ঢাকা শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩

ভোটের হাওয়া: রাজশাহী ৩ ও ৪

আওয়ামী লীগে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের ভিড় আর বিএনপি চায় লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড

আমির ফয়সাল, রাজশাহী

প্রকাশ : ১১ অক্টোবর ২০১৮, ১২:০৪ পিএম

সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাজশাহীর ৩ এবং ৪ নম্বর সংসদীয় আসনে শুরু হয়েছে সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ। ৩ নম্বর আসনে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা চাইছেন তাদের প্রার্থী মনোনীত হোক তৃণমূল থেকে। আর এ আসনের বিএনপি ও জাতীয় পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থীরা দলের টিকিট পেতে সবার সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন। অন্যদিকে ৪ নম্বর আসনে একাধিক প্রার্থী নিয়ে বেকায়দার রয়েছে বড় দু’দল।

রাজশাহী-৩ অর্থাৎ পবা এবং মোহনপুর আসনটি শহরের একেবারে কাছাকাছি হওয়ায় সব সময়ই জেলা এবং স্থানীয় নেতাকর্মীদের নজর থাকে এ আসনটির ওপর। তিন লাখ পাঁচ হাজার সাতশ’ ৭৫ ভোটারের এ আসনটিতে নির্বাচন সামনে রেখে সভা-সমাবেশ এবং গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন এখানকার বিভিন্ন দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা।

এই আসনটিতে আগে বিএনপির দখলে থাকলেও ২০০৮ সাল ও ২০১৪ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে এটি আওয়ামী লীগের দখলেই রয়েছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এখানে বিএনপি ছাড়া আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা নির্বাচনে বিজয়ের প্রত্যয় ব্যক্ত করে দলীয় নিজেদের নেতাকর্মীদের নিয়ে নির্বাচন পূর্ববর্তী মতবিনিময় সভা ও গণসংযোগ করছেন।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বর্তমান সাংসদ আয়েন উদ্দিন ছাড়াও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ বেশ শক্ত অবস্থানে রয়েছে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের দৌড়ে। এছাড়াও পবা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক সাংসদ মেরাজ উদ্দিন মোল্লাও এই দৌড়ে টিকে থাকার চেষ্টা করছেন।

উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে ও তরুণ কর্মী হিসেবে মনোনয়ন পেলে বাকি মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সঙ্গে নিয়ে নির্বাচনে জয়ের কথা জানান বর্তমান সংসদ সদস্য আয়েন উদ্দিন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ একটি বড় দল। এ আসনে একাধিক প্রার্থী নৌকার মনোনয়ন চাচ্ছে আমি তাদের সাধুবাদ জানাই। সভানেত্রী ও পার্লামেন্টরী বোর্ড যাকে মনোনয়ন দিবে আমরা সবাই তার পক্ষে কাজ করবো। আর যদি আমি মনোনয়ন পাই তবে তারাও আমার পক্ষে কাজ করবে। এখানে কোন বিভেদ থাকবে না।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও চেতনাকে লালন করি। একজন রাজনৈতিককর্মী হিসেবে সব মানুষেরই প্রত্যাশা থাকে জাতীয় সংসদে নির্বাচন করার। আমিও তার ব্যতিক্রম নই। তৃণমূলের চাহিদার ওপরেই ভিত্তি করে আগামী নির্বাচনে দলীয় সভানেত্রী ও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ড তাদের হাতেই এবার নৌকা তুলে দিবেন। তাই তৃণমূল থেকে রাজনীতি করা এই নেতা মনোনয়ন পেলে তার জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

রাজশাহী মহানগর জাতীয় পার্টির সভাপতি শাহাবুদ্দিন বাচ্চু বলেন, জোটগতভাবে হোক বা না হোক এককভাবে মনোনয়ন তাকে দিয়েছেন দলের চেয়ারম্যান এরশাদ। ১২ বছর ধরে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছি। এখানে একক নির্বাচন হোক বা জোটের নির্বাচন হোক আমাদের বিজয় আসবেই।

অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থিতা লাভের আশায় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান মন্টুর নাম শোনা গেলেও মাঠে সক্রিয় রয়েছেন রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলন।

