ঢাকা শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩

রাশিয়া বিশ্বকাপ স্টেডিয়াম পরিচিতি (১)

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ : ১০ মে ২০১৮, ১২:৩১ পিএম

আর মাত্র ৩৬ দিন। এরপরই পর্দা উঠতে যাচ্ছে ‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ খ্যাত বিশ্বকাপ ফুটবলের। একবিংশতম ফুটবল বিশ্বকাপ আয়োজনের গুরুদায়িত্ব পেয়েছে ভৌগলিকভাবে বিশ্ব মানচিত্রের সবচেয়ে বড় দেশ রাশিয়া। বিংশ শতাব্দীর সেরা গোলরক্ষক ‘স্পাইডার’ লেভ ইয়াসিনের বদৌলতে ফুটবলে রাশানদের আছে আলাদা নামডাক। এবার সেটা ছাপিয়ে যাবার চ্যালেঞ্জ পুতিনের দেশের। ইতিহাস সমৃদ্ধ ও প্রকৃতিদেবীর অপার সৌন্দর্য্যে ঘেরা এই স্বর্গ রাজ্যে বিশ্বকাপকে ঘিরে সবকিছুই করা হচ্ছে বেশ ঢালাওভাবে। বিশ্বকাপকে মাথায় রেখে রাশিয়ার ১১টি শহরে প্রস্তুত করা হয়েছে ১২টি স্টেডিয়াম, যার ছয়টিই তৈরি হয়েছে বিশ্ব আসর উপলক্ষ্যে! বিশ্বকাপে স্টেডিয়াম নির্মাণ ও পুনঃসংস্কারে ব্যয় করা হয়েছে প্রায় ৫.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার!

বিশ্বকাপের স্টেডিয়াম নিয়ে ছয় পর্বের ধারাবাহিকের প্রথম দিনে আজ থাকছে দুটি স্টেডিয়ামের টুকিটাকি।

লুজনিকি স্টেডিয়াম, মস্কো
রাশিয়ার লুজনিকি স্টেডিয়াম। বাইরে থেকে দেখলে এ যেন এক সুবিশাল রাজপ্রাসাদ। আর স্টেডিয়ামের ভিতরে চোখ ধাঁধানো গ্যালারি এবং সবুজ ঘাস। এই মাঠেই হবে ২০১৮ বিশ্বকাপের ফাইনাল। তাই নতুন করে সাজিয়ে তোলা হয়েছে। শুধু সাজিয়ে বললে কম বলা হয়। ঝলমলে আলোর রোশনাইয়ে মুড়িয়ে দেয়া হয়েছে স্টেডিয়ামের বাইরের অংশ। দর্শক আসন প্রায় ৮১ হাজার।

--------------------------------------------------------
আরও পড়ুন : ভিয়ারিয়ালকে উড়িয়ে দিলো বার্সেলোনা
--------------------------------------------------------

মস্কোর এই স্টেডিয়ামেই ১১ নভেম্বর রাশিয়ার বিরুদ্ধে ফেন্ডলি ম্যাচে টিম আর্জেন্টিনা ১-০ গোলে রাশিয়াকে হারিয়েছে। এর আগে ফুটবলের যুবরাজ লিওনেল মেসির দেশের আগমন উপলক্ষে নিশ্চিদ্র নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছিল গোটা স্টেডিয়াম। এর আগে সেখানে হিমাঙ্কের নীচে মাইনাস এক ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় প্রস্তুতি সারেন মেসিরা।

রাশিয়ার লুজনিকি স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হয় সোভিয়েত আমলে ১৯৫৫ থেকে ১৯৫৬ সালে। প্রথমে এর নাম ছিল সেন্ট্রাল লেনিন স্টেডিয়াম। স্টেডিয়ামটির অবস্থান রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে, মস্কোভা নদীর তীরে। সোভিয়েত ইউনিয়ন বিভক্তের পর এর নাম পরিবর্তন করে ‘লুজনিকি স্টেডিয়াম’ রাখা হয় এবং বর্তমানে এটি রাশিয়ার জাতীয় স্টেডিয়াম। ১৯৮০ সালের অলিম্পিক গেমস আয়োজিত হয় এখানেই। ২০১৩ সালেও বিশ্ব-অ্যাথলেটিক চ্যাম্পিয়নশিপের আয়োজন করা হয় এখানে।

