• ঢাকা সোমবার, ২১ মে ২০১৮, ০৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫

রাশিয়া বিশ্বকাপ স্টেডিয়াম পরিচিতি (৪)

স্পোর্টস ডেস্ক
|  ১৬ মে ২০১৮, ১০:৩৩ | আপডেট : ১৬ মে ২০১৮, ১০:৪৬
আর মাত্র ২৯ দিন। এরপরই পর্দা উঠতে যাচ্ছে ‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ খ্যাত বিশ্বকাপ ফুটবলের। একবিংশতম ফুটবল বিশ্বকাপ আয়োজনের গুরুদায়িত্ব পেয়েছে ভৌগলিকভাবে বিশ্ব মানচিত্রের সবচেয়ে বড় দেশ রাশিয়া। বিংশ শতাব্দীর সেরা গোলরক্ষক ‘স্পাইডার’ লেভ ইয়াসিনের বদৌলতে ফুটবলে রাশানদের আছে আলাদা নামডাক। এবার সেটা ছাপিয়ে যাবার চ্যালেঞ্জ পুতিনের দেশের। ইতিহাস সমৃদ্ধ ও প্রকৃতিদেবীর অপার সৌন্দর্য্যে ঘেরা এই স্বর্গ রাজ্যে বিশ্বকাপকে ঘিরে সবকিছুই করা হচ্ছে বেশ ঢালাওভাবে। বিশ্বকাপকে মাথায় রেখে রাশিয়ার ১১টি শহরে প্রস্তুত করা হয়েছে ১২টি স্টেডিয়াম, যার ছয়টিই তৈরি হয়েছে বিশ্ব আসর উপলক্ষ্যে! বিশ্বকাপে স্টেডিয়াম নির্মাণ ও পুনঃসংস্কারে ব্যয় করা হয়েছে প্রায় ৫.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার!

বিশ্বকাপের স্টেডিয়াম নিয়ে ছয় পর্বের ধারাবাহিকের চতুর্থ পর্বে আজ থাকছে আরো দুটি স্টেডিয়ামের টুকিটাকি।

রোস্তভ অ্যারেনা, রোস্তভ
রোস্তভ অন ডন। দক্ষিণ রাশিয়ার প্রশাসনিক কেন্দ্রবিন্দুর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী। প্রথমবারের মতো বড় কোনো ক্রীড়া ইভেন্টের সঙ্গে যুক্ত হতে যাচ্ছে শহরটি। বিশ্বকাপের ১২টি স্টেডিয়ামের অন্যতম ভেন্যু এই শহরের 'রোস্তভ অ্যারেনা'।

এই স্টেডিয়ামের দর্শক ধারণ ক্ষমতা ৪৫ হাজার। আগামী ১৭ জুন ব্রাজিল ও সুইজারল্যান্ডের মধ্যকার ম্যাচ দিয়ে যাত্রা শুরু হবে স্টেডিয়ামটির। বিশ্বকাপের বিশেষ আয়োজনে আজ থাকছে রোস্তভ অ্যারেনার খবর।

রোস্তভ অন ডন, একইসঙ্গে সংস্কৃতি এবং ব্যবসা বাণিজ্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি শহর। রাশিয়ার ডন নদীর তীরে অবস্থিত ৩৪৮ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এ শহরটির রয়েছে ঐতিহ্যবাহী অতীত ইতিহাস এবং গৌরবান্বিত বর্তমান।

এর আগে কখনোই কোন ক্রীড়া ইভেন্টের সঙ্গে যুক্ত না থাকায় এর প্রস্তুতি নিয়ে সন্দেহ ছিলো অনেকের মনেই। তবে নিন্দুকদের মুখে ছাই দিয়ে বিশ্বকাপের আয়োজক হিসেবে দর্শনার্থীদের স্বাগত জানাতে ১০ লাখ ৮৯ হাজার জনসংখ্যার এই শহরটি এখন পুরোপুরি প্রস্তুত।

খেলাধুলার জন্য রোস্তভের সবচেয়ে বিখ্যাত ভেন্যু রোস্তভ অ্যারেনা স্টেডিয়াম। নিয়মিত রাশিয়ান লিগের খেলা আয়োজন করে থাকা এ মাঠটি মূলত এফ সি রোস্তভের হোম গ্রাউন্ড।

২০১৩ সালে প্রথমবারের মতো স্টেডিয়ামটির সংস্কার কাজে হাত দেয়ার কথা থাকলেও ২০১৫ সালে সংস্কারের মূল কাজ শুরু করে রাশান সরকার। এসময় ২য় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার বিভিন্ন গোলাবারুদ খুঁজে পাওয়া যায় স্টেডিয়ামটিতে। নিরাপত্তার স্বার্থেই এরপর আমূল পরিবর্তন করা হয় এর নকশায়, শুরু হয় নতুন করে নির্মাণ কাজ। 

পপুলাসের নকশায় নির্মাণ করতে সময় লেগেছে ৭ বছর। অর্থের হিসেবে খরচ হয়েছে ৩ বিলিয়ন রুবল। যদিও বিশ্বকাপের পর এখানে আরো কিছু সংস্কার কাজ করা হবে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