মিলন জানান, বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে নির্বাচনে যাওয়ার কথা ভাবছে না বিএনপি। এছাড়াও আওয়ামী লীগের কারণে লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড না থাকায় তারা তাদের নির্বাচনী গণসংযোগ করতে পারছে না। তারপরও প্রতি নিয়ত তারা এলাকায় যাচ্ছেন ও নেতাকর্মী ও জনগণের খোঁজ খবর রাখছেন। নির্বাচনে বিএনপি গেলে আবারও ধানের শীষের বিজয় এ অঞ্চলে নিশ্চিত। বলে জানিয়েছেন বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী এই নেতা।

অপরদিকে, এক সময়ের জেএমবি অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে পরিচিত রাজশাহী-৪ আসনে দুই লাখ ৭৭ হাজার ৯৮৮ ভোটারের এ বাগমারা আসনটি পেতে মাঠে নেমেছেন আওয়ামী লীগ, বিএনপির একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী রয়ছে জাতীয় পার্টিরও মনোনয়ন প্রত্যাশী। নানা উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাজশাহী-৪ বাগমারা আসনটি আওয়ামী লীগ যেমন ধরে রাখার চেষ্টা করছে, তেমনই আসনটি পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে মাঠে নীরবে কাজ করছে বিএনপি। নেতাদের অনেকেই বন্যাকবলিত এলাকায় ত্রাণ নিয়ে ছুটে গেছেন। সেইসঙ্গে জানান দিয়েছেন নিজেদের প্রার্থিতার বিষয়টি। এছাড়াও অনেকেই ব্যানার ফেস্টুন টাঙিয়ে দোয়া চেয়েছেন।

এই আসনে মাঠে নেমেছে আওয়ামী লীগ। এখানে এই দলের পক্ষ থেকে জোরালো মনোনয়ন প্রত্যাশী হলেন বর্তমানে পরপর দুইবারের এমপি ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক, বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাকিরুল ইসলাম সান্টু, তাহেরপুর পৌরসভার পর পর দুই বার নির্বাচিত মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ ছাড়াও নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশীর তালিকায় সাবেক প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক জিনাতুন নেছা তালুকদারসহ আরও দু-একজনের নাম শোনা যাচ্ছে।

বর্তমান এমপি ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক জানান, বিএনপি-জামাত জোট আমলে বাগমারা ছিল একটি রক্তাক্ত জনপদ। যেখানে জেএমবি দ্বারা মানুষ হত্যা, গুম ও খুনের মত ঘটনায় মানুষ আতংকে থাকতো। সেখানে ২০০৮ শেখ হাসিনার সরকার গঠনের পর এখানে জেএমবি ও সন্ত্রাসমুক্ত শান্তির এলাকায় পরিণত করতে পেরেছি। এখানে এখন উন্নয়নের ছোঁয়া সর্বত্র। এবার দলের মনোনয়ন পেলে উন্নয়নের ধারা আগামীতেও অব্যাহত রাখাবো।

এই আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান জাকিরুল ইসলাম সান্টু জানান, এ নির্বাচন অতীতের নির্বাচনগুলোর চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমি তৃণমূল পর্যায়ে কাজ করি আর আমাদের নেত্রী ও সাধারণ সম্পাদক বিভিন্ন সভায় বলেছেন তৃনমূলের সমর্থন যাদের রয়েছে তাদের হাতেই এবার নৌকা তুলে দিবেন কেন্দ্র। উন্নয়নর্মলক কর্মকাণ্ডসহ ঝড়, বৃষ্টি, খরায়, বন্যায় আমি বাগমারার মানুষের সঙ্গে থেকেছি, আমার বিশ্বাস আমি মনোনয়ন পেলে এ আসনে নৌকার বিজয় হবে শতভাগ।

তাহেরপুর পৌরসভার মেয়র ও অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ জানিয়েছেন, ছাত্র রাজনীতি থেকে বেড়ে ওঠা বহু ত্যাগ স্বীকার করে আমার আওয়ামী লীগের সঙ্গে পথ চলা। দল চাইলে নিবেদিত কর্মী হিসেবে এই আসনে আমার জয় সুনিশ্চিত।

এদিকে নেত্রীর মুক্তি ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে আর দলীয় মনোনয়ন পেলে আবারো হারানো আসনটি পুনরুদ্ধারে কথা জানান মনোনয়ন প্রত্যাশী বিএনপির নেতারা।