নব্বই দশক পর্যন্ত স্টেডিয়ামটি ছাদবিহীন ছিল। সে সময় এর ধারণ ক্ষমতা ছিল ১ লাখ। তবে পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালে স্টেডিয়ামটির ব্যাপক সংস্কার করা হয়, এতে ছাদ সংযোজন করা হয় এবং এর আসন পুনর্বিন্যাস করে ১ লাখ থেকে হ্রাস করে ৮১ হাজারে নামিয়ে আনা হয়।

রাশিয়া ২০১৮ সালে বিশ্বকাপ আয়োজনের দায়িত্ব পাওয়ার পর বিশ্বকাপের প্রস্তুতিস্বরূপ লুজনিকিকে ৩৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ে সংস্কার করা হয়। ২০১৮ সালের বিশ্বকাপের স্টেডিয়ামগুলোর মধ্যে এর আকার সবচেয়ে বড়। বিশ্বকাপ উপলক্ষে মাঠটি আবারও সংস্কার করা হয়। এ বছরের জুন মাসে সংস্কার কাজ সম্পন্ন হয়। এই সুবিশাল রাজপ্রাসাদ সদৃশ মাঠে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ও ফাইনাল ম্যাচ ছাড়াও আরো সাতটি ম্যাচ আয়োজনের ভার এ স্টেডিয়ামের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে।

সেন্ট পিটার্সবার্গ স্টেডিয়াম, সেন্ট পিটার্সবার্গ
রাশিয়ার প্রধান শহর মস্কো থেকে ৭১২ কিলোমিটার দূরে সেন্ট পিটার্সবার্গ। এটি রাশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর। এই শহরের প্রাচীন নিদার্শন পর্যটকদের চুম্বকের মতো আকর্ষণ করে। ঐতিহ্য, শিল্প আর আধুনিকতার জন্য রাশান সাম্রাজ্যের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র ছিলো সেন্ট পিটার্সবার্গ। ইউরোপ ফুটবল দাপিয়ে বেড়ানো রাশিয়ার ফুটবল ক্লাব জেনিথ সেন্ট পিটার্সবার্গের হোম গ্রাউন্ড হলো এই স্টেডিয়াম।

২০০৫ সালে রাশান ফুটবল ক্লাব জেনিত সেইন্ট পিটার্সবাগ তাদের নিজস্ব মাঠের জন্য সেন্ট পিটার্সবার্গে স্টেডিয়াম নির্মাণের অনুমতি পেলে পিটার্সবার্গের সমুদ্র তীরবর্তী ক্রেস্তভস্কি এলাকায় স্টেডিয়ামটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়। পূর্বে এখানে ‘কিরোভ স্টেডিয়াম’ ছিল। এটি ভেঙ্গেই নতুন করে পিটার্সবার্গ স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হয়। পিটার্সবার্গ স্টেডিয়ামটি ২০০৯ সালের মধ্যে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা থাকলেও নির্মাণাধীন ঠিকাদারের কাজের গাফিলতিতে তা হয়ে ওঠেনি।

বিশ্বকাপ আয়োজনের দায়িত্ব পাওয়ার পর রাশিয়া সরকার বিশ্বকাপের ভেন্যু হিসেবে প্রস্তুত করার জন্য ‘সেন্ট পিটার্সবার্গ স্ট্রেট গভমেন্ট’ এর কাছে নির্মাণ কাজের দায়িত্ব হস্তান্তর করেন। স্টেডিয়ামটি নির্মাণ করতে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় করে রাশিয়া সরকার। ২০১৭ সালে উদ্বোধন করে সে বছরের ফিফা কনফেডারেশন্স কাপের ভেন্যু হিসেবে পরীক্ষামূলক ব্যবহার করা হয় পিটার্সবার্গ স্টেডিয়ামকে। এই স্টেডিয়ামের রয়েছে নানান নামের পরিচিতি। পিটার অ্যারেনা, জেনিত অ্যারেনা, ক্রেস্তভস্কি অ্যারেনাসহ বিভিন্ন নাম। তবে, মজার ব্যাপার হলো। অত্যাধুনিক এই স্টেডিয়াম ইন্ডোর সিস্টেম। যতো প্রতিকূলতা আসুক না কেনো খেলায় কোন প্রভাব পড়বে না। এর আসন সংখ্যা প্রায় ৬৭ হাজার।

