• ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৫ আশ্বিন ১৪২৫

হেক্সা মিশন সম্পন্ন করতে মরিয়া ব্রাজিল

স্পোর্টস ডেস্ক, আরটিভি অনলাইন
|  ১২ জুন ২০১৮, ১৬:৪৮
ব্রাজিল জাতীয় ফুটবল দল হচ্ছে আন্তর্জাতিক ফুটবলে ব্রাজিলের প্রতিনিধিত্বকারী ফুটবল দল।  এই দলটিকে নিয়ন্ত্রণ করে ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ)। ১৯২৩ সালে আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা ফিফা’র সদস্য হয়। এর পূর্বেই ১৯১৬ সাল থেকে দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবল কনফেডারেশন কনমেবলের অন্যতম সদস্য দেশ। ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে সফলতম দলটি হচ্ছে ব্রাজিল। এ পর্যন্ত দলটি পাঁচবার (১৯৫৮, ১৯৬২, ১৯৭০, ১৯৯৪ ও ২০০২) বিশ্বকাপ জয় করেছে যা একটি রেকর্ড। ফুটবলের ব্যাপারে একটি সাধারণ উক্তি হচ্ছে: ‘The English invented it, the Brazilians perfected it.’ অর্থাৎ, ‘ইংল্যান্ডের আবিষ্কার, আর ব্রাজিলের পরিপূর্ণতা দান’। এখন পর্যন্ত ব্রাজিল-ই একমাত্র দল যারা বিশ্বকাপের সবগুলো আসরেই অংশগ্রহণ করেছে।

ব্রাজিলের জাতীয় দলটি তাদের প্রথম খেলাটি খেলে ১৯১৪ সালে। ব্রাজিলের রিউ দি জানেইরু ও সাঁউ পাউলু দলের মধ্য থেকে নির্বাচিত একটি দল ইংল্যান্ডের এক্সটার সিটি ফুটবল ক্লাবের সাথে একটি খেলায় অংশ নেয়। ফ্লামিনিনেস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ওই খেলায় ব্রাজিল ২-০ গোলে জয়ী হয়। ভবিষ্যতের গৌরবোজ্জ্বল সাফল্যের তুলনায় শুরুর দিকে দলটির উপস্থিতি ছিলো খুবই নগণ্য। ব্রাজিলীয় ফুটবলে পেশাদারিত্বের অভাবের কারণে একটি শক্তিসম্পন্ন দল গঠন করতে ব্রাজিলীয় ফুটবল ফেডারেশন তখন ব্যর্থ হয়েছিলো।

সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ১৯৫৪ সালের ফিফা বিশ্বকাপে ব্রাজিল দল পূর্ণাঙ্গভাবে আত্মপ্রকাশ করে। গেল আসরের মারাকানায় পরাজিত হওয়ার বেদনা ভুলে নিল্টন সাঁতোস, দালমা সাঁতোস, দিদি’র ন্যায় একগুচ্ছ প্রতিভাবান ফুটবলারদেরকে নিয়ে অংশগ্রহণ করে। কিন্তু, দলটি খুব বেশি দূর অগ্রসর হতে পারেনি। কোয়ার্টার-ফাইনালে শীর্ষস্থানীয় হাঙ্গেরি দল ৪-২ ব্যবধানে ব্রাজিলকে পরাজিত করে। এ খেলাটি ফুটবলের ইতিহাসে সবচেয়ে কদর্যপূর্ণ খেলারূপে বিবেচিত হয় ও অমর্যাদাকরভাবে বার্নের যুদ্ধ নামে পরিচিতি পায়।

মারাকানাজ্জোর পর মিনেইরোজ্জো- ট্র্যাজেডির পর ট্র্যাজেডি। ব্রাজিলে বিশ্বকাপের আয়োজন মানেই যেন তাদের নিজেদের জন্য একটা অভিশাপ, একটা ট্র্যাজেডি। ১৯৫০ সালের পর ২০১৪- যেন একই সুতোয় বাধা, একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি। ফুটবলের তীর্থভূমিকে কাঁদিয়ে ১৯৫০ সালে বিশ্বকাপ জিতে নিয়েছিল উরুগুয়ে। ৬৪ বছর সেই তীর্থভূমিতেই আবার ফিরে এসেছিল বিশ্বকাপ। এবারও ব্রাজিলজুড়ে ‘হেক্সা’ বরণের প্রস্তুতি।

