• ঢাকা শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৭ আশ্বিন ১৪২৫

তিন স্পিনার নিয়ে লঙ্কানদের মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ

স্পোর্টস ডেস্ক
|  ৩১ জানুয়ারি ২০১৮, ০৯:০১ | আপডেট : ৩১ জানুয়ারি ২০১৮, ০৯:৫১
ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে হৃদয়ভাঙ্গা পরাজয়, একই দিনে সাকিবের ইনজুরিতে মাঠে বাইরে চলে যাওয়া, কাকতালীয়ভাবে চার বছর পর স্পিনার আব্দুর রাজ্জাকের দলে ডাক পাওয়া, নতুন অধিনায়ক হিসেবে টেস্টে মাহমুদুল্লাহর অভিষেক এত কিছু মিলিয়েই আজ থেকে মাঠে গড়াবে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের প্রথম টেস্ট। 

উভয় দল এখন অবস্থান করছে পর্যটন নগরী চট্টগ্রামে। সীমিত ওভারের ক্রিকেটে শেষ দুই ম্যাচে নাস্তানাবুদ হয়েছে টাইগাররা। সেই লঙ্কানদের বিপক্ষেই টেস্ট খেলতে নামছে টাইগাররা। আজ থেকে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচটি শুরু হবে। ম্যাচটিতে প্রতিদিন খেলা শুরু হবে সকাল সাড়ে নয়টা থেকে। 

ইনজুরিতে না পড়লে চট্টগ্রাম টেস্ট দিয়ে অধিনায়ক হিসেবে দ্বিতীয় ‘জীবন’ শুরু করতেন সাকিব আল হাসান। কিন্তু সব কিছু উলট-পালট হয়ে গেল এক ইনজুরিতে। সহ-অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহর নামের পাশ থেকে সরে গেল ‘সহ’। অধিনায়ক রূপে আবির্ভাব মাহমুদুল্লাহ। দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে ঠিকই কিন্তু সাকিবকে হারিয়ে অধিনায়কত্ব চাননি তিনি।

স্বপ্ন পূরণ আর বেদনা দুইয়ের মিশেলে মাহমুদুল্লাহর হাসি চড়া হচ্ছে না। তবে মাঠের পারফরম্যান্স তাকে দিতে পারে অনেক কিছু। দশম বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে সাদা পোশাকে টাইগারদের নেতৃত্ব দিতে যাচ্ছেন এই তারকা ক্রিকেটার। দলকে এর আগে কোন ফরম্যাটেই নেতৃত্ব দেননি মাহমুদুল্লাহ। তবে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) খুলনা টাইটানস, চিটাগাং কিংসকে নেতৃত্ব দেয়ার অভিজ্ঞতা আছে তার।

তার নেতৃত্বে অবশ্য দলগুলো বিপিএলে ভালই করেছে। কিন্তু এবারই প্রথম বাংলাদেশ জাতীয় দলকে নেতৃত্ব দিতে যাচ্ছেন দলের সিনিয়র এই ক্রিকেটার। নিজের ৩৬তম টেস্টে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দলপতি হচ্ছেন তিনি।

প্রথম টেস্টে মাঠে নামার আগে মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে এসেছিলেন নতুন এই অধিনায়ক। তিনি জানিয়েছেন, অধিনায়ক হিসেবে কোনো কিছুতে এক চুল পরিমাণও ছাড় দিবেন না।

তিনি আরো বলেন, আমি অধিনায়ক হিসেবে কোনো কিছুতে ছাড় দেই না। দলকে যা দেয়ার সেটা আমি দেই। সেটার জন্য কঠোর হয়ে হোক কিংবা উৎসাহ দিয়ে হোক, সব দিক থেকে চেষ্টা করব। মূল কথা হচ্ছে বাংলাদেশ দলকে ভালো কিছু দিতে হবে, এটাই আমাদের দায়িত্ব।

অন্যদিকে লঙ্কানবধে নতুন স্ট্রাটেজি সাজিয়েছে টাইগাররা। সাত ব্যাটসম্যান, তিন স্পিনার, এক পেসার নিয়ে খেলবে বাংলাদেশ। তার মানে স্পিন উইকেট বানিয়ে শ্রীলঙ্কাকে আটকাতে চাচ্ছে বাংলাদেশ। এজন্য আগামীকালকের একাদশে তিন স্পিনার নিয়ে নামতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। সাকিবের পরিবর্তে অভিজ্ঞ আব্দুর রাজ্জাক থাকবেন নেতৃত্বে। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে পাঁচ’শ উইকেটের স্বাদ পাওয়া এ স্পিনারের থেকে বড় প্রত্যাশা টিম ম্যানেজম্যান্টের। তার সাথে নিশ্চিতভাবেই থাকছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। দুই স্পিনারের সাথে তাইজুল ইসলাম কিংবা অনূর্ধ্ব-১৯ দলের নাঈম হাসানের থাকার সম্ভাবনা বেশি।