ফিফা বিশ্বকাপের অন্যতম ভেন্যুগুলোর মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় ভেন্যু হলো সেন্ট পিটার্সবার্গ স্টেডিয়াম। গ্রুপ পর্বের ৪টি আর রাউন্ড অব সিক্সটিন ও সেমিফাইনালের একটি ম্যাচ ছাড়াও, সেন্ট পিটার্সবার্গে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নিধার্রনী ম্যাচ। সেন্ট পিটার্সবার্গ শহরের সৌন্দর্য পর্যটকদের আলাদাভাবে দৃষ্টি কাড়ে।

এছাড়াও, স্টেডিয়াম এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যে, শুধু ফুটবল-ই না রাগবি, বেস বল কিংবা ক্রিকেট সব ধরনের খেলাই যখন তখন আয়োজন করা সম্ভব এখানে।

২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপের মোট ৭টি সহ ১৪টি দল এই স্টেডিয়াম খেলবে। ফুটবল পিপাসুদের দুর্বীণ দৃষ্টি থাকবে সেন্ট পিটার্সবার্গে। কারণ স্বাগতিক রাশিয়া ছাড়াও, আসরের দুই হট ফেবারিট আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে সেন্ট পিটার্সবার্গে।

সেই ধারাবাহিকতায় ১৫ জুন মরক্কো ও ইরানের ম্যাচের মধ্যে দিয়ে অভিষেক হবে সেন্ট পিটার্সবার্গের। ব্রাজিলের খেলা ২২ আর মেসির আর্জেন্টিনা খেলবে ২৬ জুন। বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনাল ১০ জুলাই আর তৃতীয় স্থান নির্ধারনী ম্যাচ হবে ১৪ জুলাই।

এই স্টেডিয়ামটির আন্তর্জাতিক অভিষেক হয়েছে। তবে, বিশ্বকাপের ম্যাচ মঞ্চায়নের জন্য তীর্থের কাকের মতোই চেয়ে আছে আয়োজকরা। অত্যাধুনিক সুযোগ সুবিধাসম্পন্ন দর্শনীয় স্টেডিয়ামই শুধু না। সেন্ট পিটার্সবার্গ শহরের ইতিহাস ঐতিহ্য নিশ্চিতভাবে মুগ্ধ করবে পর্যটকদেরও।

আরও পড়ুন :

এএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সুসংবাদ শুনে অস্ট্রেলিয়া থেকে উড়ে স্ত্রীর পাশে রোহিত
মেয়ে সন্তানের বাবা হয়েছেন ভারতের ক্রিকেটার রোহিত শর্মা। সুখবর পেয়েই অস্ট্রেলিয়া থেকে স্ত্রী রীতিকার কাছে চলে গেছেন টিম ইন্ডিয়ার ব্যাটিং লাইনের অন্যতম ভরসা। গেল ২১ ডিসেম্বর ছিল রোহিতের স্ত্রীয়ের জন্মদিন। অস্ট্রেলিয়া সফরে থাকায় বিশেষ দিনটি পাশে না পারার জন্য রীতিকার কাছে সোশাল মিডিয়ায় ক্ষমা চান রোহিত। তবে বাবা হবার খবর পেয়েই ভারত ছুটে গেলেন রোহিত।  দেশে ফেরার কারণে সিডনিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে চতুর্থ ও শেষ টেস্টে মাঠে নামা হচ্ছে না হিট ম্যান খ্যাত এই তারকার।   আগামী বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে ম্যাচটি। চার ম্যাচের সিরিজের ফল এখন ২ -১। এগিয়ে থাকা ভারত এই সিরিজটি নিজেদের করে নিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। অন্যদিকে সিরিজ বাঁচাতে জেতা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই অস্ট্রেলিয়ার। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে থাকা হচ্ছে না রোহিতের। ভারতীয় ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের (বিসিসিআই) পক্ষ থেকে জানানো হয়, রোহিত ভারতীয় টিমের সঙ্গে  যোগ দেবেন নতুন বছরের ৮ জানুয়ারি।  টেস্ট সিরিজ শেষে তখন ওয়ানডে সিরিজের জন্য প্রস্তুতি নেবে বিরাট বাহিনী। দুই দলের মধ্যে ১২, ১৫ এবং ১৮ তারিখ তিনটি একদিনের ম্যাচ রয়েছে।  সেই সময় উপস্থিত থাকবেন অভিজ্ঞ রোহিত। চলতি সিরিজে প্রথম ও তৃতীয় ম্যাচে ব্যাট হাতে নেমেছিলেন রোহিত। চোটের কারণে দ্বিতীয় টেস্টে দলের বাইরে ছিলেন ডান-হাতি এই ব্যাটসম্যান। ওয়াই
সুসংবাদ শুনে অস্ট্রেলিয়া থেকে উড়ে স্ত্রীর পাশে রোহিত
বিরাটের অধিনায়কত্বে বর্ষসেরা টেস্ট দলে তাইজুল
বছরের শেষ টেস্টটিও খেলা হয়ে গেছে। অস্ট্রেলিয়া-ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা-পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড-শ্রীলঙ্কার টেস্টগুলো একই দিনে (২৬ ডিসেম্বর) শুরু হওয়ায় এই তিনটি টেস্টই ২০১৮ সালের শেষ টেস্ট। এবার পালা বছরের সেরাদের সামনে নিয়ে আসার। বছরজুড়ে কারা কারা ক্রিকেট বিশ্বে ছড়ি ঘুরিয়েছে তাদের নিয়ে একাদশ তৈরি করছে ক্রিকেট সংশ্লিষ্টরা। সেই ধারাবাহিকতায় এবার বর্ষসেরা টেস্ট একাদশ করল ক্রীড়া বিষয়ক ওয়েবসাইট ‘স্পোর্টসকিড়া’। জনপ্রিয় এই ওয়েবসাইটের সেরা টেস্ট একাদশে জায়গা পেয়েছেন বাংলাদেশের স্পিনার তাইজুল ইসলাম। পুরো বছরেই বারবার নিজেকে ছাড়িয়ে গেছেন তাইজুল। চলতি বছরে ৪৩ উইকেট নিয়ে ছাড়িয়ে গেছেন বাংলাদেশের হয়ে মোহাম্মদ রফিকের সর্বোচ্চ ৩৩ উইকেটের রেকর্ড। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ইনিংসে সর্বোচ্চ ৬ উইকেটের পাশাপাশি ৪ বার ইনিংসে পাঁচ বা তার বেশি উইকেট শিকার করেছেন এই বামহাতি এই অর্থোডক্স।   বছরজুড়ে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি বোলারদের মধ্যে তিনি রয়েছে ৮ নম্বরে এবং স্পিনারদের মধ্যে যা তৃতীয়। আর বামহাতি স্পিনারদের মধ্যে রয়েছে প্রথমে।  