রোস্তভ অ্যারেনার উদ্বোধন হবে বিশ্বকাপে গ্রুপ-ই'র সুইজারল্যান্ড ও ব্রাজিলের ম্যাচ দিয়ে। আরাধ্য এ ম্যাচের ৩ দিন পর, ২০ জুন সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ের মুখোমুখি হবে সৌদি আরব। ২৩ জুন দক্ষিণ কোরিয়া-মেক্সিকো আর ২৬ জুন লড়বে আইসল্যান্ড ও ক্রোয়েশিয়া। গ্রুপ পর্বের এ ম্যাচগুলোর পর রোস্তভ অ্যারেনায় রাউন্ড অব সিক্সটিনের একটি ম্যাচও অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

বিশ্বকাপের আয়োজক অন্য শহরগুলোর মত, রোস্তভেও আছে প্রাকৃতিক ও ঐতিহাসিক কিছু নিদর্শন যা বাড়তি আকর্ষণ পর্যটকদের জন্য।

সামারা স্টেডিয়াম, সামারা
ভলগা ও সামারা নদীর পাশের শহর সামারা। এটি রাশিয়ার ৬টি বড় শহরের একটি। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, শিল্প ও সাংস্কৃতিক বিবেচনায় এ শহরটি রাশিয়ানদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। বিশেষ করে ইউরোপের পর্যটকদের কাছে বেশ আকর্ষনীয় শহর এটি। ২০০৭ সালে এ শহরেই বসেছিল ইউরোপিয়ন ইউনিয়নের সম্মেলন। এরপর থেকে শহরটির পরিচিতি বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। এসব বিবেচনা করেই রাশিয়া সরকার বিশ্বকাপ ফুটবলের একটি ভেন্যু শহর হিসেবে বেছে নেয় সামারাকে। 

সামারায় বিশ্বকাপের ভেন্যু হবে সেটা প্রাথমিকভাবে নির্বাচন করা হয়েছিল ২০১০ সালে। দুই বছর পর অর্থাৎ ২০১২ সালে ফিফা অনুমোদন দিলেই রাশিয়া সরকার স্টেডিয়াম নির্মানের প্রস্তুতি শুরু করে দেয়। ২০১৪ সালে দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এ স্টেডিয়াম নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করেন।

সামারাবাসীর কাছে এ স্টেডিয়ামটি ‘কসমোস এরেনা’ নামেও পরিচিত। বিশ্বকাপের সময় সামারা এরেনা নামেই পরিচিত হবে স্টেডিয়ামটি। ঘাসের মাঠের এ স্টেডিয়াম নির্মাণ করতে খরচ হয়েছে ৩২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। আগেই উল্লেখ করা হয়েছে স্টেডিয়ামটি অনেক নান্দনিক। এ স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে বসে ৪৫ হাজর দর্শক উপভোগ করতে পারবে বিশ্বকাপের খেলা। 

রাশিয়া বিশ্বকাপে ভেন্যু একটা সমস্যাই ছিল। মানে সময়মতো স্টেডিয়ামগুলো বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুত করা নিয়ে। সামারা এরেনাও ছিল বিলম্বে প্রস্তুত হওয়া এক ভেন্যু। এইতো গত এপ্রিলের ২৮ তারিখে এ স্টেডিয়ামে হয়েছিল পরীক্ষামূলক ম্যাচ। যে ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল ক্রিলিয়ে সোভেতভ ও দেশটির ঘরোয়া ফুটবলে দ্বিতীয় স্তরের দল ফাকেল।

স্টেডিয়ামটির নকশা করা হয়েছিল এ অঞ্চলের ঐতিহ্যের সঙ্গে মিল রেখে। গম্বুজ আকৃতির নকশার স্টেডিয়ামটি রাতে হয়ে উঠে আরো দর্শনীয়। স্টেডিয়ামের গা থেকে চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে আলোক রশ্মি। এ স্টেডিয়ামটি সামারা শহরের সৌন্দর্য্য যেন বাড়িয়ে দিয়েছে অনেক। এই স্টেডিয়ামে খেলা দেখতে যাওয়া দর্শকদের জন্য বাড়তি পাওয়া হবে শহরের সৌন্দর্য্য। ম্যাচের বাইরেও প্রকৃতির নানা সৌন্দর্য্য মুগ্ধ করবে দর্শকদের।

স্টেডিয়ামটি নির্মাণ করতে লেগেছে প্রায় ৩ বছর। এখানে হবে বিশ্বকাপের ৬টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে স্বাগতিকদের একটি ম্যাচ আছে এখানে। রাশিয়া-উরুগুয়ে ২৫জুন মুখোমুখি হবে সামারা এরেনায়। এ ভেন্যুর অন্য ৫ ম্যাচ হলো- ১৭ জুন কোস্টারিকা-সার্বিয়া, ২১ জুন ডেনমার্ক-অস্ট্রেলিয়া, ২৮ জুন সেনেগাল-কলোম্বিয়া, ১৬ জুলাই দ্বিতীয় রাউন্ডের একটি ম্যাচ এবং ১৭ জুলাই একটি কোয়ার্টার ফাইনাল।

এএ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়