close
ঢাকা, রোববার, ২০ আগস্ট ২০১৭ | ০৫ ভাদ্র ১৪২৪

‘এটা বাস্তব ডাকাতি’

স্পোর্টস ডেস্ক, আরটিভি অনলাইন
|  ১৯ এপ্রিল ২০১৭, ১৮:৪৯ | আপডেট : ১৯ এপ্রিল ২০১৭, ১৯:১৫
উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের ফিরতি লেগে বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে ৪-২ ব্যবধানে জয় পেয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর হ্যাটট্রিক সুবাদে এ জয় পায় স্প্যানিশ জায়ান্টরা। এতে দু’লেগে ৬-৩ ব্যবধানে জয় নিয়ে সেমিফাইনালে উঠেছে জিনেদিন জিদানের শিষ্যরা। ফলে ছিটকে পড়েছে জার্মান চ্যাম্পিয়নরা। তবে রিয়ালের ফিরতি লেগের জয়কে ‘বাস্তব ডাকাতি’ বলে মন্তব্য করলেন ম্যাচে লালকার্ড দেখা আর্তুরো ভিদাল।

শুধু তিনি নন, এ ম্যাচে রেফারির ভূমিকাকে তীব্র ভাষায় প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন ফরোয়ার্ড অ্যারিয়েন রোবেন, ফ্র্যাঙ্ক রিবেরি ও দলের সদস্যরাও। সরব হয়েছেন বাভারিয়ানদের সাবেকরাও।

কোয়ার্টার ফাইনালের ফিরতি লেগের ম্যাচ প্রথমার্ধে গোলশূন্য ড্র থাকে। তবে দ্বিতীয়ার্ধে তা পেন্ডুলামের মতো ঝুলতে থাকে। কখনো বায়ার্নের দিকে তো, কখনো ম্যাচ গড়ে রিয়ালের দিকে।

ম্যাচের ৫৫ মিনিটে পুরো সান্তিয়াগো বার্নাব্যু স্তব্ধ করে দেন রবার্ট লেভানডফস্কি। পেনাল্টি থেকে গোল করে এগিয়ে দেন বায়ার্নকে। গোল হজমের পরই জ্বলে ওঠে রিয়াল। ম্যাচের ৭৬ মিনিটে দারুণ হেডে গোল করে রিয়ালকে সমতায় ফেরান রোনালদো। কিন্তু এর ২ মিনিট পরই রামোসের আত্মঘাতী গোলে ফের পিছিয়ে পড়ে রিয়াল। ঘরের মাঠে তখন ২-১ গোলে পিছিয়ে স্প্যানিশ জায়ান্টরা।

এগিয়ে থেকে যখন সেমিতে খেলার স্বপ্ন দেখছে বায়ার্ন, ঠিক তখনই বড় ধাক্কা খায় দলটি। ৮৪ মিনিটে মার্কো আসেনসিওকে ফাউল করলে আর্তুরো ভিদালকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখান রেফারি। এতে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন তিনি। ফলে বাভারিয়ানরা পরিণত হন ১০ জনের দলে।

দু'লেগে দু’দল ৩-৩ সমতায় থাকায় শেষ পর্যন্ত ম্যাচ নির্ধারিত সময়ে শেষ হয়নি। ফলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। ১০৪ ও ১০৯ মিনিটে দু’গোল করে নিজের হ্যাটট্রিকের সঙ্গে দলের সেমিফাইনালও নিশ্চিত করেন রোনালদো। তবে সিঅরসেভেনের শেষ দু’টি গোল আসে অফসাইড থেকে। রিপ্লেতে তা স্পষ্ট দেখা যায়।

ম্যাচ শেষে তাই এমন মন্তব্য করতেই পারেন বায়ার্ন খেলোয়াড় ও কর্মকর্তারা।   

এছাড়া পরে রিপ্লেতে দেখা যায়, এ যাত্রায় কোনো দোষ ছিল না ভিদালের। তাকে অযাথায় লালকার্ড দেখানো হয়েছে।

ধারাভাষ্যকাররাও বলেছেন, ভিদাল রঙলি সেন্ড অফ।

এমন প্রেক্ষাপটে ভিদাল বললেন, এটা বাস্তব ডাকাতি। চ্যাম্পিয়নস লিগের মতো আসরে এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে এটা অকল্পনীয়।

বায়ার্নের স্প্যানিশ তারকা থিয়াগো আলকানতারা বলেন, বুঝলাম না রেফারি কেনো রিপ্লের বিষয়টি এড়িয়ে গেলেন। তাদের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছি না। তবে চ্যাম্পিয়নস লিগের মতো আসরে এমনটা অনাকাঙ্ক্ষিত।

রেফারিং নিয়ে অ্যারিয়েন রোবেনের কাছে ভিসাট ওয়েবসাইটের প্রশ্ন-এ কি ডাকাতি? ডাচ তারকা জোর দিয়ে বলেন, হ্যাঁ; এটি অবশ্যই ডাকাতি। একইসঙ্গে লজ্জারও।

অফসাইড থেকে করা রোনালদোর দু’টি গোলের স্ক্রিন শট ইনস্ট্রাগ্রামে আপলোড করে বায়ার্নের ফরাসি উইঙ্গার ফ্রাঙ্ক রিবেরি লিখেছেন, মাঠে কি ঘটেছে তা আপনারা দেখেছেন। ন্যাক্কারজনক ঘটনাই ঘটেছে। আমাদের পুরো বছরের পরিশ্রম বিফলে গেলো। রেফারিকে ধন্যবাদ।

বায়ার্ন কোচ কার্লো আনচেলত্তি বলেন, রেফারিকে প্রভাবিত করেছে রিয়াল-তা আমি মানতে চাই না। সাধারণত, অফিসিয়ালরা ভুল করেছে। আমি কখনো ভিডিও প্রযুক্তির পক্ষে নই। তবে তা অনুভব করেছি।

রেফারির সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন বায়ার্নের সাবেক খেলোয়াড় ওয়েন হারগ্রিভস। কানাডিয়ান-ইংলিশ এ তারকা বিটি স্পোর্টসকে বলেন, ফুটবলে প্রযুক্তির পুরোপুরি ব্যবহার দরকার। এ ম্যাচে রেফারি যা করেছেন তা গ্রহণযোগ্য না।

ডিএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়