
‘ডু অর ডাই’ ম্যাচে মাঠে খেলছিলো আর্জেন্টিনা-নাইজেরিয়া। এ কোনও যুদ্ধের মাঠ নয় যে ঢাল-তলোয়ার নিয়ে একে অপরের বিপক্ষে নেমে পড়েছে খোলা মাঠে। এটা একটি বল নিয়ে ২২ জন খেলোয়াড়ের ৯০ মিনিটের যুদ্ধ। কিন্তু একি! মাঠে যে একজন রক্তাক্ত ব্যক্তি খেলে যাচ্ছেন। কিন্তু তার সেদিকে কোনও ভ্রুক্ষেপ নেই।
কখনও মাঠের উপর থেকে নিচে, ডান থেকে বামে সকল দিকে সমান তালে দৌড়াচ্ছেন। কখনও কখনও তাকে দেখা গেছে দলের সতীর্থদের উৎসাহ দিতে। দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ খেলোয়াড় যে তিনি। আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে সর্বাধিক ম্যাচ খেলছেন তিনি। হ্যাঁ, কথা বলছি জাভিয়ার মাসচেরানোর কথা। যাকে গতকালের ম্যাচে বার বার দেখা যাচ্ছিল, রক্তাক্ত গাল নিয়ে পুরো মাঠ জুড়ে খেলতে।
সেন্ট পিটার্সবার্গে খেলতে নেমে ম্যাচের শুরুতেই মেসির জাদুকরী ছোঁয়াতে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। পরে এই মাসচেরানোর ভুলেই পেনাল্টি থেকে গোল খেতে হয় আলবেসিলেস্তেদের। পেনাল্টি থেকে গোলের পর ক্যামেরায় বারবার ধরা পড়ছিল তার অশ্রু ভেজা দুটি চোখ।
--------------------------------------------------------
আরও পড়ুন: নাটক না করতে নেইমারকে জিকোর আহ্বান
--------------------------------------------------------
কি ট্যাকল, কি ইন্টারসেপ- সবই নিখুঁতভাবে করে যাচ্ছিলেন। দলকে গোল থেকে বাঁচাচ্ছেন। আবার গোলের জন্য মেসি-হিগুয়াইন-আগুয়েরোদের বল তৈরি করে দিচ্ছিলেন। ম্যাচের ৬০তম মিনিটে নাইজেরিয়ার খেলোয়াড়দের আক্রমণ ঠেকাতে গিয়ে মুখ কিছুটা থেঁতলে যায় মাচেরানোর। ডান চোখের ওপর, কপালে বড় একটা অংশ কেটে যায়। গলগলিয়ে রক্ত চোখের পাশ বেয়ে পড়তে থাকে থুতুনি বেয়ে।

এ অবস্থায় খেলা চালিয়ে যেতে দেখে সতীর্থ এভার বানেগা তার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন। যেনো তিনি বলেছিলেন যাও অন্তত মুখটা মুছে আসো। অথচ মাসচেরানো তার কথাটা হেসেই উড়িয়ে দিলেন।
অবশেষে রক্তমাখা মুখ মুছলেন ঠিকই ৮৬ মিনিটে মার্কাস রোহোর গোলের পর। রক্তমাখা মুখেই নাইজেরিয়ার পাওয়ার ফুটবলকে মোকাবেলা করে জয় ছিনিয়ে তবেই ক্ষ্যান্ত হলেন দ্য ট্যাকেল মাস্টার। সবশেষে বলাই চলে মাসচেরানোর রক্ত বৃথা যায়নি। দুর্দান্ত জয়ে নিশ্চিত করেছে নক আউট। নতুন জয়ে নতুন প্রত্যাশায় আশা বাঁধতেই পারে সমর্থকরা।
আরও পড়ুন:
এএ/পি