রাজশাহী জেলা বিএনপির সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন তপু বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী। তিনি জানান, জনগণের মুক্তির লড়াই করতে গিয়ে আজ মিথ্যা মামলায় কারাগারে। যতক্ষণ পর্যন্ত খালেদা জিয়ার মুক্তি না হবে, নিরপেক্ষ নির্বাচনের পথ তৈরি না হবে এবং ন্যূনতম জনগণের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুব্যবস্থা না হবে সে পর্যন্ত জনগণের দল হিসেবে বিএনপি কোনও নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না। যদি খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা হয় তবে আমি এই দলের ক্ষুদ্র কর্মী হিসেবে মনোনয়ন চাইবো এবং মনোনয়ন পেলে বাগমারা আসনে ধানের শীষকে জয়ী করে আনবো।

সাবেক এমপি অধ্যাপক এম এ গফুর স্থানীয় বিএনপিতে তার অবদানের কথা স্মরণ করে জানান, দুর্নীতিমুক্ত জীবন যাপন করে এ অঞ্চলে আমি বিএনপিকে শক্তিশালী করেছি। মানুষের সঙ্গে চলেছি, মানুষের জন্য করেছি। খালেদা জিয়ার মুক্তি হলে আর নির্বাচনী ব্যবস্থা নিরপেক্ষ হলে দলের কাছে মনোনয়ন চাইবো এবং নির্বাচনে জনগণের ভোটে আমি নির্বাচিত হয়ে জনগণের সেবা করবো।

এছাড়াও মনোনয়ন লাভের প্রত্যাশা করছেন, ড্যাবের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ডা. আসফাকুর রহমান শেলী। উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক মকলেছুর রহমান, ভবানীগঞ্জ পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র আব্দুর রাজ্জাক, আমেরিকার প্রবাসী ডা. জাহিদ দেওয়ান শামীম।

আর লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে জাতীয় পার্টি থেকে নির্বাচন করার কথা বলছেন উপজেলা জাতীয় পার্টির (এরশাদ) সভাপতি বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আবু তালেব।

আরও পড়ুন :

  • এখনই তারেক রহমানের নামে ইন্টারপোলে রেড নোটিশ করা উচিত: জয়
  • গ্রেনেড হামলার দায় খালেদা জিয়া এড়াতে পারেন না : কাদের