নেইমারের কাঁধে ভর করেই সেই আশার তরি বেয়ে চলছিল যেন তরতর গতিতে। কিন্তু কোয়ার্টার ফাইনালে কলম্বিয়ার জুনিগা হাঁটু বসিয়ে দিলো নেইমারের পাঁজরে। ভেঙে গেলো হাঁড়। এরপর সব শেষ। সব আশা-ভরসা যেন ধুলিস্যাৎ হয়ে গিয়েছিল। যে স্কলারি ২০০২ বিশ্বকাপে ব্রাজিল জাতীয় হিরোদের ছবি আর ভিডিও দেখিয়ে রোনালদোদের উজ্জীবিত করেছিলেন, বিশ্বকাপ জয়ে রেখেছিলেন অসাধারণ ভুমিকা; সেই স্কলারি কোনোভাবেই পারলেন না নেইমারহীন ব্রাজিলকে চাঙ্গা করে তুলতে। সুতরাং, সেমিফাইনালে বেলো হরাইজন্তের এস্টাডিও মিনেইরোয় জার্মানির কাছে ৭-১ গোলে স্রেফ খড়-কুটোর মত উড়ে গেলো ব্রাজিল। নেইমারের না থাকার আবেগ একটাই ভর করেছিল যে, ব্রাজিল ফুটবল দল আর ঘুরেই দাঁড়াতে পারেনি। রচিত হয়ে গেলো আরও একটি ট্র্যাজেডি।

মিনেইরোজ্জো ট্র্যাজেডির পর একটা অন্ধকার সময়ই অতিবাহিত করেছে ব্রাজিল। স্কলারির মত কোচকে বিদায় নিতে হয়েছে চোখের পানিতে। ফিরিয়ে আনা হয়েছিল দুঙ্গাকে। ব্রাজিল ফুটবলের সমর্থকরা মনে করেন, দুঙ্গার হাত ধরেই মৃত্যু ঘটেছে তাদের ‘জোগো বোনিতো’র। দুই বছর দুঙ্গা তার কুৎসিৎ ফুটবল দিয়ে চেষ্টা করেছিলেন ব্রাজিলকে তুলে ধরতে; কিন্তু পারেননি। অবশেষে নিয়ে আসা হলো তিতেকে। এই তিতেই যেন জাদুর কাঠি। যার ছোঁয়ায় বদলে যেতে শুরু করে ব্রাজিল। মৃত জোগো বোনিতোকে ফিরিয়ে আনলেন তিনি। সঙ্গে মিশ্রন ঘটালেন আধুনিক গতিময় ফুটবলের। ইউরোপের গতিময় ফুটবলের সঙ্গে সৌন্দর্যের মিশ্রন, ব্রাজিলকে এখন নতুন স্বপ্ন দেখাচ্ছে। তিতের অধীনেই দুর্দমনীয় গতিতে এগিয়ে চলছে ব্রাজিল। সবার আগে বিশ্বকাপে নাম লেখানো, কিংবা একের পর এক ম্যাচ জেতার কারণে রাশিয়া থেকে হেক্সা জয়ের স্বপ্ন দেখছে ব্রাজিলিয়ানরা। তিতের সবচেয়ে বড় সাফল্য, দলটি এখন আর একা নেইমার নির্ভর নয়। নেইমার ছাড়াও ব্রাজিল এখন অনেক শক্তিশালি এবং যে কোনো দলকে হারানোর ক্ষমতা রাখেন।

বিশ্বকাপ মানেই ব্রাজিল হচ্ছে শ্বাশ্বত ফেভারিট। অন্য কোন দলের ক্ষেত্রে এই বিশেষণ যোগ করা যায় না। বিশ্বকাপের অলিখিত নিয়মই যে, প্রথম ফেভারিট ব্রাজিল, তারপর অন্যরা। এ নিয়ে ১৯৯৮ বিশ্বকাপের আগে দারুণ এক মন্তব্য করেছিলেন সাবেক জার্মান ফুটবলার রুডি ফোলার, ‘যদি ভালো খেলা দল বিশ্বকাপ জিতত, তাহলে চারবার নয়, ব্রাজিল বিশ্বকাপ জিতত চৌদ্দবার।’ মাঠে নান্দনিক ফুটবল আর গ্যালারিরে সাম্বা না হলে বিশ্বকাপের অর্ধেক আনন্দই যেন মাটি। নান্দনিক ফুটবলের অনুপম প্রদর্শনীতে মোহাচ্ছন্ন হয়ে ওঠে বিশ্ব। তার সঙ্গে গ্যালারির সাম্বায় মাতোয়ারা হয় বিশ্ববাসী। এবারও বিশ্বকে মোহাচ্ছন্ন করার সকল উপকরণ নিয়েই প্রস্তুত ব্রাজিলিয়ানরা।