তাই বর্ষসেরা টেস্ট দলে স্পিনার কোটায় তাইজুলকে বাছাই করতে দ্বিধায় ভুগতে হয়নি স্পোর্টসকিড়ার। ১৭ উইকেট নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজ জয়ে অবদান রাখায় সেরাদের দলে জায়গা তাইজুলের জায়গা হয়েছে বলে উল্লেখ করে ওয়েবসাইটটি। এই দলের অধিনায়ক করা হয়েছে বর্তমান বিশ্বের সেরা ব্যাটসম্যান ও ভারতের অধিনায়ক বিরাট কোহলিকে। এই দলে রয়েছেন জো রুট, কেন উইলিয়ামসন, ও জেসন হোল্ডারের মতো আরও তিন জাতীয় দলের অধিনায়ক।  ওপেনারের দায়িত্ব পালন করবেন দুই শ্রীলঙ্কান দিমুথ কারুনারত্নে ও কুশল মেন্ডিস। তিন নম্বর পজিশনের জন্য দলে নেয়া হয়েছে ইংল্যান্ডের টেস্ট অধিনায়ক জো রুটকে। কোহলি ও নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক উইলিয়ামসনকে রাখা হয়েছে মিডল অর্ডার সামলানোর জন্য।  উইকেটের পিছনে রাখায় হয়েছে বছরজুড়ে ফর্মে থাকা ইংল্যান্ডের উইকেটরক্ষক জস বাটলারকে। বোলিং অলরাউন্ডারের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে ক্যারিবীয় অধিনায়ক জেসন হোল্ডারকে।  তাইজুলের সঙ্গে স্পিন বিভাগ সামলাবেন অস্ট্রেলিয়ান নাথান লায়ন। পেস বোলিংটা দেখবেন দক্ষিণ আফ্রিকান কাগিসো রাবাদা ও পাকিস্তানের মোহাম্মদ আব্বাস।  স্পোর্টসকিড়ার বছরের সেরা টেস্ট একাদশ দিমুথ কারুনারত্নে (শ্রীলঙ্কা), কুশল মেন্ডিস (শ্রীলঙ্কা), জো রুট (ইংল্যান্ড), বিরাট কোহলি (অধিনায়ক, ভারত), কেন উইলিয়ামসন (নিউজিল্যান্ড), জস বাটলার (ইংল্যান্ড), জেসন হোল্ডার (ওয়েস্ট ইন্ডিজ), নাথান লায়ন (অস্ট্রেলিয়া), তাইজুল ইসলাম (বাংলাদেশ), কাগিসো রাবাদা (দক্ষিণ আফ্রিকা), মোহাম্মদ আব্বাস (পাকিস্তান)। এস/ওয়াই
বিরাটের অধিনায়কত্বে বর্ষসেরা টেস্ট দলে তাইজুল
মোরিনহোর বিদায়ে স্বরূপে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড
দীর্ঘদিন ধরে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড কর্তৃপক্ষ ও দলের খেলোয়াড়দের বিপক্ষে হোসে মোরিনহোর বিরোধের খবর চাউর ছিল। চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ে প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে লিভারপুলের বিপক্ষে ৩-১ গোলে হারের পর ছাটাই হতে হয় মোরিনহোকে। পর্তুগালের হেভিওয়েট এই কোচের বদলে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে ওলে গানার সোলসকায়েরকে নিয়োগ দেয়া হয়। দলটির সাবেক এই ফুটবলার দায়িত্বগ্রহণের পরপরই চিত্র পাল্টে যায়। নরওয়ের জাতীয় দলের এই ফরোয়ার্ডের অধীনে রোববার রাতের ম্যাচে বড় জয় নিয়ে বছরটা শেষ করল রেড ডেভিলসরা। ওল্ড ট্রাফোর্ডে বোর্নমাউথের বিপক্ষে ৪-১ এ জয় পেয়েছে ইউনাইটেড। বড় এই জয়ের পর ম্যানচেস্টার ইভিনিং স্ট্যান্ডার্ড পত্রিকা এক প্রতিবেদনে শিরোনাম করেছে, ‘ওলে গানার সোলসকায়ের অধীনে স্বরূপে ফিরছে আসল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড’। ‘দ্য স্পেশাল ওয়ান’ খ্যাত মোরিনহোকে বিদায় জানানোর পর প্রিমিয়ার লিগের শেষ তিন ম্যাচে ১২টি গোল করেছে ম্যানচেস্টারের ঐতিহ্যবাহী দলটি। ২২ ডিসেম্বর কার্ডিফকে ৫-১ গোলের উড়িয়ে দেয় ম্যানইউ। পরের ম্যাচে হাডার্সফিল্ড টাউনের বিপক্ষে ৩-১ গোলে জয় পায় সোলসকায়েরের শিষ্যরা।  