• ঢাকা মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১০ আশ্বিন ১৪২৫

মুস্তাফিজদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ রোহিত শর্মা

স্পোর্টস ডেস্ক
|  ১৩ এপ্রিল ২০১৮, ১৫:১৩ | আপডেট : ১৩ এপ্রিল ২০১৮, ১৫:২৭
প্রথমবারের মতো হায়দরাবাদের হয়ে আইপিএলে খেলতে নেমেই বাজিমাত করেছিলেন টাইগার তারকা মুস্তাফিজ। বল হাতে ব্যাটসম্যানদের সামনে রীতিমত আতঙ্কের নাম হয়ে দেখা দিয়েছিলেন। নির্বাচিত হয়েছিলেন সেরা উদীয়মান তারকা ক্রিকেটার।

তবে পরের মৌসুমে দেখেন মুদ্রার উল্টো পিঠ। পুরো মৌসুমে মাত্র এক ম্যাচে মাঠে নামেন এই তারকা। নিজের নামের প্রতি সুবিচার করতে না পারায় আর মাঠে নামা হয়নি তার। ফলে পুরো মৌসুমের জন্য তাকে ছেড়ে দেয় সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। চলতি মৌসুমে নাম লেখান মুম্বাই ইন্ডিয়ানসে। মুম্বাইয়ের হয়ে প্রথম ম্যাচে নিজের প্রতিভার খুব একটা ঝলক দেখাতে ব্যর্থ হন এই তারকা। ৩৯ রান নিয়ে নেন ১ উইকেট।

--------------------------------------------------------
আরও পড়ুন : আরো এক বছর বায়ার্নে রিবেরি
--------------------------------------------------------

এদিকে দ্বিতীয় ম্যাচে তার সাবেক দল হায়দরাবাদের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে সাকিবকে নিয়ে চিন্তিত না হলে মুস্তাফিজকে নিয়ে চিন্তিত ছিলেন বলে জানান বাংলাদেশ দলের ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি। তিনি বলেন, সাকিব অভিজ্ঞ আর হায়দরাবাদের (সানরাইজার্স হায়দরাবাদ) ওকে লাগবেই। কিন্তু চিন্তাটা মুস্তাফিজকে নিয়ে। মুম্বাই ইন্ডিয়ানসে অনেক পেসার খেলছে। এক-দুই ম্যাচ খারাপ করলে তাই বাদ পড়ার আশঙ্কা থাকবে মুস্তাফিজের।

মাশরাফি শঙ্কায় থাকলেও ম্যাচের সময় দেখা যায় তাকে মূল দলে রেখেই হায়দরাবাদের বিপক্ষে নামে মুম্বাই। আর নেমেই মুস্তাফিজদের বোলিং দাপটে জয়ের দ্বারপ্রান্তে চলে গিয়েছিল মুম্বাই। তবে শেষ পর্যন্ত হায়দরাবাদকে জয়ের আনন্দে ভাসান দীপক হুদা।

ম্যাচে হারলেও মুস্তাফিজদের বোলিং নিয়ে দারুণ প্রশংসা করেছেন অধিনায়ক রোহিত শর্মা। ম্যাচ শেষে মুম্বাই অধিনায়ক বলেন, সত্যিই অসাধারণ একটি ম্যাচ ছিল। আমরা উপভোগ করেছি। আসলে আমাদের ব্যাটসম্যানরা ভালো করতে পারেনি। লড়াইয়ের জন্য রানটা যথেষ্ঠ ছিল না। কিন্তু বোলাররা অসাধারণ বোলিং করেছে। তরুণরা দুর্দান্ত খেলছে। আমাদের অনেক দূর যেতে হবে।

নিজের সাবেক দলের বিপক্ষে আসল রূপ দেখা মিললো মুস্তাফিজের। নিজের সাবেক সতীর্থদের সামনে আবির্ভাব হলেন রুদ্র রূপ নিয়ে। দেখা মিললো সেই পুরনো মুস্তাফিজের। নিজের প্রথম দুই ওভারে ২০ রান দিলেও তুলে নেন অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনের উইকেট।

তবে আসল মুস্তাফিজকে দেখা যায় ১৬তম ওভারে যখন নিজের দ্বিতীয় স্পেলে বল করতে আসেন। জয়ের জন্য ৩০ বলে ২৭ রান প্রয়োজন ছিল হায়দরাবাদের। উইকেটে ছিলেন ইউসুফ পাঠান ও দীপক হুদার মতো ব্যাটসম্যান। কিন্তু নিজের তৃতীয় ওভারে দিলেন মাত্র ৩ রান।

১২ বলে জয়ের জন্য হায়দরাবাদের প্রয়োজন ১২ রান। অন্যদিকে মুম্বাইয়ের প্রয়োজন ৩ উইকেট এমন সমীকরণ মাথায় রেখে ১৯তম ওভারে আবারও বল করতে আসেন এই কাটার মাস্টার। প্রথম বলে দীপক হুদা নিলেন ১ রান। এরপর ৫টি বল টানা ডট। এরই মধ্যে মুস্তাফিজ নিলেন দুটি উইকেট। তারওপর সিদ্ধার্থ কাউলকে নিজের হাতেই রিটার্ন ক্যাচ বানালেন মুস্তাফিজ। এক হাতেই ক্যাচটি ধরলেন তিনি।

এক বল বিরতি দিয়ে ওভারের শেষ বলে সন্দ্বীপ শর্মাকে ফিরিয়ে দিলেন কাটার মাস্টার। চমৎকারভাবে পুরো ম্যাচটি যেন মুম্বাইয়ের হাতে তুলে দিলেন মুস্তাফিজুর রহমান। দিনটা হতে পারত মুস্তাফিজদের। কিন্তু শেষ ওভারে ১৪ রান নিয়ে হায়দরাবাদকে জয়ের আনন্দে ভাসান দীপক হুদা। আর পরাজিত দলের সদস্য হয়েই মাঠ ছাড়তে হয় টাইগার এই তারকাকে।

আরও পড়ুন : 

এএ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়