ঢাকা শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩

ভোটের হাওয়া: রাজশাহী ১ ও ৬

জয় পেতে মরিয়া আ.লীগ, বিএনপি চায় হারানো আসন পুনরুদ্ধার (ভিডিও)

আমির ফয়সাল, রাজশাহী

প্রকাশ : ১৪ অক্টোবর ২০১৮, ১০:৪১ এএম

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী ১ ও ৬ নম্বর আসনে আওয়ামী লীগ, বিএনপি এবং জাতীয় পার্টির পক্ষে মাঠে নেমেছেন একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী। এই দুই আসনে বর্তমান সরকারের ব্যাপক উন্নয়নকে হাতিয়ার করে জয় পেতে চান আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা আর বিএনপি চায় হারানো আসন পুনরুদ্ধার করতে।

সীমান্তবর্তী ও ঐতিহ্যবাহী এলাকা রাজশাহীর বরেন্দ্র অঞ্চল গোদাগাড়ী এবং তানোর নিয়ে গঠিত এখানকার ১ নম্বর সংসদীয় আসন। এ আসনে তিন লাখ ৮৩ হাজার ৩৫০ এবার ভোটার রয়েছেন।

স্বাধীনতার পর এ আসনে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন শহীদ এ এইচ এম কামরুজ্জামান হেনা। এরপর আওয়ামী লীগের অ্যাডভোকেট মহসিন, জামায়াতের অধ্যাপক মুজিবর রহমান, জাতীয় পার্টির দুরুল হোদা একবার করে এমপি নির্বাচিত হলেও ১৯৯১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত একটানা সংসদ সদস্য ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার আমিনুল হক। এ আসনে ২০০৮ সাল থেকে পরপর দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচন হন রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক শিল্প প্রতিমন্ত্রী ওমর ফারুক চৌধুরী।

বর্তমান এমপি ছাড়াও এ আসনে এবার নির্বাচনে মনোনয়ন পেতে শক্ত দৌড়-ঝাঁপ শুরু করেছেন মুন্ডুমালা পৌর মেয়র গোলাম রাব্বানী ও একইসঙ্গে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক মতিউর রহমানসহ বেশ কয়েকজন।

বর্তমান এমপি রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন সভা-সমাবেশে বলেছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা যার পক্ষে রয়েছে তাকেই এবার মনোনয়ন দেয়া হবে। তার কথার উপর আমার আস্থা আছে।
মুণ্ডমালা পৌরসভার মেয়র ও তানোর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম রাব্বানী জানান, ছাত্রজীবন থেকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত। নৌকা মার্কা যদি আমি পাই তবে তৃণমূল থেকে শুরু করে দলমত নির্বিশেষে সব বয়সী মানুষ আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন।

পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক ও জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মতিউর রহমান বলেন, এখানকার মানুষের মনে নানান প্রশ্ন রয়েছে, এখানকার উন্নয়ন নিয়ে, এখানকার জঙ্গি উত্থানের সময় তাদের কার্যকলাপ নিয়ে। এই আসনে প্রার্থী হতে চান আমি ছাড়াও আরও সাতজন। বর্তমান এমপিসহ তারা সবাই ভালো মানুষ, তবে মানুষের চাওয়া পাওয়ার মধ্যে তারতম্য রয়েছে। আমি এলাকার প্রতিটি জায়গায় গিয়েছি, তাদের বোঝাতে সক্ষম হয়েছি আমি তাদের ঘরের লোক। তৃণমূল এবার আমাকেই চাইছে।

এদিকে, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার আমিনুল হক ছাড়াও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক সচিব জহুরুল ইসলাম, বিএনপির সাবেক যুব বিষয়ক সম্পাদক সাজেদুর রহমান খান মার্কনী, আমেরিকা প্রবাসী সাহাদত হোসেন শাহিদ এবার বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন।

জানা যায়, বিএনপির প্রভাবশালী নেতা ব্যারিস্টার আমিনুল হকের নামে বিভিন্ন মামলা থাকায় এলাকায় আসতে না পারলেও যোগাযোগ রাখছেন বিভিন্নভাবে দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে।

বিএনপির সাবেক যুব বিষয়ক সম্পাদক সাজেদুর রহমান খান মার্কনী জানান, এবার ধানের শীষকে মানুষ বিজয়ী করবে। দল তাকে ছাড়া যাকেই মনোনয়ন দিক তার জন্যই দলগতভাবে কাজ করবেন এই মনোনয়ন প্রত্যাশী।

