• ঢাকা রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৮ আশ্বিন ১৪২৫

রাশিয়া বিশ্বকাপ স্টেডিয়াম পরিচিতি (২)

স্পোর্টস ডেস্ক
|  ১২ মে ২০১৮, ০৮:১৫ | আপডেট : ১২ মে ২০১৮, ০৯:০৪
আর মাত্র ৩৩ দিন। এরপরই পর্দা উঠতে যাচ্ছে ‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ খ্যাত বিশ্বকাপ ফুটবলের। একবিংশতম ফুটবল বিশ্বকাপ আয়োজনের গুরুদায়িত্ব পেয়েছে ভৌগলিকভাবে বিশ্ব মানচিত্রের সবচেয়ে বড় দেশ রাশিয়া। বিংশ শতাব্দীর সেরা গোলরক্ষক ‘স্পাইডার’ লেভ ইয়াসিনের বদৌলতে ফুটবলে রাশানদের আছে আলাদা নামডাক। এবার সেটা ছাপিয়ে যাবার চ্যালেঞ্জ পুতিনের দেশের। ইতিহাস সমৃদ্ধ ও প্রকৃতিদেবীর অপার সৌন্দর্য্যে ঘেরা এই স্বর্গ রাজ্যে বিশ্বকাপকে ঘিরে সবকিছুই করা হচ্ছে বেশ ঢালাওভাবে। বিশ্বকাপকে মাথায় রেখে রাশিয়ার ১১টি শহরে প্রস্তুত করা হয়েছে ১২টি স্টেডিয়াম, যার ছয়টিই তৈরি হয়েছে বিশ্ব আসর উপলক্ষ্যে! বিশ্বকাপে স্টেডিয়াম নির্মাণ ও পুনঃসংস্কারে ব্যয় করা হয়েছে প্রায় ৫.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার!

বিশ্বকাপের স্টেডিয়াম নিয়ে ছয় পর্বের ধারাবাহিকের দ্বিতীয় দিনে আজ থাকছে আরো দুটি স্টেডিয়ামের টুকিটাকি।

--------------------------------------------------------
আরও পড়ুন : রাশিয়া বিশ্বকাপ স্টেডিয়াম পরিচিতি (১)
--------------------------------------------------------
ফিস্ট অলিম্পিক স্টেডিয়াম, সোচি
রাশিয়ার ক্রাসনোভারিস্কিক্রাই এলাকার সোচিতে অবস্থিত একটি আউটডোর স্টেডিয়াম এটি। এটি সোচি অলিম্পিক পার্কে অবস্থিত এবং মাউন্ট ফিস্টের নামানুসারে এটির নামকরন করা হয়। ২০১৩ সালে যখন এটি উন্মোচন করা হয় তখন এর আসন সংখ্যা ছিলো ৪০ হাজার। পরবর্তীতে এখানে ২০১৪ সালের শীতকালীন অলিম্পিক ও প্যারালিম্পিকের উদ্বোধনী ও সমাপনী অনুষ্ঠানের সফল সমাপ্তি ঘটে।

স্টেডিয়ামটি মূলত তৈরি করা হয়েছিল আবদ্ধ বা ঘিরা সুবিধায়। শীতকালীন অলিম্পিক ও প্যারালিম্পিকের পর এটি বন্ধ করে দেয়া হয়। পরবর্তীতে এটি পুনরায় খোলা হয়েছিলো ২০১৬ সালে ওপেন-এয়ার ফুটবল স্টেডিয়াম হিসেবে। এরপর এখানে ২০১৭ ফিফা কনফেডারেশন্স কাপের খেলাগুলো পরিচালনা করা হয়। 

ফিস্ট অলিম্পিক স্টেডিয়াম ডিজাইন করেছিল পপ্যুলাস এবং ব্রিটিশ ডিজাইন পরামর্শক বুরোহ্যাপল্ড ইঞ্জিনিয়ারিং। স্টেডিয়ামটির ছাঁদ তৈরি করা হয় ৩৬,৫০০ বর্গমিটার (৩,৯৩,০০০ ফুট) ইথাইলিন এর কাছাকাছি টেট্রাফ্লুরোইথাইলিন (ইটিএফই) এবং ডিজাইন করা হয়েছিলো যাতে ছাদ তুষারময় শিখরের চেহারা দেয়া যায়। বাটিটি উত্তরের দিকে খোলা, যাতে সরাসরি ক্রাসনায়া পোলিয়ানা পবর্তমালা দেখা যায় এবং উপরের ডেক থেকে কৃষ্ণ সাগর দেখা যায়।

