• ঢাকা শুক্রবার, ১৭ আগস্ট ২০১৮, ২ ভাদ্র ১৪২৫

ওজনিয়াকির হাতে উঠলো সোনার হরিণ

স্পোর্টস ডেস্ক
|  ২৭ জানুয়ারি ২০১৮, ২০:৫৯ | আপডেট : ২৭ জানুয়ারি ২০১৮, ২১:০৮
র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে কয়েকবারই ওঠেছিলেন। হয়েছিলেন শীর্ষ বাছাইও। কিন্তু কোথায় যেন একটু আক্ষেপ ছিল। আর সেটা হলো একটি গ্র্যান্ডস্ল্যামের শিরোপাও হাতে তুলে না ধরার। ২০০৯ ও ২০১৪ যুক্তরাষ্ট্র ওপেনের ফাইনালে উঠেছিলেন বটে; কিন্তু শেষ হাসি হাসা সম্ভব হয়নি। দু’বারই রানার্স হয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে তাকে।

হ্যাঁ বলছি ডেনমার্কের টেনিস তারকা ক্যারোলিন ওজনিয়াকির আক্ষেপের কথা। কিন্তু এবার সেই আক্ষেপ ঘুছিয়ে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের নতুন রাণী হিসাবে মুকুট পরে নিলেন ওজনিয়াকি। দুহাতে উঁচু করে তুললেন প্রথম গ্র্যান্ডস্ল্যামের শিরোপা। সঙ্গে ছিল তৃপ্তির ঢেকুর। সেই সঙ্গে তিনিও ওঠে গেছেন র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে। 

প্রতিযোগিতায় শুরু থেকেই ওজনিয়াকি যেন নিজের পুরনো ছন্দে ফিরে এসেছিলেন। তবে এটাও বলেছিলেন, খেতাব জিতলে অবশ্যই সেটা অতিরিক্ত প্রাপ্তি। কিন্তু তার হারাবার কিছু নেই।

মেলবোর্নের রড লেভার এরিনায় বিশ্বের এক নম্বর তথা শীর্ষ বাছাই রোমানিয়ান তারকা সিমোনা হালেপকে পরাজিত করে রাণীর মুকুট জয় করেন ডেনমার্কের টেনিস তারকা ওজনিয়াকি। তৃতীয় বারের প্রচেষ্টায় গ্র্যান্ডস্ল্যামের খেতাব হাতে তুলতে সক্ষম হলেন তিনি। ২ ঘণ্টা ৫০ মিনিট স্থায়ী হয় এ রোমাঞ্চকর লড়াই।

২৭ বছর বয়সী সিমোনা হালেফকে ওজনিয়াকি হারিয়েছেন ৭-৬, ৩-৬ এবং ৬-৪ সেটের ব্যবধানে। প্রথম সেট জিততে খুব হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছে দুই জনের মধ্যে। শেষ পর্যায়ে ওজনিয়াকি ৭-৬ ব্যবধানে পরাজিত করেন হালেফকে। দ্বিতীয় সেটে বলতে গেলে একতরফাভাবেই হেরে যান ওজনিয়াকি। এতে ব্যবধান দাড়ায় ৩-৬। যে কারণে শেষ সেটে বেশ জমজমাট হয়েছিল। এই সেটে আর ওজনিয়াকি হালেফকে আধিপত্য বিস্তার করার সুযোগই দেননি। তাই পরবর্তীতে ৬-৪ ব্যবধানে জিতে শিরোপা হাতে তুলে নিলেন ওজনিয়াকি।

অন্যদিকে, এই নিয়ে তৃতীয়বার কোনো গ্র্যান্ডস্ল্যামের ফাইনাল থেকে খালি হাতে ফিরতে হলো ২০১৪ ও ২০১৭ সালের ফরাসি ওপেনের রানার্সআপ হালেপকে।

ম্যাচ শেষে ২৬ বছর বয়সী হালেপের উদ্দেশে চ্যাম্পিয়ন ওজনিয়াকি বলেন, আমি সিমোনাকে অভিনন্দন জানাতে চাই। জানি দিনটা তার জন্য কঠিন। আমি দুঃখিত, আমাকে জিততে হতো। তবে আমি নিশ্চিত, ভবিষ্যতে আমরা অনেক ম্যাচ খেলবো। এটা অবিশ্বাস্য একটা ম্যাচ ছিল, অবিশ্বাস্য এক লড়াই।

৬ বছরের মধ্যে প্রথমবার র‌্যাঙ্কিংয়ের ১ নম্বরে উঠে আসা এ তারকা আরো বলেন, আমার কণ্ঠস্বর কাঁপছে। আমি কখনো কাঁদিনি। কিন্তু আজ এটা খুবই আবেগঘন মুহূর্ত।

অপরদিকে সিমোনা বলেন, অবশ্যই আমার মন খারাপ। তবে ক্যারোলিন আমার চেয়ে ভালো খেলেছে। আমি লড়াই করে যাব। আমার অনেক বছর পাড়ি দেয়ার বাকি। আশা করি, আজকের মতো আমরা আরেকটি চ্যালেঞ্জে মুখোমুখি হবো।

শুধু অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের শিরোপা জেতাই নয়, একই সঙ্গে ৬ বছর পর র‌্যাঙ্কিংয়ে নিজের হারানো মুকুট উদ্ধার করলেন ডেনিস তারকা। টেনিসের ইতিহাসে সময়ের এই ব্যবধানটাও সবচেয়ে লম্বা। ২০১২ সালে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনেই এই পদ খুইয়েছিলেন ড্যানিশ তারকা।

আরও পড়ুন: 

এএ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়