close
ঢাকা, রোববার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৭ | ০৩ পৌষ ১৪২৪

তুরিনের রহস্যভেদ করতে পারেনি বার্সা

স্পোর্টস ডেস্ক
|  ২৩ নভেম্বর ২০১৭, ০৮:৪৫
ইতালির মাঠ তুরিনে সর্বশেষ ৫ ম্যাচের একটিতেও জেতেনি বার্সেলোনা। এবার সে সংখ্যাটা বেড়ে দাড়িয়েছে ছয়ে। ২০১৩ সালে বায়ার্ন মিউনিখের কাছে হারার পর জুভেন্টাসও ঘরের মাঠে হারের তেতো স্বাদটা প্রায় ভুলেই গেছে। গতকালের ম্যাচে ঘরের মাঠের গর্বটা অক্ষুণ্ন রাখল তারা।

ম্যাচ শুরুর আগেই বার্সা সমর্থকদের চমক দেন ভালভার্দে। দলের বড় তারকা লিওনেল মেসি নেই প্রথম একাদশে! খটকা লাগারি কথা। নাহ্, চোট-টোট কিছু নয়, ম্যাচের গুরুত্বটাই বার্সার কাছে এমন ছিল, যে মেসির একটু বিশ্রাম নিলেও চলে। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে মেসি মাঠে নেমেছেন ঠিকই, কিন্তু জুভেন্টাসের রক্ষণ ভাঙতে পারেননি। জুভেন্টাসও নিজেদের মাঠে পুরোটা সময় চেষ্টা করে পারেনি বার্সার রক্ষণ-ভেদ করতে। তবে ম্যাচটা ড্র করেও শেষ ষোলোতে উঠতে কোনো অসুবিধা হয়নি এই মুহূর্তে লা লিগা ও চ্যাম্পিয়নস লিগে অপরাজেয় থাকা বার্সেলোনা। 

লা লিগায় ১২ ম্যাচ (১১ জয় ও ১ ড্র) শেষে এখনো হারের স্বাদ পায়নি বার্সা। এই ম্যাচের আগে চ্যাম্পিয়নস লিগের গ্রুপ পর্বেও (৩ জয় ও ১ ড্র) সেই ধারা অব্যাহত রেখে মাঠে নামে কাতালানরা। মাঠে নামার আগে ১ পয়েন্ট পেলেই নকআউট পর্ব নিশ্চিত কিংবা জুভিদের মাঠে হার এড়ালেই শেষ ষোলোতে পা রাখবে স্প্যানিশ জায়ান্টরা-এমন টার্গেট ছিল মেসি-সুয়ারেজদের।

এই জুভেন্টাস স্টেডিয়াম থেকেই গত মৌসুমে ৩-০ গোলে হেরে ফিরতে হয়েছিল বার্সেলোনাকে। কোয়ার্টার ফাইনালের ওই লড়াইয়ের পর এবারই প্রথমবার নেমেছিল তারা তুরিনের মাঠটিতে। তবে প্রথম একাদশে মেসির না থাকাটায় স্পষ্ট হয়ে যায় ট্যাকটিক্যালি অন্য ছক সাজিয়েছেন কোচ ভালভারদে। যেহেতু ১ পয়েন্ট পেলেই নকআউট পর্ব নিশ্চিত হয়ে যাবে, তাই মেসিকে বিশ্রাম দিয়ে ভ্যালেন্সিয়া ম্যাচের জন্য প্রস্তুত করে রাখলেন তিনি। ৫৬ মিনিটে জেরার্দ দেউলোফেউয়ের বদলি হয়ে নেমে নিজেকে ঝালিয়ে নিয়েছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

বুধবার রাতে গোলশূন্য ড্র হওয়া ম্যাচের প্রথমার্ধে দুই দলের কেউই পরিষ্কার কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি।

মেসিহীন বার্সেলোনাকে অবশ্য শুরুর দিকে দিতে হয়ে কঠিন পরীক্ষা। জুভেন্টাস স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় মিনিটে প্রথম সুযোগ পায় স্বাগতিকরা। হুয়ান কাদরাদোর কাছ থেকে বলে পেয়ে বক্সের ভেতর থেকে শট নিয়েছিলেন ডগলাস কস্তা। ব্রাজিলিয়ান এই উইঙ্গারের শট ঝাঁপিয়ে প্রতিহত করেন মার্ক আন্ড্রে টের স্টেগেন।