ওলে গানার সোলসকায়েরের সঙ্গে পল পগবা। দলের সঙ্গে গেল দুই ম্যাচে উজ্জ্বল পল পগবাও। হাডার্সফিল্ডের বিপক্ষে গেল বুধবার দুটি গোল করার পর বছরের শেষ ম্যাচেও বোর্নমাউথের জালে দুই বার বল জড়িয়েছেন ফ্রান্সের হয়ে বিশ্বকাপ জয়ী এই মিডফিল্ডার। এই নিয়ে চলতি মৌসুমে ১৭ ম্যাচে সাতটি গোল করলেন ২৫ বছর বয়সী পগবা। লিগ টেবিলে ২০ ম্যাচে ১০ জয় নিয়ে ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। পাঁচ ড্র ও পাঁচ হারে বর্তমান পয়েন্ট ৩৫। সমান সংখ্যক ম্যাচে ৫৪ পয়েন্ট নিয়ে সবার উপরে রয়েছে লিভারপুল। এস/ওয়াই 
মোরিনহোর বিদায়ে স্বরূপে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড
আইসিসির সেরা একাদশে বাংলাদেশের রুমানা
বছরজুড়ে যেমন দাপট দেখিয়েছেন বাংলাদেশের পুরুষ ক্রিকেট দল তেমনি সমান তালে সাফল্য অর্জন করেছে নারী ক্রিকেট দলও। বাংলাদেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় সাফল্যটাও এসেছে নারীদের হাত ধরে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ট্রফি ঘরে প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের ট্রফি এনে দিয়েছে এবছরে টি-টোয়েন্টি এশিয়া কাপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে।  ছয় বারের চ্যাম্পিয়ন ভারতকে ফাইনালে ৩ উইকেটে হারিয়েছে সালমা-রুমানারা। এবার সেই সাফল্যের রেশ ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সেরা একাদশে জায়গা করে নিলেন টাইগ্রেস ক্রিকেটার রুমানা আহমেদ।  লাল-সবুজদের হয়ে অলরাউন্ডারের ভূমিকা পালন করলেও লেগ স্পিনার হিসেবে সুযোগ মিলেছে সেরাদের এই দলে।  সোমবার আইসিসির নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে বর্ষসেরা নারী টি-টোয়েন্টি একাদশ।  ভারতের অধিনায়ক হারমানপ্রীত কাউরকে করা হয়েছে এই দলের অধিনায়ক। ভারতের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছেন আরও দুই ক্রিকেটার। তবে সবচেয়ে বেশি চার নারী অজি ক্রিকেটার রয়েছে এই দলে। এছাড়া নিউজিল্যান্ডের হয়ে দুজন ও ইংল্যান্ডের হয়ে একজন রয়েছেন বর্ষসেরার এই টি-টোয়েন্টি একাদশে।   বাংলাদেশের হয়ে মোট ৫৮টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলে ৬৬৩ রানের পাশাপাশি ৫২ উইকেট নিয়েছেন রুমানা। আইসিসির বর্ষসেরা টি-টোয়েন্টি একাদশ স্মৃতি মানদানা (ভারত), অ্যালিসা হেইলি (অস্ট্রেলিয়া), সুজি বেটস (নিউজিল্যান্ড), হারমানপ্রীত কাউর (ভারত), নাটালি স্কাইভার (ইংল্যান্ড), এলিসা পেরি (অস্ট্রেলিয়া), অ্যাশলেগ গ্রাডনার (অস্ট্রেলিয়া), লেইগ ক্যাসপেরেক (নিউজিল্যান্ড), মেগান স্কুট (অস্ট্রেলিয়া), রুমানা আহামেদ (বাংলাদেশ), পুনম পান্ডে (ভারত)।    এস/ওয়াই
আইসিসির সেরা একাদশে বাংলাদেশের রুমানা
বছরের ফ্লপ একাদশের অধিনায়ক ধোনি, ভারতের আধিপত্য