সামর্থ্য থাকার পরেও ব্রাজিল চৌদ্দবার বিশ্বকাপ জেতেনি। তারপরও বিশ্বকাপ থেকে সাম্বা দেশের যা অর্জন, তার ধারেকাছেও নেই কেউ। সর্বাধিক পাঁচবার বিশ্বকাপ জিতেছে তারা। সবার আগে তিনবার বিশ্বকাপ জেতার সুবাদে জুলেরিমে ট্রফি চিরস্থায়ীভাবে নিজেদের করে নিয়েছে সেলেসাওরা। এমনকি প্রতিটি বিশ্বকাপে অংশ নেয়া একমাত্র দেশটিও ব্রাজিল।

বিশ্বকাপের প্রায় চার মাস আগে ইনজুরিতে দলের সেরা খেলোয়াড় নেইমার। ইতোমধ্যেই অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। এমনকি সুস্থও হয়ে উঠছেন। বিশ্বকাপের আগেই সুস্থ হয়ে উঠছেন তিনি। ব্রাজিলের পোস্টার বয় বলা হচ্ছে তাকে। কিন্তু কোচ তিতে দলটাকে কোনো নির্দিষ্ট ফুটবলার নির্ভর করে গড়ে তোলেননি। গ্যাব্রিয়েল জেসুস, ফিলিপ কৌতিনহো, রবার্তো ফিরমিনো, উইলিয়ান, ডগলাস কস্তা, পওলিনহো, মার্সেলো, আলভেজ, মিরান্দা, ডেভিড সিলভার মত বিশ্বসেরা ফুটবলার রয়েছে তার স্কোয়াডে। তার চেয়েও বেশি, তিতে জানেন দলকে একতাবদ্ধ করে কিভাবে সাফল্য বয়ে নিয়ে আসা যায়। এ কারণে, রাশিয়ায় বিশ্বকাপের টপ ফেবারিটের তালিকায় বার বার উঠে আসছে ব্রাজিলের নাম। রাশিয়া থেকে যদি ১৫ জুলাই ট্রফিটা ব্রাজিল উঁচিয়ে ধরে, তাহলে অবাক হওয়ার কিছুই নেই।

ডাকনাম

:

ক্যানারিনিয়ো, আ সেলেসাও, ভের্দে-আমারেলা, দ্য সাম্বা কিংস, পেন্টাচ্যাম্পিয়োয়েস

অ্যাসোসিয়েশন

:

কনফেদারাকাও ব্রাসিলিরা দে ফুতবল

কনফেডারেশন

:

কনমেবল (দক্ষিণ আমেরিকা)

হেড কোচ

:

তিতে

অধিনায়ক

:

গ্যাব্রিয়েল জেসুস

সর্বাধিক ম্যাচ

:

কাফু (১৪২)

সর্বাধিক গোলদাতা

:

পেলে (৭৭)

হোম ভেন্যু

:

মারাকানা স্টেডিয়াম

বর্তমান র‌্যাংকিং

:

০২

সেরা সাফল্য

:

চ্যাম্পিয়ন ১৯৫৮, ১৯৬২, ১৯৭০, ১৯৯৪, ২০০২

বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ

:

১৯৩০, ১৯৩৪, ১৯৩৮, ১৯৫০, ১৯৫৪, ১৯৫৮, ১৯৬২, ১৯৬৬, ১৯৭০, ১৯৭৪

১৯৭৮, ১৯৮২, ১৯৮৬, ১৯৯০, ১৯৯৪, ১৯৯৮, ২০০২, ২০০৬, ২০১০, ২০১৪, ২০১৮

সেরা খেলোয়াড়

:

নেইমার

এএ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়