১৮ মিনিটে আবার এগিয়ে যাওয়ার ভালো সুযোগ পেয়েছিল স্বাগতিকরা। নিজেদের বক্সের ভেতর স্যামুয়েল উমতিতির ভুলে বল পেয়ে গিয়েছিলেন পাউলো দিবালা। আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড শট করলেও গোলের দেখা পাননি।

বল পজিশনে বার্সা এগিয়ে থাকলেও সুযোগ করতে পারছিল না ঠিকমতো।২২তম মিনিটে রাকিটিচের ফ্রি-কিকে মাথা বা পা ছোঁয়াতে পারেননি ডি-বক্সে জটলায় থাকা কেউই। বল এক ড্রপ খেয়ে পোস্টে লেগে ফিরে আসলে ফিরতি বলে পাউলিনিয়ো হেড করলেও চলে যায় বাইরে দিয়ে। বিরতিতে যাওয়ার আগে আবার দিবালা তৈরি করেন সুযোগ, যদিও তার শট চলে যায় বারের উপর দিয়ে।

ম্যাড়ম্যাড়ে প্রথমার্ধে উল্লেখযোগ্য ঘটনা ছিল কেবল ড্রাইভ দিয়ে পাওলিনিহোর হলুদ কার্ড দেখা।

বিরতি থেকে ঘুরে এসে গোছানো ফুটবল খেলে বার্সেলোনা। বেশ কয়েকবার তারা জুভেন্টাসের রক্ষণে ভয়ও ধরিয়ে দেয়। বিশেষ করে মেসি মাঠে নামার পর আক্রমণ ধারালো হয় আরও। 

৫৮ মিনিটে তারা পেয়েও যেতে পারতো গোল। মেসির মাপা শটে বক্সের ভেতর ফাঁকায় বল পান লুকাস ডিগনে, সামনে ছিলেন শুধু জুভেন্টাস গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি বুফন। সহজ এই সুযোগটা কাজে লাগাতে পারেননি ফরাসি লেফটব্যাক। 

৬৪তম মিনিটে মেসির ফ্রি-কিক ক্রসবারের উপর দিয়ে যায়। চার মিনিট পর নিজে শট না নিয়ে লুইস সুয়ারেসকে বল বাড়াতে গিয়ে আরেকটি সুযোগ নষ্ট করেন লুকাস ডিগনে।

যোগ করা সময়ে আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড দিবালার আচমকা গড়ানো শট ডানে ঝাঁপিয়ে দুর্দান্ত সেভে দলকে শীর্ষে রেখে শেষ ষোলোতে উঠিয়ে দেন টের স্টেগেন।

ম্যাচ ড্র হওয়াতে আজই জুভেন্টাসের শেষ ষোলো নিশ্চিত হয়ে যায়নি। নিশ্চিত হতো যদি ঘরের মাঠে স্পোর্টিং অলিম্পিয়াকোসের কাছে হেরে যেত। কিন্তু সেটি হয়নি। অলিম্পিয়াকোস হেরেছে ৩-১ গোলে। সে কারণেই জুভেন্টাসের শেষ ষোলো ঝুলে থাকছে। তবে কোনো প্রকার অঘটন না ঘটলে গ্রুপ ‘ডি’র রানার্সআপ হয়ে ইতালিয় ক্লাবটির চ্যাম্পিয়নস লিগের দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠাটা প্রায় নিশ্চিতই। ‘অঘটন’ বলতে শেষ ম্যাচে অলিম্পিয়াকোসের কাছে হেরে যাওয়া—সেটির শঙ্কা কতটুকু, সেটি অবশ্য তর্কসাপেক্ষ।

ন্যূ ক্যাম্পে প্রথম লেগে মেসির জোড়া গোলে ইতালিয়ান চ্যাম্পিয়নদের ৩-০ ব্যবধানে হারিয়েছিল বার্সেলোনা।

‘ডি’ গ্রুপে পাঁচ ম্যাচে বার্সেলোনার পয়েন্ট ১১। তিন পয়েন্ট পিছিয়ে থেকে শেষ ষোলোতে কাতালান দলটির সঙ্গী হওয়ার লড়াইয়ে আছে জুভেন্টাস। 

গ্রুপের অন্য ম্যাচে গ্রিসের অলিম্পিয়াকোসকে ৩-১ গোলে হারিয়ে ৭ পয়েন্ট নিয়ে নকআউট পর্বের আশা টিকিয়ে রেখেছে পর্তুগালের স্পোটিং।

এএ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়