• ঢাকা মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১০ আশ্বিন ১৪২৫

হারানো অতীত ফিরে পেতে মরিয়া কলম্বিয়া

স্পোর্টস ডেস্ক, আরটিভি অনলাইন
|  ১১ জুন ২০১৮, ২২:৫৮
কলম্বিয়া বা কলম্বিয়া প্রজাতন্ত্র (República de Colombia রেপুব্লিকা দে কোলোম্বিয়া) দক্ষিণ আমেরিকার উত্তর-পশ্চিম অংশে অবস্থিত একটি রাষ্ট্র। কলম্বিয়ার প্রাকৃতিক সম্পদের মধ্যে আছে নয়নাভিরাম সমুদ্র সৈকত, পর্বতমালা এবং নিবিড় সবুজ অতিবৃষ্টি অরণ্য। কিন্তু রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং শক্তিশালী মাদক চোরাকারবারী চক্রের প্রভাবে দেশটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কুখ্যাতি অর্জন করেছে। যদিও দেশটির গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থার ইতিহাস পুরনো, তা সত্ত্বেও দেশটিতে লাতিন আমেরিকার দেশগুলির মধ্যে সবচেয়ে বেশি শ্রেণীবৈষম্যমূলক একটি সমাজ বিদ্যমান।

কলম্বিয়া দক্ষিণ আমেরিকার একমাত্র দেশ যার ক্যারিবীয় সাগর ও প্রশান্ত মহাসাগর উভয় জলভাগেই তটরেখা আছে। কলম্বিয়ার পূর্বে ভেনেজুয়েলা ও ব্রাজিল, দক্ষিণে ইকুয়েডর ও পেরু এবং উত্তর-পশ্চিমে পানামা। বোগোতা দেশের রাজধানী ও বৃহত্তম শহর।

কলম্বিয়া জাতীয় ফুটবল দল আন্তর্জাতিক ফুটবল প্রতিযোগিতায় কলম্বিয়ার প্রতিনিধিত্বকারী ফুটবল দল। কলম্বিয়ান ফুটবল ফেডারেশন কর্তৃক এ দলটি পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয়। কনমেবলের অন্যতম সদস্য কলম্বিয়া। 

১৯৯৮ সালে সর্বশেষ বিশ্বকাপে অংশ গ্রহণ করার পর যেন হারিয়েই গিয়েছিল লাতিন আমেরিকার দেশ কলম্বিয়া। ২০১৪ বিশ্বকাপের আগে আবারও উত্থান ঘটে দেশটির। রাদামেল ফ্যালকাও নামে এক ফুটবলারের হাত ধরে ব্রাজিল বিশ্বকাপে নাম লিখেছিল কলম্বিয়া; কিন্তু কি দুর্ভাগ্য, সেই রাদামেল ফ্যালকাওই খেলতে পারেননি বিশ্বকাপে। হাঁটুর ইনজুরির কারণে বিশ্বকাপের আগেই ছিটকে যান তিনি।

কলম্বিয়া থমকে যায়নি। বিশ্বকাপে খেলেছে। উদ্ভব ঘটিয়েছে নতুন তারকার। হামেশ রদ্রিগেজ। তরুণ এই ফুটবলারের হাত ধরেই বিশ্বকাপে প্রথমবারেরমত কোয়ার্টার ফাইনাল খেলে দ্য কপি গ্রোয়ার্সরা। সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে তারা হেরে যায় স্বাগতিক ব্রাজিলের কাছে। যদিও শেষ ম্যাচে ব্রাজিলের তারকা ফুটবলার নেইমারের কোমর ভেঙে দিয়েছিলেন কলম্বিয়ান ডিফেন্ডার জুনিগা। হামেশ রদ্রিগেজ হয়েছিলেন টুর্নামেন্টের তরুণ উদীয়মান ফুটবলার এবং জিতে নিয়েছিলেন সর্বোচ্চ গোলদাতা গোল্ডেন বুটের পুরস্কার।

২০১৪ সালের ধারাবাহিকতায় এবারও কলম্বিয়া উঠে এসেছে বিশ্বকাপ ফুটবলে। লাতিন আমেরিকান অঞ্চলে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার সঙ্গে সমান তালে তাল মিলিয়েই নাম লিখেছে রাশিয়া বিশ্বকাপে। আগেরবার ফ্যালকাও খেলতে না পারলেও এবার তিনি রয়েছেন। যদিও বয়স বেড়ে গেছে। তবুও হামেশ রদ্রিগেজদের সঙ্গে মিলে নিশ্চিত, এই বিশ্বকাপও কাঁপাবে কলম্বিয়া, সন্দেহ নেই।

কার্লোস ভালদেরামার কথা শুনলে যে কেউ বলে দেবেন- তিনি তো কলম্বিয়ান ফুটবলার। ১৯৯০,১৯৯৪ কিংবা ১৯৯৮ বিশ্বকাপে ঝাঁকড়া চুলের এই ফুটবলারকে দেখে অনেকেই মুগ্ধ হতেন। শুধু চুলের কারণেই নয়, তার অসাধারণ ক্রীড়াশৈলির কারণেও। ওই সময় আরেক ঝাঁকড়াচুলের ফুটবলার, গোলরক্ষক রেনে হিগুইতাকেও মনে রেখেছে বিশ্ব, তার ভিন্নরকম স্টাইলের কারণে। যদিও, তার ভুলের কারণে, ১৯৯০ বিশ্বকাপে নাইজেরিয়ার রজার মিলা গোল দিয়ে বসেছিল কলম্বিয়াকে। এ কারণে এখনও হিগুইতাকে কলম্বিয়ানরা মনে করেন খলনায়ক হিসেবে।

