অভিজ্ঞতার কাছেই টাইগারদের আত্মসমর্পণ

প্রকাশ | ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ২০:৩৬ | আপডেট: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ২০:৫৮

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট

সৌম্য, মুশফিকের অর্ধশত ও মাহমুদুল্লাহর লড়াকু ইনিংসে লঙ্কানদের সামনে প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে পাহাড়সম টার্গেট দাঁড় করানোর পরেও অভিজ্ঞতার কাছেই হারলো টাইগাররা। তামিম, সাকিবের যে অভাব তা ভালোভাবেই ফুটে উঠলো পুরো ম্যাচে। বিশেষ করে বলতে গেলে সাকিবের অভাবটা আরো একবার টের পেলো টাইগাররা। 

সাকিব দলের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে যে ব্রেক থ্রু এনে দেন এদিন কোনো তরুণ বোলারই তা পূরণ করতে সমর্থ হয়নি। তারপরও নাজমুল ইসলাম অপু দলের প্রয়োজনে ব্রেক থ্রু এনে দিলেও তা ধরে রাখতে পারেনি বাকি বোলাররা।

২০ ওভারে ১৯৪ রানের টার্গেটকে পাহাড়সমই বলা চলে। কিন্তু লঙ্কানদের ব্যাটিং দেখে একটি বারের জন্যও মনে হয়নি তারা মূলত  টার্গেট পাড়ি দেয়ার লক্ষ্যে ব্যাটিং করছে। কুশল মেন্ডিস ও গুণাথিলাকা প্রথম পাঁচ ওভারেই দলীয় অর্ধশত পূরণ করেন। এরপর অভিষিক্ত অপু গুণাথিলাকাকে মুশফিকের ক্যাচ বানিয়ে ফেরালেও অপরপ্রান্তে ঠিকই বিধ্বংসী ছিলেন কুশল মেন্ডিস। অবশেষে দলীয় ৯০ রানে সৌম্য সরকারের ক্যাচ বানিয়ে টি-টোয়েন্টিতে নিজের প্রথম শিকার হিসেবে কুশল মেন্ডিসকে ফেরান আরেক অভিষিক্ত আফিফ হোসেন। অবশ্য তার আগেই ব্যাটে ঝড় তুলে ২৭ বলে ৮ চার ও ২ ছয়ের সাহায্যে ৫৩ রানের ঝকঝকে ইনিংস খেলেন মেন্ডিস। অনবদ্য এ ইনিংসের জন্য প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হন তিনি।

মেন্ডিস ফিরে যাওয়ার ২ রান পরই আফিফের ক্যাচ বানিয়ে থারাঙ্গাকে আউট করেন নাগিন ড্যান্সে নিজের দ্বিতীয় উইকেট উদযাপন করেন নাজমুল ইসলাম অপু। এরপর নিরোশান ডিকাভেলা কে নিয়ে দাসুন শানাকা দলকে এগিয়ে নিতে থাকেন। দলীয় ১২৯ রানে চতুর্থ উইকেট হিসেবে রুবেল ডিকাভেলা কে আফিফের ক্যাচ বানিয়ে ফেরত পাঠালেও অপরপ্রান্তে সাবলীল ভঙ্গিতে খেলছিলেন শানাকা। শেষ পর্যন্ত ২৪ বলে ৩ ছয় ও ৩ চারের সাহায্যে ৪২ রানে অপরাজিত থেকে দলকে জয়ের বন্দরে পৌছেই ক্ষ্যান্ত হন শানাকা। আরেক অপরাজিত ব্যাটসম্যান থিসারা পেরেরা ১৮ বলে ৪ চার ও ৩ ছয়ে ৩৯ রানের ছোট্ট একটি টর্নেডো ইনিংস খেলেন। 

বাংলাদেশের পক্ষে নাজমুল ইসলাম অপু ২টি, আফিফ হোসেন ও রুবেল হোসনে ১টি করে উইকেট লাভ করেন। 

এর আগে হোম অব ক্রিকেট খ্যাত মিরপুরের শেরে-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দিবা-রাত্রির দুই ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় টাইগাররা।

ব্যাটিংয়ে নেমে জাকিরকে সঙ্গে নিয়ে সৌম্য সরকার ইনিংসের গোড়াপত্তন শুরু করেন। দলীয় ৪৯ রানে গুণাথিলাকার বলে জাকির বিদায় নিলেও অপরপ্রান্তে ব্যাটে ঝড় তোলেন সৌম্য। শেষ পর্যন্ত ৩২ বলে ৬ চার ও ২ ছয়ের সাহায্যে ৫১ রান করে জীবন মেন্ডিসের বলে এলবির ফাঁদে পড়ে প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন। 

একই ওভারের তৃতীয় বলে অভিষিক্ত আফিফ হোসেন কোন রান না করেই মেন্ডিসের বলে ডিকাভেলার ক্যাচে পরিণত হন। এরপর উইকেটে মুশফিকের সঙ্গে অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ এসে জুটিবদ্ধ হয়ে দলীয় সংগ্রহকে বাড়াতে সাহায্য করেন। 

এ দুজন মিলে চতুর্থ উইকেট জুটিতে ৭৩ রানের পার্টনারশীপ গড়েন। দলীয় ১৭৩ রানে মাহমুদুল্লাহ ৩১ বলে ২ চার ও ২ ছয়ে ৪৩ রান করে উদানার শিকারে পরিণত হন। সাব্বির ক্রিজে এসে ঝড় তোলার আগেই তাকে বোল্ড করে ফেরান পেরেরা। 

শেষ পর্যন্ত ৪৪ বলে ৭ চার ও ১ ছয়ে ৬৬ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন মুশফিকুর রহিম। 

শ্রীলঙ্কার পক্ষে জীবন মেন্ডিস ২টি, গুণাথিলাকা, উদানা ও পেরেরা ১টি করে উইকেট লাভ করেন। 

বাংলাদেশ ইনজুরি আক্রান্ত মুশফিককে পেলেও শেষ পর্যন্ত তামিমকে ছাড়াই ব্যাটিংয়ে নামে। এ ম্যাচে একসঙ্গে অভিষেক হয় পাঁচ জনের। যেখানে বাংলাদেশের চারজন ও শ্রীলঙ্কান একজন ছিলেণ। বাংলাদেশের অভিষেক হয়েছে অলরাউন্ডার আফিফ হোসেন, ব্যাটসম্যান জাকির হাসান, আরিফুল হক ও বাঁহাতি স্পিনার নাজমুল ইসলাম অপুর। বাংলাদেশের ক্রিকেটে এর আগে এক সঙ্গে চার ক্রিকেটারের অভিষেক হয়েছিল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খুলনায় ২০১৬ সালের ২০ জানুয়ারি। 

টি-টোয়েন্টি ক্যাপ পেয়েছিলেন মোহাম্মদ শহীদ, আবু হায়দার রনি, মুক্তার আলী ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। আজ আফিফের মাথায় ক্যাপ তুলে দেন তামিম ইকবাল, জাকিরের মাথায় সাবেক টেস্ট অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম, আরিফুলের মাথায় দলের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদ ও অপুর মাথায় ক্যাপ তুলে দেন অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ। অন্যদিকে শ্রীলঙ্কার হয়ে অভিষেক হয়েছে শিহান মাদুশঙ্কার।

এএ/এমকে