
সেমিতে যাওয়ার পথে বাধা ছিল দিল্লিগেট। প্রকৃত পক্ষে বলা চলে ভারত। সেই বাধা আর পেরুতে পারলো না যুবারা। আটকে গেলো দিল্লিগেটে। তা আর টপকানো হয়নি। এ নিয়ে টানা দ্বিতীয়বার অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে যেতে পারলো না যুবারা।

নিউজিল্যান্ডের কুইন্সটাউনে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচে শক্তিশালী ভারতের মুখোমুখি হয় বাংলাদেশি যুবারা। টস জিতে বাংলাদেশের বিপক্ষে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন ভারতীয় অধিনায়ক পৃথভি শাহ। নির্ধারিত ওভারের চার বল আগে সবকটি উইকেট হারিয় ২৬৫ রানের বড় সংগ্রহ পায় ভারত অনূর্ধ্ব-১৯ দল। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ৪২.১ ওভারে ১৩৪ রান তুলতেই অলআউট হয়ে যায় বাংলাদেশি যুবরা। এ জয়ে সেমি নিশ্চিত করেছে ভারতে যুবারা। যেখানে তাদের জন্য অপেক্ষা করছে চিরপ্রতিদন্দ্বী পাকিস্তান।
ব্যাটিংয়ে নেমে দলীয় ১৬ রানেই মনজতকে সাজঘরে ফেরান কাজী অনিক। দ্বিতীয় উইকেটে ঘুরে দাঁড়িয়ে ৮৬ রানের জুটি করেন পৃতভি শাহ ও শুবমান গিল। অধিনায়খ পৃতভি ৫৪ বলে ৫ চারের সাহায্যে ৪০ রান করে সজঘরে ফিরেন।
এরপর হার্ভিক দেশাইয়ের সঙ্গে গিল ক্রিজে দাঁড়ান শক্ত হাতে। ৭৪ রানের জুটি গড়েন তারা। দেশাইকে (৩৪) বোল্ড করে ফেরান নাঈম হাসান। এরপর বাংলাদেশি বোলারদের দারুণ সময় কাটে। শুবমান ৮৬ রানে নাঈমের দ্বিতীয় শিকার হন। সাজঘরে ফেরার আগে ৯৪ বলে ৮ চারের সাহায্যে তার ব্যাট থেকে আসে মূল্যবান ৮৬ রান। তারপর অভিষেক শর্মার ৫০ রানই ছিল উল্লেখযোগ্য। লোয়ার অর্ডার ব্যাটসম্যানরা যুবাদের বোলিংয়ের সামনে আর দাঁড়াতে পারেননি বেশিক্ষণ।
বাংলাদেশের পক্ষে অনিক সর্বোচ্চ তিন উইকেট নেন। দুটি করে পান সাইফ হাসান ও নাঈম। হাসান ও রবিউল একটি করে উইকেট পান।

লক্ষ্যটা তেমন কঠিন ছিল না বাংলাদেশের জন্য। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ এ ম্যাচে কার্যকরী ইনিংস খেলতে পারেননি কোনো যুবা ব্যাটসম্যান। বাংলাদেশের পক্ষে ওপেনার পিনাক ঘোষ সর্বোচ্চ ৪৩ রান করেন। তারপর বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ছিল আফিফ হোসেনের ১৮ রান। ২৩ রানে উদ্বোধনী জুটি ভাঙার পর অধিনায়ক সাইফ (১২) ও পিনাকের ৩২ রানের জুটিই ছিল সর্বোচ্চ। ৭৯ রানের ব্যবধানে বাংলাদেশের শেষ ৯ উইকেট তুলে নেয় ভারত। শেষ পর্যন্ত ১৩৪ রানে গিয়ে থামে বাংলাদেশের ইনিংস।
বল হাতে সবচেয়ে বেশি সর্বনাশা ছিলেন কমলেশ নাগরকোটি তিনি সর্বোচ্চ তিন উইকেট নেন। এছাড়া দুটি করে পান অভিষেক ও শিবম মাভি। একটি উইকেট পান অনুকুল রয়।
আগামী ৩০ জানুয়ারি ক্রাইস্টচার্চের হ্যাগলি ওভালে পাকিস্তান ও ভারত মুখোমুখি হবে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে। তার আগের দিন প্রথম সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে লড়বে আফগানিস্তান।
বাংলাদেশের বিশ্বকাপ মিশন এখনই শেষ হয়নি। আগামী ২৮ জানুয়ারি পঞ্চম স্থান নির্ধারণী প্লে অফে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে গত আসরের তৃতীয় দলটি।
এএ




