close
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৭ | ০৪ কার্তিক ১৪২৪

হারের বৃত্তেই বাংলাদেশ

স্পোর্টস ডেস্ক
|  ১২ অক্টোবর ২০১৭, ২২:৩২ | আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০১৭, ২৩:২৪
হারের বৃত্তেই ঘুরপাক খাচ্ছে বাংলাদেশ। ২ টেস্ট সিরিজে লজ্জার হারের পর ওয়ানডেতে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় ছিল টাইগারদের। তবে প্রস্তুতি ম্যাচে তার ছিঁটেফোটাও পাওয়া গেল না। ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকা আমন্ত্রিত একাদশের (সিএসএ) কাছে ওয়ানডে সিরিজের একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচে ৬ উইকেটে হেরেছে মাশরাফি বাহিনী।

বাংলাদেশের দেয়া ২৫৬ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে উড়ন্ত সূচনা করেন দুই স্বাগতিক ওপেনার এইডেন মার্করাম ও ম্যাথু ব্রিতজকি। উদ্বোধনী জুটিতেই তারা তুলে ফেলেন ১৪৭ রান। দলীয় এ রানে নাসিরের কট অ্যান্ড বোল্ড হয়ে মার্করাম (৮২) ফিরলেও একপ্রান্ত আগলে রাখেন ব্রিতজকি। দলীয় ১৭৪ রানে মাশরাফির শিকার হয়ে ফেরেন কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ না খেলা ১৮ বছরের এ ক্রিকেটার। ততক্ষণে ৭১ রান করে দলকে জয়ের পথে এগিয়ে দেন তিনি।   

বাকি কাজটুকু সারেন জেপি ডুমিনি ও এবি ডি ভিলিয়ার্স। জয় থেকে মাত্র ২০ রান দূরে থাকতে আউট হন ডুমিনি। মাহমুদুল্লাহর বলে ফেরার আগে ৩৪ রান করেন তিনি। আর একেবারে অন্তিম লগ্নে আউট হন ভিলিয়ার্স। তিনিও শিকার এ বাংলাদেশ পার্টটাইম বোলারের। ৫০ বলে ২ চার ও ১ ছক্কায় ৪৩ রান করেন ভিলিয়ার্স।

শেষ পর্যন্ত ২১ বল ও ৬ উইকেট হাতে রেখে জয় নিশ্চিত করে দক্ষিণ আফ্রিকা আমন্ত্রিত একাদশ। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলা কায়া জোন্ডো ১০ ও হেনরিখ ক্লাসেন ৫ রানে অপরাজিত থাকেন।

বাংলাদেশের হয়ে মাহমুদুল্লাহ ২টি এবং মাশরাফি ও নাসির নেন ১টি করে উইকেট। উইকেটশূন্য থাকেন মুস্তাফিজ, সাকিব, সাইফুদ্দিন ও রুবেল।

এর আগে ব্লুমফন্টেইনের মানগাউং ওভালে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। পায়ে এখনো ব্যথা অনুভব করায় মাঠে নামেননি ড্যাশিং ওপেনার তামিম ইকবাল। তার অনুপস্থিতিতে ম্যাচের গোড়াপত্তন করতে নেমে সৌম্য সরকারকে নিয়ে ভালোই করেন ইমরুল কায়েস। প্রথম থেকেই স্বচ্ছন্দে ছিলেন ইমরুল। তবে স্বাভাবিক ছিলেন না সৌম্য। অষ্টম ওভারে দলীয় ৩১ রানে ব্যক্তিগত ৩ রান করে আউট হন তিনি।

দলীয় এ রানেই উইকেটকিপার হেনরিচ ক্লাসেনের হাতে ক্যাচ দিয়ে ইমরুল (২৭)  ফিরলে প্রাথমিক ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। এরপর ক্রিজে আসেন টেস্ট সিরিজে রানের মধ্যে থাকা লিটন দাস। তবে আস্থার প্রতিদান দিতে পারেননি তিনি। দলীয় ৬১ রানে ব্যক্তিগত ৮ রান করে ফেরেন এ ডানহাতি ব্যাটসম্যান। দলীয় স্কোর বোর্ডে আর ২ রান যোগ হতেই ফেরেন মুশফিকুর রহিম (২২)। তিনি ফিরলে চাপে পড়ে বাংলাদেশ।

পরে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদকে নিয়ে দলকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন সাকিব আল হাসান। তারা এগুচ্ছিলেনও বেশ। তবে হঠাৎই থেমে যান মাহমুদুল্লাহ (২১)। ২৫তম ওভারের পঞ্চম বলে উইলিয়াম মাডলারের বলে এলবিডব্লিউ হন তিনি। এর সাথে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের সঙ্গে তার ৫৭ রানের জুটি ভাঙে।

দলীয় ১২০ রানে টপ অর্ডারের ৫ উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। সেখান থেকে সাব্বির রহমানকে নিয়ে ঘুরে দাঁড়ান সাকিব। দু’জনই লড়াই চালিয়ে যান। ধীরে ধীরে প্রতিপক্ষের ওপর চোখ রাঙাতে থাকেন তারা। কিন্তু সেই যাত্রায় থেমে যান সাকিব। মাহমুদুল্লাহর সঙ্গে ৭৬ রানের জুটি গড়ে ফেরার আগে ৬৭ বলে ৯ চারে ৬৮ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেন বাংলাদেশ ব্যাটিং স্তম্ভ।

সঙ্গী হারিয়ে বেশিদূর যেতে পারেননি সাব্বিরও। দলীয় ২১৯ রানে বুদাজার শিকার হয়ে ফেরার আগে ৫৪ বলে ৫২ রানের লড়াকু ইনিংস খেলেন এ হার্ডহিটার।  

এরপর দ্রুত ফিরে যান নাসির। এতে স্কোর আড়াইশ’ পার হয় কি না-তার শঙ্কা দেখা দেয়। তবে শেষদিকে মাশরাফি ও সাইফউদ্দিনের ২৬ রানের জুটিতে আড়াইশ’ পার হয় বাংলাদেশ। দলীয় ২৫৩ রানে ব্যক্তিগত ১৭ করে মাশরাফি ফিরলে দ্রুত গুটিয়ে যায় সফরকারীরা। শেষ পর্যন্ত ৪৮.১ ওভারে সবক’টি উইকেট হারিয়ে ২৫৫ রান তুলতে সক্ষম হয় ম্যাশ বাহিনী।

দক্ষিণ আফ্রিকার একাদশের হয়ে ফ্রিলিঙ্ক, সিবোতো, বুদাজা ও ফাঙ্গিসো প্রত্যেকে নেন ২টি করে উইকেট। 

৩ ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডে হবে ১৫ অক্টোবর কিম্বার্লিতে। দ্বিতীয় ওয়ানডে হবে পার্লে ১৮ অক্টোবর। আর ২২ অক্টোবর ইস্ট লন্ডনে হবে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে।

ডিএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়