• ঢাকা বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১১ আশ্বিন ১৪২৫

মেসির ব্লু গেরো কাটানো গোলে বার্সার স্বস্তি

স্পোর্টস ডেস্ক
|  ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০৮:৩৩ | আপডেট : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১১:৩৩
৬ বছর পর স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে আবার মুখোমুখি চেলসি ও বার্সেলোনা। সব ছাপিয়ে আলোচনার বিষয় ছিলো ৬৫৫ মিনিটের গোল খরা ব্লুদের বিপক্ষে কাটাতে পারবেন কি মেসি? অবশেষে ৭৩০ মিনিটে সেই কাঙ্ক্ষিত গোল খরা কাটালেন। সঙ্গে স্বস্তি আনলেন বার্সা শিবিরে।

দুঃস্বপ্নের এক রাত কাটানোর পথেই এগিয়ে যাচ্ছিল বার্সেলোনা। উইলিয়ানের গোলে চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোর প্রথম লেগে জয়ের সুবাস পাচ্ছিল চেলসি। কিন্তু না মেসি শো যে তখনও বাকি ছিল!

আর্জেন্টাইন জাদুকর নিজের জাদুকরি কারিশমা দেখালেন ম্যাচের শেষ দিকে। তাতেই এগিয়ে থেকে চেলসির মাঠ থেকে হাসিমুখে বিদায় নিল বার্সেলোনা। দুই দলের প্রথম লেগ অমীমাংসিত থাকলো ১-১ গোলে। ম্যাচে এগিয়ে থেকেও শেষ মুহূর্তের গোলে জয়বঞ্চিত চেলসি।

জয়বঞ্চিত হওয়ায় চেলসির খেলোয়াড়দের হতাশা ছিল চোখে-মুখে। সবচেয়ে বেশি হতাশ ছিলেন ব্রাজিলিয়ান উইলিয়ান। দুই-দুইবার তার নেয়া শট ফিরে আসে পোস্টে লেগে। প্রথমবার ৩৩ মিনিটে। এডেন হ্যাজার্ডের পাস থেকে বল পেয়ে ডি বক্সের বাইরে থেকে ডান পায়ে শট নেন উইলিয়ান। বল ডান পোস্টে লেগে চলে যায় বাইরে।

৮ মিনিটের ব্যবধানে আবারও তার শট লাগে পোস্টে। এবার বাম পাশের পোস্টে। রোবার্তোর খোঁচায় বল পেয়েছিলেন হ্যাজার্ড। তার পাস থেকে বল পেয়ে যান উইলিয়ান। এক টাচে বল ঠিকমতো পজিশনে নিয়ে উইলিয়ান আবারও নেন শট। কিন্তু পোস্টে লেগে বল ফিরে আসে। অবিশ্বাস্য! দুই-দুইবার তার নেওয়া শট ফিরে আসায় হতাশ হয়ে পড়ে পুরো চেলসি ডাগআউট।

তবে দ্বিতীয়ার্ধে দলকে উচ্ছ্বাসে ভাসানোর সুযোগ করে দেন ওই উইলিয়ানই। ২৯ বছর বয়সি ব্রাজিল তারকা ৬২ মিনিটে ডি বক্সের বাইরে থেকে শট নিয়ে বল পাঠান জালে। আগের দুইবারের মতো ভুল করেননি উইলিয়ান। পোস্টে লেগে ফিরে আসা শটগুলো প্রত্যেকটি নিয়েছিলেন হাওয়ায় ভাসিয়ে। গোল পাওয়া শটটি জালে যায় মাটি কামড়ে। কর্নার কিক থেকে সেস ফ্যাব্রিগাস ছোট্ট পাসে বল দেন হ্যাজার্ডকে। তার পাস থেকে বল পান উইলিয়ান। এরপর বল যায় সোজা বার্সেলোনার জালে।

স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে প্রথমার্ধ থেকে সব ওলোটপালোট হয়ে যাচ্ছিল বার্সেলোনার। মেসি, সুয়ারেজরা হারিয়ে যাচ্ছিলেন চেলসির অসাধারণ ফুটবলে। ৯০ মিনিটের খেলায় সবচেয়ে বেশি বল দখল করেও চেলসির রক্ষণদুর্গ ভাঙতে পারছিল না কাতালানরা। স্বাগতিকদের বিপক্ষে জয় পেতে ৪-১-২-১-২ ফরমেশনে রণকৌশল সাজিয়েছিলেন বার্সোলানার কোচ আর্নেস্তো ভালভার্দে। কিন্তু তার পরিকল্পনা ভেস্তে যায় চেলসির ৩-৪-৩ ফরমেশনে।

প্রথম ৪৫ মিনিট হতাশায় কেটেছিল বার্সেলোনার, চেলসির রক্ষণভেদ করাই কঠিন হয়ে পড়েছিল তাদের। শুরুতে বল তাদের পায়ে থাকলেও প্রতিপক্ষের কাউন্টার অ্যাটাকে বেশ কয়েকবার কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছিল তারা।

ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলের প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন ফুটবল। ছিল না কোনো ভালো আক্রমণ, ছিল না বড় তারকার কোনো দুর্দান্ত ফুটবল প্রদর্শনী। প্রথম ৫ মিনিট বার্সার কাছ থেকে বল ছিনিয়ে নিতে পারেনি ব্লুরা। তবে ষষ্ঠ মিনিটে বল পেয়েই জর্দি আলবাকে পেছনে ফেলে বক্সের প্রান্ত থেকে রকেট গতির শট নেন ইডেন হ্যাজার্ড। বেলজিয়ান তারকার শটটি ক্রসবারের খানিকটা উপর দিয়ে চলে যায় মাঠের বাইরে।

১৩ মিনিটে হ্যাজার্ড সুযোগ তৈরি করেছিলেন গোল করার। পাওলিনহোকে টপকে ডি বক্সের ভেতরে ঢুকে শট নিয়েছিলেন। কিন্তু শট বেরিয়ে যায় পোস্টের বাইরে। ১৫ মিনিটে মেসির বাড়ানো পাস মিস করেন পাওলিনহো। বিরতির আগে চেলসিকে দুইবার হতাশ করেছে গোলপোস্ট। ৩৪ মিনিটে উইলিয়ানের ডান পায়ের শট বাঁক খেয়ে লাগে ব্যাকপোস্টে। ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডকে আরও একবার আক্ষেপে পোড়ায় গোলপোস্ট। ৪২ মিনিটে ২০ গজ দূর থেকে নেওয়া তার শট বার্সা গোলরক্ষককে ফাঁকি দিলেও মুখ ফিরিয়ে নেয় ভাগ্য। পরের মিনিটে হ্যাজার্ডের দুর্দান্ত ভলি আবার চলে যায় ক্রসবারের উপর দিয়ে। 

সুযোগ নষ্ট হলেও প্রথমার্ধ আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছিল চেলসিকে, আর দুশ্চিন্তায় ফেলেছিল বার্সাকে। ৫৫ মিনিটে অবশ্য চেলসি গোলরক্ষক থাইবত কোর্তোয়ার ছোট্ট পরীক্ষা নেন লুই সুয়ারেস। ইনিয়েস্তার পাস থেকে উরুগুয়ান স্ট্রাইকারের নিচু শটটি রুখে দিয়ে সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন স্বাগতিক গোলরক্ষক।

প্রথমার্ধের আত্মবিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে ৬৩ মিনিটে গোলমুখ খোলেন উইলিয়ান। বক্সের বাইরে থেকে তার মাটি কামড়ানো শট প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের বোকা বানিয়ে বার্সার জালে জড়ায়।

ম্যাচে ফিরে আসতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে বার্সা। সেটা সফল হয় স্বাগতিক রক্ষণভাগের ভুলে। ৭৫ মিনিট পর্যন্ত রক্ষণভাগে বার্সেলোনাকে ঢুকতেও দেয়নি চেলসির ডিফেন্ডাররা। দারুণ প্রতিরোধে মেসি, সুয়ারেজদের আটকে রাখে চেলসি। দেয়াল হয়ে বারবার তাদের আক্রমণগুলোকে ফিরিয়ে দিচ্ছিল। কিন্তু ছোট্ট এক ভুলে বড় মাশুল দিতে হয় 'ব্লুজ'দের।

ক্রিসটেনসেন বাঁ পাশ থেকে বল ক্লিয়ার করতে পাস দেন ডান পাশে। ডি বক্সের ঠিক বাইরেই ছিলেন আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা। দারুণ ট্যাকলে বল নিয়ে ভেতরে ঢুকে পড়েন বার্সা অধিনায়ক। মেসিও ঢুকে পড়েন তার সাথে। এরপর সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। ৭৩০ মিনিটের অপেক্ষার অবসান। ইনিয়েস্তার বাড়ানো পাসে বাঁ পায়ে শট নিয়ে চেলসির জালে বল পাঠান মেসি। এর আগের আট ম্যাচে মেসি খুঁজে পাননি চেলসির জাল।

আজ প্রতিপক্ষের মাঠে অ্যাওয়ে গোল করে মেসি দলকে একধাপ এগিয়ে নিয়ে গেছেন, কাটিয়েছেন চেলসির বিপক্ষে দীর্ঘ গোল-খরা। মেসি গোল করার দুই মিনিট আগেই ১০ জনের দলে পরিণত হয় চেলসি। ব্লুজদের তারকা উইলিয়ান নাকে ব্যথা পাওয়ায় মাঠ ছেড়ে যান ৭৩ মিনিটে। দুই মিনিটের ব্যবধানে মস্ত বড় ভুলে বিশাল ক্ষতি হয়ে যায় চেলসির। শেষ ষোলোর প্রথম লেগ ড্র হলো ১-১ ব্যবধানে। জাদুকর মেসি আরও একবার ত্রাতা হয়ে এলেন বার্সেলোনার জন্য। ১৪ মার্চ ন্যু ক্যাম্পে দ্বিতীয় লেগের অপেক্ষা।

৯০ মিনিটের খেলার বার্সেলোনা ৭৩ ভাগ বল রেখেছে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে। অন্যদিকে মাত্র ২৭ ভাগ বল নিয়েও চেলসি ছিল দুর্দান্ত। কিন্তু শেষ হাসিটা তারা হাসতে পারেননি। তাইতো ফ্যাব্রিগাস ম্যাচ শেষে বলেছেন, এর থেকে হতাশার আর কী থাকতে পারে। একবার নয়...দু’বার উইলিয়ানের নেয়া শট ফিরে আসে পোস্টে লেগে!

আরও পড়ুন: 

এএ/পি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়