ধর্ষণকাণ্ডে অভিযুক্ত টেবিল টেনিস খেলোয়াড়!

প্রকাশ | ২২ মার্চ ২০১৮, ১৭:৩৮ | আপডেট: ২২ মার্চ ২০১৮, ১৭:৫৪

স্পোর্টস ডেস্ক

মোহাম্মদ শামি কাণ্ড নিয়ে তোলপাড় ভারতের স্পোর্টস অঙ্গন। এর মধ্যেই ফের পুলিশে অভিযোগ দায়ের হল আরেক খেলোয়াড়ের নামে। তবে তিনি ক্রিকেটার নন। কলকাতা একসময়ের টেবিল টেনিস খেলোয়াড় সৌম্যজিৎ ঘোষ। যিনি অর্জুন পুরস্কারও পেয়েছেন। বর্তমানে রয়েছেন জার্মানিতে।

বুধবার সকালে বারাসত মহিলা থানায় গিয়ে সৌম্যজিতের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করেন এক মহিলা। যিনি এক সময়  টেবিল টেনিস খেলতেন। সঙ্গে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাস ও প্রতারণার অভিযোগও এনেছেন তিনি।

বারাসত নবপল্লীর বাসিন্দা ওই মহিলা জানিয়েছেন, টেবিল টেনিস খেলোয়াড়দের ফেসবুক গ্রুপ থেকেই তার সঙ্গে সৌম্যজিতের পরিচয় হয়। শিলিগুড়ির ছেলে সৌম্যজিতের সঙ্গে ক্রমে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয় তার।

--------------------------------------------------------
আরও পড়ুন: ম্যারাডোনার বিপক্ষে মাঠ মাতালেন বোল্ট
--------------------------------------------------------

সৌম্যজিৎ কলকাতার বাঘাযতীন এলাকায় একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে থাকতেন। অভিযোগ আনা মহিলার জানান, সৌম্যজিৎ অনেক বার আমার পরিবার থেকে টাকা নিয়েছে। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক তৈরি করেছিল। কিন্তু ইদানীং ও আমাকে এড়িয়ে চলছে। এভাবে আমার জীবন নষ্ট করার জন্য ওর উপযুক্ত শাস্তি চাই।

এ ব্যাপারে বৃহস্পতিবার অভিযুক্ত সৌম্যজিৎ জানান তাকে ফাঁসানো হয়েছে। একই দাবি করা হয়েছে তার পরিবারের তরফেও। জার্মানি থেকে সৌম্যজিৎ জানান, দেশে ফিরে যা বলার তিনি বলবেন। পাশাপাশি তার বক্তব্য, আমাকে ব্ল্যাকমেল করা হচ্ছে। ফাঁসানো হচ্ছে। 

এদিকে তরুনীর পরিবার থেকে জানানো হয়েছে, সৌম্যজিৎ মিথ্যা কথা বলছেন। তার সঙ্গে ওই তরুণীর সম্পর্কের কথা দুই পরিবারই জানত। এমনকী, উত্তরবঙ্গের এক মন্দিরে দুই পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতেই সৌম্যজিতের সঙ্গে ওই তরুণীর ‘আশীর্বাদ’ হয়। কিন্তু, এ সবের পরেই নাকি বেঁকে বসেন সৌম্যজিৎ। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ কলকাতার একটি ফ্ল্যাটে দুই পরিবারের সামনেই সৌম্যজিৎ বিয়ের ব্যাপারে নাকি ‘না’ করে দেন। এর পর শত অনুরোধেও কাজ হয়নি বলে জানিয়েছে ওই পরিবার।

সৌম্যজিৎ এর বাবা হরিশঙ্কর ঘোষ জানিয়েছেন, আমার ছেলেকে পরিকল্পিত ভাবে ফাঁসানো হয়েছে। তার দাবি, ওই মেয়েটিকে তিনি চিনতেন। টেবিল টেনিস খেলত বলে ছেলে সৌম্যজিতের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। হরিশঙ্করের কথায়, ওরা দু’জনে ভাল বন্ধু ছিল। সৌম্যর কাছ থেকে মেয়েটি ও তার পরিবার দফায় দফায় প্রায় দু’লাখ টাকা নিয়েছে। আমি একবার বাঘাযতীনের ফ্ল্যাটে ওই মেয়েটিকে দেখেছি। একবার শিলিগুড়িতেও টুর্নামেন্ট খেলতে এসেছিল। দেখা হয়েছিল। কিন্তু, সৌম্য এই সব টাকা পয়সা নেয়ার ব্যাপার মেনে নিতে পারেনি। তাই যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। 

এরপর থেকেই মেয়েটির পরিবার সৌম্যজিৎকে ফাঁসানোর চেষ্টা শুরু করে বলে শঙ্করের দাবি। পাশাপাশি তিনি, বিয়ে এবং গর্ভপাতের বিষয়টি ভিত্তিহীন বলেও দাবি করেন। সৌম্যজিতের মা মীনা ঘোষ বলেন, সৌম্যর সঙ্গে ভাল সম্পর্ক ছিল। কিন্তু, ওই মেয়েটির সঙ্গে অন্য ছেলের সম্পর্ক রয়েছে। আমার ছেলের কাছ থেকে টাকাপয়সা হাতিয়ে নেয়ার পর এখন ব্ল্যাকমেল করছে। এ সব মিথ্যা।

সৌম্যজিতের কাকা সঞ্জীব ঘোষ জানিয়েছেন, বারাসত থানা বা আদালত থেকে তারা এখনও পর্যন্ত কোনও কাগজপত্র পাননি। তারাও আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলেছেন। ওই তরুণী এবং তার পরিবারের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে দাবি করেন সঞ্জীব। তার কথায়, এভাবে নির্দোষ একটি ছেলেকে ফাঁসানোর বিষয়টি আমরা কোনও ভাবেই মেনে নেব না। যা যা শুনছি, সবই ভিত্তিহীন এবং মিথ্যা।

ক্রিকেটার মোহম্মদ শামির পর ফের ভারতের অন্যতম সেরা টেবিল টেনিস খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে যৌন সংক্রান্ত এমন অভিযোগ ওঠায় স্তম্ভিত ক্রীড়ামহল।

আরও পড়ুন:

এএ/ওয়াই