• ঢাকা শুক্রবার, ২৫ মে ২০১৮, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫

নীলছাতার বিচ্ছেদ- বেদনা

অনলাইন ডেস্ক
|  ২০ এপ্রিল ২০১৭, ১৫:৩২
অনেক দিন ধরে একটা নীল ছাতা আমার সঙ্গী ছিল। রোদে- বৃষ্টিতে, প্রয়োজনে- অপ্রয়োজনে সঙ্গেই থাকত। কাল সন্ধ্যায় যখন আকাশে কালো রঙ ছড়িয়ে, গাছের ডাল- পাতাকে নাড়িয়ে দিয়ে ঝড়- বৃষ্টি এলো, তখন আমার বাড়ি যাওয়ার সময় হয়েছিল। আমি ব্যাগে রাখা ছাতার গায়ে হাত রেখে পরম নির্ভরতায় বৃষ্টিকে উপেক্ষা করেই অফিস থেকে বের হয়েছিলাম। তারপর ট্রেন থেকে নারায়নগঞ্জ চাষাঢ়া স্টেশনে যখন নামলাম, তখনও ঝিরিঝিরি বৃষ্টি। আমার বাসা কাছেই; হাঁটাপথ। তবু আমি একটা রিকশার জন্যে দাঁড়িয়েছিলাম; কাদা- পানি এড়াতে। কিন্তু কোথায় যাব শুনে রিকশাওয়ালা অনাগ্রহী। অত কাছে নাকি যাবে না। আশ্চর্য! আমার বাসা কাছে হওয়াটাও কি দোষের! এবার আমার নীলছাতা বলল, চলো যাই! আমি তো আছি! আমি পথে পা বাড়ালাম আমার নীলসঙ্গী নিয়ে। কিন্তু ঠিক মতো হাঁটাও যায় না। বায়ে কাদা- পানি তো ডানে ছুটতে থাকা গাড়ি। সামনে একটা অটোরিকশা দাঁড়িয়ে ছিল। আমি পাশ দিয়ে যেতেই ও হঠাৎ চলতে শুরু করল। আর যেতে যেতে আমার নীলছাতাটা কানে বাজিয়ে নিয়ে গেলো। মুহূর্তেই আমার ছায়াসঙ্গীর নীল শাড়ি ছিন্ন- ভিন্ন হয়ে আকাশে উড়তে লাগল। আমি ওকে বাঁচাতে চেয়েছিলাম।পারিনি। আমার হাতে রয়ে গেলো শুধু ওর ডান্ডিটাই! আর তা দেখে উৎসুক পথচারীদের সে কি ভয়ঙ্কর উল্লাস! খানিকটা দূরে গিয়ে অটোটা থেমেছিল। আমি এগিয়ে গেলাম দু’চার কথা শোনাব বলে। কিন্তু চালক আমাকে দেখেই বলল, আপা আমি দেইখ্যা করি নাই! এরপর আর কী বলা যায়। আমি ওর দিকে ছাতার ডান্ডাটা এগিয়ে দিয়ে বললাম, তুমি এটাও নিয়ে যাও!

তারপর? আমি বৃষ্টিতে ভিজে যেতে যেতে নীল কষ্ট বুকে নিয়ে চললাম আরেক নীলের কাছে।

অবশেষে সকালে ঘুম ভাঙার পর ডান হাতের তালুর পাশে ব্যথা অনুভূত হওয়ায় তাকিয়ে দেখি ব্যথার জায়গাটা নীল হয়ে আছে! মনে পড়ল, আমি ওকে বাঁচাতে শক্ত করে ধরে রেখেছিলাম! অবচেতনেই আমার হাত চলে যায় ব্যথার নীলে! ওরে আমার নীল!

২০. ০৪. ১৭

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়