ভালদেরামার পর বিশ্ববাসী কলম্বিয়াকে নতুন করে চেনে পপস্টার শাকিরার কারণে। ২০০৬ এবং ২০১০ সালের বিশ্বকাপ দুটিতে মাঠের বাইরের তারকা ছিলেন শাকিরা। তবে লাতিন আমেরিকার হওয়ায় যে দেশটি ফুটবলের কারণে বেশি পরিচিত হওয়ার কথা, তা হয়েছে রাদামেল ফ্যালকাও এবং হামেশ রদ্রিগেজের কারণে। সময়ে অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার ফ্যালকাও। আর রিয়াল মাদ্রিদ ও বায়ার্ন মিউনিখ মাতানো হামেশ রদ্রিগেজ তো রয়েছেনই। 

১৯৯৮ সালে ভালদেরামার আমলেই সর্বশেষ বিশ্বকাপ খেলেছিল কলম্বিয়া। এরপর প্রায় ১৬ বছর অনুপস্থিত ছিল বিশ্বকাপে। ২০১৪ বিশ্বকাপের আগে ফিফা র‌্যাংকিংয়েও অভাবনীয় উন্নতি ঘটায় তারা। নিজেদের ইতিহাসের সেরা অবস্থান, তিন নম্বরেও উঠে এসেছিল কলম্বিয়ানরা। বর্তমান র্যাংকিং অবশ্য, ১৬।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে কলম্বিয়ার সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্ত হলো, ১৯৬২ বিশ্বকাপে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে মার্কোস কোলের সরাসরি কর্নার কিক থেকে করা গোল। যা ফুটবল ইতিহাসে পরিচিতি পেয়েছে, অলিম্পিক গোল নামে। ম্যাচটিতে ৪-০ গোলে পিছিয়ে পড়েও ৪-৪ গোলে ড্র করে করে মাঠ ছাড়ে কলম্বিয়া।

ফুটবল ইতিহাসে অন্যতম সেরা কামব্যাক হিসেবেও পরিচিতি পেয়েছে ওই ম্যাচটি। অথচ সোভিয়েত ইউনিয়নের তখনকার গোলরক্ষক ছিলেন লেভ ইয়াসিন। যাকে মনে করা হয় ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের সেরা গোলরক্ষকদের একজন। কলম্বিয়ান ফুটবলের স্বর্ণযুগ বলা হয় ১৯৯০-এর দশককে। ওই সময়েই ভালদেরামা-হিগুইতাদের মতো বেশ কিছু ভালোমানের ফুটবলারের আগমন ঘটে দলটিতে।

তবে ১৯৯৪ বিশ্বকাপের পর বিমানবন্দরে ফিরে আততায়ীর গুলিতে আন্দ্রেস এসকোবার নিহত হওয়ার ঘটনার পর ফুটবলে অনেকটাই পিছিয়ে যায় দেশটি। ২০০১ সালে নিজেদের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সাফল্য তুলে নেয় কলম্বিয়া। জিতে নেয় লাতিনের বিশ্বকাপ নামে পরিচিত, কোপা আমেরিকার শিরোপা।

মূলতঃ ১৯৩৮ সাল থেকে কলম্বিয়ানদের আন্তর্জাতিক ফুটবলে যাত্রা শুরু। নিজেদের প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচে মেক্সিকোর কাছে ৩-১ গোলে হার। বিশ্বকাপে এবার নিয়ে তাদের অংশগ্রহণ মোট সাতবার। ১৯৬০ সালের পর দীর্ঘবিরতি নিয়ে ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপে অংশ নেয় কলম্বিয়া। এরপর টানা তিন বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে ১৯৯৮ সালের পরে আবারও বিরতি। তবে ২০১১ সালের পর থেকে নতুন সোনালি প্রজন্মের উদয় ঘটেছে লাতিন আমেরিকার দলটিতে। ২০১৪ সালের পর এই নিয়ে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ খেলছে তারা।

ডাকনাম

:

লস ক্যাফেটেটোর্স

অ্যাসোসিয়েশন

:

ফেদারেশিওন কলম্বিয়ানা দ্য ফুতবল (এফসিএফ)

কনফেডারেশন

:

কনমেবল (দক্ষিণ আমেরিকা)

হেড কোচ

:

হোসে পেকারম্যান

অধিনায়ক

:

রাদামাল ফ্যালকাও

সর্বাধিক ম্যাচ

:

কার্লোস ভালদেরামা (১১১)

সর্বাধিক গোলদাতা

:

রাদামাল ফ্যালকাও (২৯)

হোম ভেন্যু

:

এস্তাদিও মেট্রোপলিটানো রবার্তো মেলেন্দেজ

বর্তমান র‌্যাংকিং

:

১৬

সেরা সাফল্য

:

কোয়ার্টার ফাইনাল ২০১৪

বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ

:

১৯৬২, ১৯৯০, ১৯৯৪, ১৯৯৮, ২০১৪, ২০১৮

সেরা খেলোয়াড়

:

হামেশ রদ্রিগেজ

এএ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়