• ঢাকা বুধবার, ২০ জুন ২০১৮, ০৬ আষাঢ় ১৪২৫

বিশ্বকাপে অংশ নিয়েও যারা গোল করেনি

স্পোর্টস ডেস্ক, আরটিভি অনলাইন
|  ১৩ জুন ২০১৮, ১৩:২৯
বিশ্বকাপ মানেই বিশেষ কিছু। বিশ্বকাপ মানে দীর্ঘ স্বপ্নের এক দারুন বাস্তবায়ন। কেউ কেউ এই স্বপ্নকে স্মরনীয় করে রেখেছে অসাধারণ সাফল্য দিয়ে। আর কেউ কেউ লজ্জার রেকর্ডে নাম লিখিয়ে স্বপ্নকে করে ফেলেছে বিস্মরণযোগ্য। এমনই একটি রেকর্ড হচ্ছে বিশ্বকাপে গোল করতে না পারা। এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপের আসরে এমন পাঁচটি দেশকে দেখা গেছে যারা পায়নি একটিও গোলের দেখা। 

ডাচ ওয়েস্ট ইন্ডিজ
নাম কিছুটা অপরিচিত লাগলেও দেশটি আমাদের একেবারেই অজানা নয়। বর্তমানে এটি পরিচিত ইন্দোনেশিয়া নামে। ১৯৩৮ সালের বিশ্বকাপে যখন পৃথিবীর এই ভূখণ্ডটি নাম লেখায়, তখন অবশ্য এটি ছিল নেদারল্যান্ডসের অধীনে। আর তখন তাদের নাম ছিল ডাচ ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সেই নামে একবারই বিশ্বকাপে অংশ নিতে পেরেছিল ইন্দোনেশিয়ানরা। সেবার তারা খেলেছিল মাত্র একটি ম্যাচ। আর হাঙ্গেরির বিপক্ষে সেই ম্যাচটি হেরেছিল ৬-০ গোলের বড় ব্যবধানে।

জায়ারে
বর্তমানে কঙ্গো নামের আফ্রিকান দেশটি ১৯৭৪ সালের বিশ্বকাপে অংশ নেয়। তখন দেশটির নাম ছিলো জায়ারে। বিশ্বকাপে মোট তিনটি ম্যাচ খেলে তারা। প্রথম ম্যাচে স্কটল্যান্ডের মুখোমুখি হয়ে দুর্দান্ত খেললেও হেরে যায় ২-০ গোলে। সেসময় দেশটির স্বৈরশাসক ব্যাপক ক্ষেপে গিয়েছিলেন ফুটবলারদের এমন পারফরম্যান্স দেখে। তাদের বলে দেয়া হয়েছিল যে, তারা বিশ্বকাপে খেলার জন্য কোনো প্রকার অর্থ পাবে না। হতাশ জায়ারে খেলোয়াড়রা পরের ম্যাচে ৯-০ গোলে হেরে যায় যুগোস্লাভিয়ার কাছে। আর শেষ ম্যাচে শক্তিশালী ব্রাজিলের মুখোমুখি হয়ে হেরে যায় ৩-০ গোলে। এরপরে আর কখনও বিশ্বকাপে দেখা যায়নি দেশটিকে।

কানাডা
বিশ্বকাপে গোল করতে না পারা আরেকটি দেশ কানাডা। ১৯৮৬ সালে প্রথম ও শেষবারের মতো বিশ্বকাপ খেলেছিল দেশটি। সেবার প্রথম ম্যাচে কানাডা ফ্রান্সের কাছে হেরে যায় ১-০ গোলে। পরের ম্যাচে ব্যবধানটা একটু বাড়ে। হাঙ্গেরির বিপক্ষে এবার কানাডার হার ২-০ গোলে। আর গ্রুপ পর্বে নিজেদের সবশেষ ম্যাচে সোভিয়েত ইউনিয়নের কাছে ২-০ গোলে হেরে শেষ হয় কানাডার বিশ্বকাপ যাত্রা।

ত্রিনিদাদ এন্ড টোবাগো
বাংলাদেশের মানুষের কাছে এই দেশটির পরিচয় ব্র্যায়ান লারার দেশ হিসেবে। প্রধান খেলা ক্রিকেট হলেও ফুটবলটাও একেবারে খারাপ খেলে না ছোট্ট ক্যারাবিয়ান দ্বীপটি। তারই প্রমান ২০০৬ সালের বিশ্বকাপে অংশ নেয়া। অন্য দেশগুলোর মতো ত্রিনিদাদ এন্ড টোবাগোও কোনো গোল করতে পারেনি। কিন্তু অন্য দেশেগুলোর মতো তারা সবগুলো ম্যাচে হারের মুখ দেখেনি। নিজেদের প্রথম ম্যাচেই তারা সুইডেনের সাথে গোলশূন্য ড্র করে। পরের দুই ম্যাচে ইংল্যান্ড এবং প্যারাগুয়ে উভয় দলের কাছে ২-০ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয় ত্রিনিদাদ।

চীন
বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ। অন্যান্য অলিম্পিক ইভেন্টে প্রচুর সাফল্য পেলেও ফুটবলে চীন সাফল্য খরায় ভুগছে দীর্ঘদিন ধরে। ২০০২ সালের বিশ্বকাপ এখন পর্যন্ত তাদের অংশ নেয়া একমাত্র বিশ্বকাপ। আর সেই আসরে গোলের খাতা খুলতে পারেনি চীন। প্রথম ম্যাচে কোস্টারিকার কাছে তারা হেরেছিল ২-০ গোলে। ব্রাজিলের কাছে ৪-০ গোলে আর তুরস্কর কাছে ৩-০ গোলে হেরে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল চীনকে।

এএ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়