তিন স্পিনারের সাথে থাকবে এক পেসার। রুবেল হোসেন ও কামরুল ইসলাম রাব্বী থাকলেও টিম ম্যানেজম্যান্টের প্রথম পছন্দ ছন্দে থাকা মুস্তাফিজুর রহমান।

এছাড়া রণ কৌশলের পরিকল্পনায় রয়েছেন সাত ব্যাটসম্যান। ওপেনার তামিম ইকবালের সঙ্গী ইমরুল কায়েস। তিনে মুমিনুল হক ও চারে মুশফিকুর রহিম। অধিনায়ক মাহদুউল্লাহ রিয়াদ থাকবেন পাঁচে। মুশফিকুর রহিম উইকেটের পিছনে থাকছেন না। উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান লিটন কুমার দাস ছয়ে এবং মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত সাতে ব্যাটিং করবেন।

নতুন রণকৌশল নিয়ে নতুন অধিনায়ক বলেন, আমরা আমাদের হোম কন্ডিশনে স্পিনারদের উপর ভরসা রাখি। আমাদের এই বিভাগটা বেশ ভালো, শক্ত। সাকিব নেই আমরা সেটা ব্যাকআপ করার চেষ্টা করবো।

অভিজ্ঞ এই ক্রিকেটার বলেন, মাঠে অধিনায়ক হিসেবে অনেক সিদ্ধান্তই নিতে হয়। আমার মনে হয় ওই সময় যদি নিজেকে শান্ত রাখা যায় তাহলে সিদ্ধান্ত নিতে সুবিধা হয়। আমি সবসময় এই জিনিসটা বিশ্বাস করি। আপনি যদি মাথা ঠাণ্ডা রাখেন তাহলে সিদ্ধান্ত নিতে সুবিধা হয়। আমি ঘরোয়া ক্রিকেটেও অধিনায়ক হিসেবে সেটাই করে থাকি। আমার মনে হয় এটা সিদ্ধান্ত গ্রহণে সাহায্য করে। আমার চেষ্টা থাকবে দলকে উৎসাহ দেয়া ও পারফরমেন্স ধরে রাখা।

অন্যদিকে নিজেরা যতেই রণকৌশল সাজাক না কেনো তাদের অবশ্যই ভালো পরীক্ষার মধ্যে পড়তে হবে বিশেষ করে লঙ্কান অভিজ্ঞ স্পিনার রঙ্গনা হেরাথের সামনে। বয়সটা তার চল্লিশ ছুঁই ছুঁই। ক্রিকেট ছেড়ে অবসরে যাওয়ার বয়স। কিন্তু লোকটা যখন রঙ্গনা হেরাথ তখন কি আর ‘অবসর’ প্রসঙ্গটাকে আনা যায়? জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই কিছু ব্যতিক্রম থাকে। রঙ্গনা হেরাথ তেমনই ক্রিকেটের ব্যতিক্রম একজন।
 

ব্যতিক্রম হেরাথ বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় আতঙ্কও। যেমন বরাবরই আতঙ্কের ছিলেন মুরালিধরন। মুরালির রাজত্বকালে লঙ্কান ক্রিকেটে আবির্ভূত হয়েছিলেন হেরাথ। কিংবদন্তি অফব্রেক বোলার মুরালিধরনের ছায়া হয়েই থাকতে হয়েছে বাঁ-হাতি অর্থডক্স স্পিনার হেরাথকে। টেস্টে ৮০০ উইকেট আর সবমিলিয়ে ১৩৪৭ উইকেট নেয়া মুরালি ক্রিকেট ছেড়েছেন ২০১১ ওয়ানডে বিশ্বকাপে।

এরপর থেকেই লঙ্কান স্পিন আক্রমণের নেতা হেরাথ। ক্যারিয়ারের আসল সময়টা একজনের ছায়া হয়ে পড়ে থাকলেও এই বুড়ো বয়সেও যার এতোটুকুন কমেনে। বরং তারুণ্যের উদ্দীপনা তার বোলিংয়ে। যেন মাঠের বাইরে পার করা সময়ের উইকেটগুলোও তুলে নিয়ে চলেছেন। গেল অক্টোবরে প্রথম বাহাঁতি স্পিনার হিসেবে গড়েছেন ৪০০ উইকেট নেয়ার কীর্তি।