শেষ হলো ২০১৮ সালের সব আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সূচি। পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ডের মধ্য দিয়ে চলতি বছরের ওয়ানডে যাত্রা শুরু হয়েছিল। বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্য দিয়ে বছরের ওয়ানডের সেই যাত্রার সমাপ্তি ঘটে। এখন বিশ্বজুড়ে চলছে বছরের দলগত ও ব্যক্তিগত পারফর্মেন্সের কাটছেরা। ক্রিকেট ভিত্তিক বিভিন্ন ওয়েবসাইটে প্রতিনিয়ত প্রকাশিত হচ্ছে বছরের সেরা একাদশ গুলো। তবে কিছুটা ভিন্ন পথে হাঁটল ক্রিক ট্র্যাকার। এবার ক্রিকেট সংক্রান্ত জনপ্রিয় এই ওয়েবসাইট প্রকাশ করল বছরের ‘ফ্লপ’ ওয়ানডে একাদশ। বাংলাদেশের সমর্থকদের জন্য স্বস্তির খবর যে এই একাদশে নেই কোনও টাইগার ক্রিকেটার। সেরা একাদশের মতো ফ্লপ একাদশেও আধিপত্য ছিল ভারতীয় ক্রিকেটারদের। মহেন্দ্র সিং ধোনির নের্তৃত্বে এই দলে আরও রয়েছে আরও দুই ভারতীয় হার্দিক পান্ডিয়া ও ভুবেনশ্বর কুমার। ফ্লপ দলটির ওপেনিংয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে নিউজিল্যান্ডের কলিন মুনরো ও ক্যারিবীয় ব্যাটসম্যান এভিন লুইসকে। মুনরো বছরজুড়ে ১৩টি ওয়ানডে খেলে ১৯.৫৩ গড়ে করেছেন মোটে ২৫৪ রান। এদিকে অপর ওপেনার লুইস বেশিরভাগ সিরিজে ওয়ানডে দল থেকে নাম প্রত্যাহার করলেও সারাবছরে ১০টি ম্যাচ খেলে ২৭.৪০ গড় নিয়ে করেছেন মাত্র ২৭৪ রান। ওয়েস্ট ইন্ডিজের আরেক প্রতিনিধি হিসেবে তিন নাম্বার পজিশনে জায়গা পেয়েছেন মারলন সামুয়েলস। বছরের শেষ ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশের বিপক্ষেও ফ্লপ ছিলেন এই জ্যামাইকান। ২০১৮ সালে ১৫টি ওয়ানডে খেলে করেছেন ৩৬৫ রান। এরপরই জায়গা হয়েছে ভারতের বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক ধোনির। যার ২০ ওয়ানডেতে ২৫.০০ গড়ে সংগ্রহ ২৭৫ রান। তাই ‘আস্থা’ রেখেই এই দলের অধিনায়ক ও উইকেটরক্ষকের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে এই অভিজ্ঞ ক্রিকেটারকে। মিডল অর্ডার সামলাবেন বাংলাদেশের বিপক্ষে ক্যারিবিয়ানদের নেতৃত্ব দেয়া রোভম্যান পাওয়েল। চলতি বছরে ১৭টি ওয়ানডে খেলে ২৬.৬৪ গড়ে তার ঝুড়িতে রয়েছে ৩৭৩ রান। দলের অলরাউন্ডারের ভূমিকায় থাকবেন হার্দিক পান্ডিয়া। ইনজুরির কারণে বছরের সব ম্যাচ খেলতে না পারলেও ১০ ম্যাচে মাত্র ১৩.৬০ গড়ে ৬৮ রান তুলেছেন ভারতের এই উদীয়মান ক্রিকেটার। স্পিন অলরাউন্ডার হিসেবে থাকছেন মঈন আলী। ২৪ ওয়ানডে খেলে ১৭.৩১ গড়ে ২৭৭ রান সংগ্রহ করেছেন এই ইংলিশম্যান। চতুর্থ ক্যারিবিয়ান হিসেবে থাকছেন লেগ স্পিনার দেবেন্দ্র বিশু। ১০ ম্যাচ খেলে যার উইকেট রয়েছে ৬টি। পেস বোলিংয়ের দায়িত্বে থাকবেন ভুবেনশ্বর কুমার। ১৪ ম্যাচে ১১ উইকেট রয়েছে তার ঝুলিতে। দলের বাকি দুই পেস বোলার হচ্ছেন ইংল্যান্ডের মার্ক উড ও পাকিস্তানের মোহাম্মদ আমির। উড ১৬ ম্যাচে ১৩ উইকেট নিতে পারলেও পাকিস্তানের বোলিংয়ের সেরা অস্ত্র আমির ১০ ম্যাচে নিয়েছেন মোটে ৩ উইকেট।   ক্রিক ট্র্যাকারের ২০১৮ সালের ফ্লপ একাদশ    কলিন মুনরো (নিউজিল্যান্ড), এভিন লুইস (ওয়েস্ট ইন্ডিজ), মারলন সামুয়েলস (ওয়েস্ট ইন্ডিজ), এমএস ধোনি (ভারত), রোভম্যান পাওয়েল (ওয়েস্ট ইন্ডিজ), হার্দিক পান্ডিয়া (ভারত), মঈন আলী (ইংল্যান্ড), দেবেন্দ্র বিশু (ওয়েস্ট ইন্ডিজ), ভুবেনশ্বর কুমার (ভারত), মার্ক উড (ইংল্যান্ড), মোহাম্মদ আমির (পাকিস্তান)।   এস/ওয়াই 
বছরের ফ্লপ একাদশের অধিনায়ক ধোনি, ভারতের আধিপত্য
আরও পড়ুন
বাংলাদেশি হামজার সৌজন্যে টানা জয় পেলো লেস্টার
টিভিতে আজকের খেলার আয়োজন
ছোট পর্দায় আজকের খেলা
চ্যাম্পিয়নস লিগের নক-আউটে কে কার মুখোমুখি