার্দিওলা।

নিজ দলের শিরোপা খরার ব্যাপারটি হয়ত নাড়া দিয়েছে ১৯৭৮ বিশ্বকাপজয়ী কেম্পেসকে। তাই তো তিনি সরাসরি আগ্রহ প্রকাশ করেছেন আলবিসেলেস্তেদের দায়িত্ব নেয়ার জন্য। এক সংবাদ সম্মেলনে ৬৩ বছর বয়সী মারিও কেম্পেস জানান, আর্জেন্টিনার জাতীয় দলকে কোচিং করানো মোটেই সহজ নয়। কারণ, আপনার দিকে খেলোয়াড়রা ছাড়াও পুরো দেশ তাকিয়ে থাকবে। তারপরও আমি চাইছি নিজ দেশের কোচ হতে। আর্জেন্টিনা ফুটবল ফেডারেশন চাইলে আমি জাতীয় দলের দায়িত্ব নিতে রাজী আছি।

তবে কোচের তালিকায় আরও দু’জনের নাম উঠে এসেছে। তারা হলেন অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদের কোচ ডিয়াগো সিমিওনে আর টটেনহামের মাউরিচিও পচেত্তিনো। 

কেম্পেস খেলোয়াড় জীবনে আর্জেন্টিনার জার্সিতে খেলেছেন ১৯৭৩ থেকে ১৯৮২ পর্যন্ত। জাতীয় দলের জার্সিতে ৪৩ ম্যাচ খেলে গোল করেছেন ২০টি। ক্লাব ক্যারিয়ারে খেলেছেন ৫৫৫টি ম্যাচ, যেখানে তার গোল সংখ্যা ৩০০টি। ১৯৯৫ সালের পর থেকে কেম্পেস সাতটি ক্লাবকে কোচিং করিয়েছেন। তবে, ২০০২ সালের পর থেকে তিনি কোনও ক্লাব কিংবা জাতীয় দলকে কোচিং করাননি।

তবে কেম্পেসের ভাগ্য সুপ্রসন্ন হতে পারে। ১৯৭৮ বিশ্বকাপ ফাইনালে জোড়া গোল করেছিলেন সাবেক এই স্ট্রাইকার। সেবার ‘গোল্ডেন বুট’ জয়ের সঙ্গে ‘গোল্ডেন বল’ও জিতেছিলেন কেম্পেস। 

এদিকে, সাম্পাওলিকে বরখাস্ত করাও সহজ নয় আর্জেন্টিনার ফুটবল ফেডারেশনের। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ পর্যন্ত আর্জেন্টিনার সঙ্গে চুক্তি আছে তার। তার আগে সাম্পাওলিকে বরখাস্ত করলে ফেডারেশনটিকে গুনতে হবে ২০ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণ। আর্জেন্টিনা ফুটবল ফেডারেশনের যে আর্থিক দুরবস্থা, তাতে এ মুহূর্তে ২০ মিলিয়ন ডলার দেয়ার সাধ্য নেই তাদের। তাই সাম্পাওলি টিকে যেতে পারেন পরের বছর ব্রাজিলে হতে যাওয়া কোপা আমেরিকার আসর পর্যন্ত। 

আরও পড়ুন :

এএ/জেএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়