স্টেডিয়ামটি তৈরিতে খরচ হয় ইউএস ৭৭৯ মিলিয়ন ডলার। স্টেডিয়াম কমপ্লেক্সটি এখন ব্যবহৃত হয় রাশিয়া জাতীয় ফুটবল দলের ট্রেনিং সেন্টার ও ম্যাচ ভেন্যু হিসেবে।

স্টেডিয়ামটি ২০১৫ সালে ৪৬ মিলিয়ন ইউএস ডলারে কনফেডারেশন্স কাপের খেলা চালানোর জন্য পুনর্নবীকরণ শুরু করে। পরবর্তীতে ফিফার নিয়মনীতির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ করার জন্য বন্ধ ছাদটি সরানো হয়। রাশিয়া বিশ্বকাপের অন্যতম সুন্দর এই স্টেডিয়ামে আয়োজিত হবে একবিংশতম আসরের ৬টি ম্যাচ।

ইয়াকতেরিনবার্গ অ্যারেনা (সেন্ট্রাল স্টেডিয়াম), ইয়াকতেরিনবার্গ
রাশিয়ার চতুর্থ বৃহত্তম শহর ইয়েকাতেরিনবার্গ। ১৮ নভেম্বর ১৭২৩ সালে গড়ে উঠেছে এই শহর। সম্রাট পিটার তার প্রিয়তমা স্ত্রী একেতারিনার নামে শহরের নামকরণ করেন ইয়েকাতেরিনবার্গ। উড়াল পর্বতের পূর্বে অবস্থিত এই শহরের নৈসর্গিক সৌন্দর্য্য মুগ্ধ হয়ে প্রতিবছর আসেন অসংখ্য পর্যটক।

রাশিয়ার অন্যতম সাংস্কৃতিক ও বাণিজ্যের শহর হিসেবেও এর সুখ্যাতি রয়েছে। ইউরোপ ও এশিয়া মহাদেশের সীমান্ত মধ্যবর্তী এই শহরটিকে একসময় ডাকা হত এশিয়ার জানালা। রাশিয়া বিশ্বকাপের ১২টি ভেন্যুর মধ্যে অন্যতম সুপরিচিত সেন্ট্রাল স্টেডিয়াম এই ইয়েকাতেরিনবার্গে।

১৯৫৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় সেন্ট্রাল স্টেডিয়াম। একহাজারেরও বেশি ক্রীড়া ইভেন্ট ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন হয়েছে এই ভেন্যুতে। ১৯৫৯ সালে এই স্টেডিয়ামে আয়োজন করা হয়েছিলো নারীদের ওয়ার্ল্ড স্পিড স্কেটিং চ্যাম্পিয়নশিপ।

পরবর্তীতে সেন্ট্রাল স্টেডিয়ামটি রাশিয়ান প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব এফসি উরাল ইয়েকাতেরিনবার্গ তাদের হোম ভেন্যু হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। রাশিয়া বিশ্বকাপের জন্য ২০১৪ সালে শুরু হয় স্টেডিয়ামটির সংস্কার কাজ। ২৩ হাজার থেকে দর্শকধারণ ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে ৩৫, হাজার ৬৯৬টিতে।

এই স্টেডিয়ামে হবে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের চারটি ম্যাচ। ১৫ জুন উরুগুয়ে ও মিশরের ম্যাচ দিয়ে হবে এর বিশ্বকাপ অভিষেক। এছাড়াও ২১ জুন ফ্রান্স ও পেরু, ২৪ জুন হবে জাপান ও সেনেগাল ও ২৭ জুন এ ভেন্যুতে মুখোমুখি হবে মেক্সিকো ও সুইডেন।

প্রকৌশলী ভ্লাদিমির ভিনিয়ামিভি নিরলস পরিশ্রম নেতৃত্ব দিচ্ছেন এর সংস্কার কাজে। এরইমধ্যে শেষ হয়েছে প্রায় ৯০ভাগ কাজ । এজন্য সমালোচনাও শুনতে হচ্ছে আয়োজকদের।

আরও পড়ুন :


এএ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়