সীমান্তবর্তী এবং ঐতিহ্যবাহী এলাকা রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসন। এখানে রয়েছে বাঘা মসজিদ, সারদা পুলিশ একাডেমি, সারদা ক্যাডেট কলেজসহ দুটি উপজেলায় তিনটি পৌরসভা। এ অঞ্চলে এবার মোট ভোটার সংখ্যা তিন লাখ ৪ হাজার ১২ জন।
আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টির ক্ষমতার পালাবদল হলেও দীর্ঘ সময় বিএনপির দখলে ছিল এ আসনটি। এখানে এবার নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির সম্ভাব্য মনোনয়নে রয়েছেন একাধিক প্রার্থী। সব প্রার্থীরাই রয়েছেন বেশ তৎপর। আর বিএনপি আসনটি পুনরুদ্ধার করতে চায়। পাশাপাশি জাতীয় পার্টিরও একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশীরা রয়েছেন সক্রীয়।
এখানে দুইবারের এমপি ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আওয়ামী লীগের
নেতা শাহরিয়ার আলম বেশ শক্তিশালী অবস্থানে থাকলেও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লায়েব উদ্দিন লাভলু ও চারঘাট উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি রায়হানুল হক রায়হান দলীয় মনোনয়ন পেতে লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন। এ আসনটিতে আওয়ামী লীগ চায় জয়।

পরপর দুইবারের এমপি ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আওয়ামী লীগের নেতা শাহরিয়ার আলম আশা করছেন, যে উন্নয়ন আগে কখনো হয়নি তা তিনি ও তার সরকার ১০ বছরে করেছেন। তাই এবারো নৌকার বিজয় উপহার দলীয় সভানেত্রীকে তিনি দিতে পারবেন। তিনি ছাড়া অন্য কেউ যদি মনোনয়ন পান তার পক্ষেই তিনি কাজ করবেন বলে জানান শাহরিয়ার আলম।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লায়েব উদ্দিন লাভলু বলেন, আমাকে মনোনয়ন দিলে বিজয় নিশ্চিত এই আসনটিতে।
এ আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা হলেন বাঘা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বিশিষ্ট শিল্পপতি নূরুজ্জামান খান মানিক, চারঘাট উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান আবু সাঈদ চাঁদ, জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও বিশিষ্ট শিল্পপতি বজলুর রহমান, জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আনোয়ার হোসেন উজ্জ্বল, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মামুন, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রমেশ দত্ত, দেবাশীষ রায় মধু। শক্তিশালী মনোনয়ন প্রত্যাশী আবু সাঈদ চাঁদ বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার থাকায় নুরুজ্জামান মানিক রয়েছেন শক্ত অবস্থায়।

জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে এ আসন দুইজন মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে এলাকায় গণসংযোগ করে যাচ্ছেন। মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন, জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক সামসুদ্দিন রিন্টু ও আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট ইকবাল হোসেন।

আরও পড়ুন :