--------------------------------------------------------
আরও পড়ুন: প্রশ্ন ফাঁসের দায়ে ঢাবির ১৫ শিক্ষার্থী বহিষ্কার
--------------------------------------------------------

সেই হেরাথ বাংলাদেশের সামনে বরাবরই সফল। ২০১৭ সালে বাংলাদেশ দল যখন শ্রীলঙ্কা সফরে যায়, অধিনায়ক মুশফিকুর রহীমকে তখন আলাদা করে বলতে হয়েছিল হেরাথের কথা। জানান, তাকে নিয়ে হোম ওয়ার্কের কথা। বুধবার চট্টগ্রামে ঘরের মাঠে সিরিজ শুরু। এখানেও হেরাথকে নিয়ে তো আলাদা পরিকল্পনা করতেই হচ্ছে টাইগারদের।

পরিসংখ্যান বলে বাংলাদেশের বিপক্ষে ৮ টেস্টে ৪১ উইকেট শিকার করেছেন হেরাথ। যার মধ্যে পাঁচ উইকেট নিয়েছেন তিনবার। একবার নিয়েছেন দশ উইকেটও। সর্বশেষ শ্রীলঙ্কা সফরে হোমওয়ার্ক করার পরও ২ টেস্টে ১৬ উইকেট তুলে নিয়েছিলেন হেরাথ। গলে ২৫৯ রানে বাংলাদেশের হারের মূলেও তো হেরাথের বোলিং। কলোম্বতে টাইগারদের শততম টেস্টে জয় ছিনিয়ে নেয়ার ম্যাচেও দুই ইনিংস মিলিয়ে ৭ উইকেট নিয়েছিলেন হেরাথ।

ওয়ানডে-টি-টোয়েন্টিতে শ্রীলঙ্কা তুলনামূলক দুর্বল হলেও টেস্টে তারা শক্তিশালী দল। রেকর্ড ঘাটলে দেখা যাচ্ছে, টেস্ট পরিসংখ্যানে শ্রীলঙ্কাই এগিয়ে। বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে এখন পর্যন্ত ১৮টি টেস্ট ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে শ্রীলঙ্কা জয় পেয়েছে ১৫টিতে। বাংলাদেশ জিতেছে ১টিতে। আর দুইটি ম্যাচ ড্র হয়েছে।

রেকর্ডে পিছিয়ে থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ের পারফরম্যান্স টাইগারদের এগিয়ে রাখছে। গত বছর শ্রীলঙ্কার মাটিতেই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট জয় করে বাংলাদেশ। দুই ম্যাচের ওই সিরিজটি ১-১ ড্র হয়। এরপর গত বছর ঘরের মাটিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ১-১ ড্র করে বাংলাদেশ।

এই সিরিজে নতুন অধিনায়কের নেতৃত্বে খেলবে বাংলাদেশ। টেস্টে দশম অধিনায়ক হিসাবে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিবেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। সম্প্রতি মুশফিকুর রহিমকে সরিয়ে সাকিব আল হাসানকে টেস্টে দ্বিতীয়বারের মতো অধিনায়ক করা হয়। কিন্তু গত ২৭ জানুয়ারি ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে ইনজুরিতে পড়ে এই ম্যাচ থেকে ছিটকে যান সাকিব আল হাসান। যার কারণে অধিনায়কের দায়িত্ব পড়েছে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের উপর।

বাংলাদেশের স্কোয়াড দেখেই বোঝা যাচ্ছে একাদশ স্পিন নির্ভর হবে। বাংলাদেশ যদি তিন স্পিনার নিয়ে মাঠে নামে তাহলে স্পিনারদের মধ্যে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে আব্দুর রাজ্জাক, মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাইজুল ইসলামের। আবার দলে নতুন মুখ স্পিনার নাঈম হাসানেরও অভিষেক হয়ে যেতে পারে। একজন পেসার থাকলে ধরেই নেয়া যায় যে মোস্তাফিজুর রহমান একাদশে থাকবেন। দুইজন পেসার থাকলে মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে যোগ হতে পারেন রুবেল হোসেন।

বাংলাদেশ একাদশ (সম্ভাব্য):

তামিম ইকবাল, ইমরুল কায়েস, মুমিনুল হক, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ (অধিনায়ক), লিটন দাস (উইকেটরক্ষক), মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, আব্দুর রাজ্জাক/নাঈম হাসান, মোস্তাফিজুর রহমান।  

আরও পড়ুন:

এএ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়