জেবি/এসএস

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি দেবে ঐক্যফ্রন্ট: ড. কামাল
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, আগামী ৩ জানুয়ারি জোটের প্রার্থীসহ সকল বিরোধী দলের প্রার্থীদের নিয়ে নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি দিয়ে আমরা কর্মসূচি ঘোষণা করবো। এসময় তিনি নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে নির্দলীয় সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের দাবি জানান। নির্বাচনের ফলাফলে বিপুল ভোটে পরাজয়ের পর আজ এক সোমবার লিখিত বিবৃতিতে মাঠে কর্মসূচি দেওয়ার কথা বললেন ড. কামাল। বিবৃতিতে ড. কামাল বলেন, “গতকাল ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নামে যে প্রহসনমূলক নাটক মঞ্চস্থ হলো, তা সমগ্র দেশবাসী প্রত্যক্ষ করেছেন এবং তা হাড়ে হাড়ে উপলব্ধি করেছেন। একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থাকে কিভাবে ধ্বংস করতে হয়েছে, তা এদেশের মানুষসহ সমগ্র বিশ্ববাসীকে দেখিয়ে দিয়েছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং তাদের আজ্ঞাবহ প্রধান নির্বাচন কমিশনার।’ ‘এই কথিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় সরকারকে বিজয়ী দেখালেও প্রকারান্তরে হেরেছে বাংলাদেশ ও তার ১৭ কোটি মানুষ। এর মধ্য দিয়ে কবর রচিত হয়েছে আমাদের বহু আকাঙ্ক্ষিত গণতন্ত্রের।’ কর্মসূচি ঘোষণার ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট কথিত নির্বাচনের ফলাফল ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে নির্দলীয় সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও অশগ্রহণমূলক নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে। এই নির্বাচন বাতিল করে পুনঃনির্বাচনের দাবিতে আগামী ৩ জানুয়ারি ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীগণসহ সকল বিরোধী দলের প্রার্থীগণ নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি প্রদান করবেন এবং কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’ পি
নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি দেবে ঐক্যফ্রন্ট: ড. কামাল
প্রশ্নবিদ্ধ ভোটের ফলাফল নিয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্ত চায় টিআইবি
একাদশ নির্বাচনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সহিংসতায় ১৯ জন নিহত এবং বলপ্রয়োগসহ আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগের ফলে ফলাফল প্রশ্নবিদ্ধ ও বিতর্কিত হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। এছাড়া রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ লঙ্ঘনের যে সব অভিযোগ গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, তার বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেছে সংস্থাটি। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান সোমবার এক বিবৃতিতে এ দাবি জানান। তিনি বলেন, ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সহিংসতা ও বলপ্রয়োগসহ নির্বাচনী আচরণবিধির বহুমুখী লঙ্ঘনের যেসব অভিযোগের কারণে নির্বাচন ও ফলাফল প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে, তার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের ওপর ভিত্তি করে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। আমরা শুরু থেকেই সব পক্ষের জন্য সমান প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে এসেছি। কিন্তু দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে একটি প্রতিদ্বন্দ্বী জোটের প্রার্থী ও সমর্থকদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা, হামলা ও নির্যাতনের সংবাদ প্রচারিত হয়েছে, যা গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত। এমনকি নির্বাচনের আগের রাতে এবং নির্বাচনের দিনও এমন হয়রানি চলেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সবচেয়ে বড় আশঙ্কার বিষয় হলো, এতে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি দেশের জনগণের আস্থাহীনতা সৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।’ টিআইবির নির্বাহী পরিচালক আরও বলেন, ‘একটি জোটের পোলিং এজেন্টরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ভোটকেন্দ্রে আসতে না পারার অভিযোগের বিষয়টি যেভাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এড়িয়ে যেতে চেয়েছেন তা একদিকে যেমন বিব্রতকর, অন্যদিকে তার নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন সাংবিধানিক দায়িত্ব কার্যকরভাবে পালন করতে পেরেছে কিনা সে উদ্বেগ আরও ঘনীভূত করেছে।’ ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ লঙ্ঘন করে মধ্যাহ্ন ভোজের বিরতির নামে ভোটগ্রহণ বন্ধ রাখার মতো ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে খোদ রাজধানীতেই। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে যেভাবে সচিত্র প্রতিবেদন আকারে এ খবর প্রকাশিত হয়েছে তাকে অপপ্রচার বলে উড়িয়ে দেয়ার সুযোগ নেই। এছাড়াও ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার আগেই ব্যালট পেপার ভর্তি বাক্স নিয়ে বেরিয়ে যাওয়া, বহু ভোটার ভোট দেয়ার আগেই ব্যালট পেপার শেষ হয়ে যাওয়া, প্রার্থীকে ভোট কেন্দ্রে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা ইত্যাদি ঘটনার প্রতিটির সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করে টিআইবি।’ অভূতপূর্ব নির্বাচনের মাধ্যমে সৃষ্ট অভূতপূর্ব ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে যে নতুন সরকার গঠিত হবে তার আত্মবিশ্বাস, মর্যাদা, আস্থা ও গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করার স্বার্থেই এ তদন্ত অবশ্যকরণীয় বলে মন্তব্য করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক। আরো পড়ুন :  সীতাকুণ্ডে যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা পি
প্রশ্নবিদ্ধ ভোটের ফলাফল নিয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্ত চায় টিআইবি
সীতাকুণ্ডে যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে দুই পক্ষের সংঘর্ষের সময় এক যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহতের নাম সৈয়দ মোহাম্মদ দাউদ সম্রাট (৩৮)। আজ সোমবার বিকেলে সীতাকুণ্ড উপজেলার কলেজ রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত দাউদ পৌরসভার মধ্য মহদেবপুর ৪নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা সৈয়দ মোহাম্মদ আবুল হোসেনের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সীতাকুণ্ড উপজেলার কলেজ রোড দিয়ে দাউদ সম্রাট বিকেলে সহযোগীদের নিয়ে যাওয়ার সময় তার প্রতিপক্ষ তাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এসময় তার দুই সহযোগীও আহত হয়। সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ দেলোয়ার হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আরটিভি অনলাইনকে বলেন, বিকেল ৫টার দিকে কলেজ এলাকায় দুই গ্রুপের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে দাউদ সম্রাট নামে এক যুবলীগ নেতা খুন হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। আরএস/পি
সীতাকুণ্ডে যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা
বিএনপি-জামায়াতের বিদায়ঘণ্টা বেজে গেছে: ইনু
বিএনপি-জামায়াত নির্বাচনে পরাজিত হলে ফলাফল মানে না। যুক্তি ছাড়াই পুনঃনির্বাচনের দাবি তোলে। এটাই তাদের ইতিহাস। বললেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনু। সোমবার দুপুরে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা ডাক বাংলো বাসভবনে কুষ্টিয়া-২ আসন থেকে নৌকা প্রতীকে বিজয়ী হওয়ার পর শুভেচ্ছা গ্রহণকালে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। ইনু বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিএনপি-জামায়াতের রাজনৈতিক বিদায়ঘণ্টা বেজে গেছে। এবার জাতীয় পতাকা হাতে গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে এগিয়ে যাবে। যেভাবে ভোটের মাধ্যমে দেশবিরোধী অপশক্তি বিএনপি-জামায়াত ঐক্যফ্রন্টকে প্রত্যাখ্যান করেছে জনগণ। এসময় ইনু আরও বলেন, বিপুল বিজয়ের মাধ্যমে দেশবাসী যে দায়িত্ব শেখ হাসিনা ও আমাদেরকে দিয়েছে সেই দায়িত্ব পালনে উন্নয়নের অগ্রযাত্রা ধরে রাখতে হবে। রাজনৈতিক শান্তি বজায় রাখতে হবে। বৈষম্য-দুর্নীতি রোধ করতে সুশাসনের জন্য আরও শক্ত হাতে কাজ করব। কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর-ভেড়ামারা) আসন থেকে নৌকা প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হওয়ার জন্য বিভিন্ন মহল থেকে দেওয়া ফুলেল শুভেচ্ছা গ্রহণ করেন হাসানুল হক ইনু। এসময় স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও জাসদের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। আরএস/পি
বিএনপি-জামায়াতের বিদায়ঘণ্টা বেজে গেছে: ইনু
এ নির্বাচন কলঙ্কিত হয়ে থাকবে: ফখরুল
কখনোই দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না এটাই প্রমাণিত হয়েছে। এ নির্বাচন কলঙ্কিত হয়ে থাকবে। বললেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সোমবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে নির্বাচন পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, এ নির্বাচন সুপরিকল্পিতভাবে ইঞ্জিনিয়ারিং করা হয়েছে। তফসিল ঘোষণার পরপরই প্রশাসনের সহযোগিতায় ব্যালটে আগেই সিল মারা হয়েছিল। তাই আমরা এ নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করছি। এসময় প্রত্যাখ্যান শব্দটি কয়েকবার উচ্চারণ করেন মির্জা ফখরুল। বিএনপি মহাসচিব বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আমাদের দলের ২১ হাজারের বেশি নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে শত শত মামলা দেওয়া হয়েছে। এ নির্বাচন বাতিল করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নতুন করে নির্বাচন দেওয়ার দাবি জানান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, এত নির্যাতনের পরেও বিএনপি নির্বাচনে গিয়েছিল, গণতন্ত্রের ধারা অব্যাহত রাখার জন্য। জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনতে। নতুন নির্বাচনের জন্য শিগগিরই কর্মসূচি দেয়া হবে। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের পরে নেতাকর্মীদের বাড়ি পুড়িয়ে দেয়াসহ হামলা ভাংচুর করা হচ্ছে। সারাদেশে বিএনপির ২১ হাজারের বেশি নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। ঢাকার বাইরের কারাগারগুলোতেও একই অবস্থা। অবিলম্বে এসব বন্দীদের মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি। এসময় লিগ্যালি কার্যক্রমের পাশাপাশি আন্দোলনও চলবে বলে জানান ফখরুল। গতকাল রোববার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৯ আসনে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। এরমধ্যে স্থগিত রয়েছে একটি আসনের ফল। প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে ভোট হয়নি একটিতে। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট জয় পেয়েছে ২৮৮টি আসনে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন মহাজোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ৭টি আসনে জয় পেয়েছে।  পরে রাতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ভোট প্রত্যাখান করে। এমসি/পি
এ নির্বাচন কলঙ্কিত হয়ে থাকবে: ফখরুল
আরও পড়ুন
থানা থেকে বলেছে আজকে নিরাপত্তা দিতে পারবে না: আফরোজা আব্বাস
গণসংযোগে ব্যস্ত মাশরাফি, নৌকায় ভোট চাচ্ছেন
বিএনপি গণসংযোগ না করে ঘরে বসে বিবৃতি দেয়: তোফায়েল
আমি সেবক হতে চাই, নেতা না: শেখ তন্ময়