এসএস

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি দেবে ঐক্যফ্রন্ট: ড. কামাল
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, আগামী ৩ জানুয়ারি জোটের প্রার্থীসহ সকল বিরোধী দলের প্রার্থীদের নিয়ে নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি দিয়ে আমরা কর্মসূচি ঘোষণা করবো। এসময় তিনি নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে নির্দলীয় সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের দাবি জানান। নির্বাচনের ফলাফলে বিপুল ভোটে পরাজয়ের পর আজ এক সোমবার লিখিত বিবৃতিতে মাঠে কর্মসূচি দেওয়ার কথা বললেন ড. কামাল। বিবৃতিতে ড. কামাল বলেন, “গতকাল ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নামে যে প্রহসনমূলক নাটক মঞ্চস্থ হলো, তা সমগ্র দেশবাসী প্রত্যক্ষ করেছেন এবং তা হাড়ে হাড়ে উপলব্ধি করেছেন। একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থাকে কিভাবে ধ্বংস করতে হয়েছে, তা এদেশের মানুষসহ সমগ্র বিশ্ববাসীকে দেখিয়ে দিয়েছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং তাদের আজ্ঞাবহ প্রধান নির্বাচন কমিশনার।’ ‘এই কথিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় সরকারকে বিজয়ী দেখালেও প্রকারান্তরে হেরেছে বাংলাদেশ ও তার ১৭ কোটি মানুষ। এর মধ্য দিয়ে কবর রচিত হয়েছে আমাদের বহু আকাঙ্ক্ষিত গণতন্ত্রের।’ কর্মসূচি ঘোষণার ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট কথিত নির্বাচনের ফলাফল ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে নির্দলীয় সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও অশগ্রহণমূলক নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে। এই নির্বাচন বাতিল করে পুনঃনির্বাচনের দাবিতে আগামী ৩ জানুয়ারি ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীগণসহ সকল বিরোধী দলের প্রার্থীগণ নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি প্রদান করবেন এবং কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’ পি
নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি দেবে ঐক্যফ্রন্ট: ড. কামাল
প্রশ্নবিদ্ধ ভোটের ফলাফল নিয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্ত চায় টিআইবি
একাদশ নির্বাচনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সহিংসতায় ১৯ জন নিহত এবং বলপ্রয়োগসহ আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগের ফলে ফলাফল প্রশ্নবিদ্ধ ও বিতর্কিত হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। এছাড়া রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ লঙ্ঘনের যে সব অভিযোগ গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, তার বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেছে সংস্থাটি। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান সোমবার এক বিবৃতিতে এ দাবি জানান। তিনি বলেন, ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সহিংসতা ও বলপ্রয়োগসহ নির্বাচনী আচরণবিধির বহুমুখী লঙ্ঘনের যেসব অভিযোগের কারণে নির্বাচন ও ফলাফল প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে, তার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের ওপর ভিত্তি করে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। আমরা শুরু থেকেই সব পক্ষের জন্য সমান প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে এসেছি। কিন্তু দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে একটি প্রতিদ্বন্দ্বী জোটের প্রার্থী ও সমর্থকদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা, হামলা ও নির্যাতনের সংবাদ প্রচারিত হয়েছে, যা গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত। এমনকি নির্বাচনের আগের রাতে এবং নির্বাচনের দিনও এমন হয়রানি চলেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সবচেয়ে বড় আশঙ্কার বিষয় হলো, এতে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি দেশের জনগণের আস্থাহীনতা সৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।’ টিআইবির নির্বাহী পরিচালক আরও বলেন, ‘একটি জোটের পোলিং এজেন্টরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ভোটকেন্দ্রে আসতে না পারার অভিযোগের বিষয়টি যেভাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এড়িয়ে যেতে চেয়েছেন তা একদিকে যেমন বিব্রতকর, অন্যদিকে তার নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন সাংবিধানিক দায়িত্ব কার্যকরভাবে পালন করতে পেরেছে কিনা সে উদ্বেগ আরও ঘনীভূত করেছে।’ ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ লঙ্ঘন করে মধ্যাহ্ন ভোজের বিরতির নামে ভোটগ্রহণ বন্ধ রাখার মতো ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে খোদ রাজধানীতেই। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে যেভাবে সচিত্র প্রতিবেদন আকারে এ খবর প্রকাশিত হয়েছে তাকে অপপ্রচার বলে উড়িয়ে দেয়ার সুযোগ নেই। এছাড়াও ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার আগেই ব্যালট পেপার ভর্তি বাক্স নিয়ে বেরিয়ে যাওয়া, বহু ভোটার ভোট দেয়ার আগেই ব্যালট পেপার শেষ হয়ে যাওয়া, প্রার্থীকে ভোট কেন্দ্রে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা ইত্যাদি ঘটনার প্রতিটির সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করে টিআইবি।’ অভূতপূর্ব নির্বাচনের মাধ্যমে সৃষ্ট অভূতপূর্ব ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে যে নতুন সরকার গঠিত হবে তার আত্মবিশ্বাস, মর্যাদা, আস্থা ও গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করার স্বার্থেই এ তদন্ত অবশ্যকরণীয় বলে মন্তব্য করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক। আরো পড়ুন :  সীতাকুণ্ডে যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা পি
প্রশ্নবিদ্ধ ভোটের ফলাফল নিয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্ত চায় টিআইবি
সীতাকুণ্ডে যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে দুই পক্ষের সংঘর্ষের সময় এক যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহতের নাম সৈয়দ মোহাম্মদ দাউদ সম্রাট (৩৮)। আজ সোমবার বিকেলে সীতাকুণ্ড উপজেলার কলেজ রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত দাউদ পৌরসভার মধ্য মহদেবপুর ৪নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা সৈয়দ মোহাম্মদ আবুল হোসেনের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সীতাকুণ্ড উপজেলার কলেজ রোড দিয়ে দাউদ সম্রাট বিকেলে সহযোগীদের নিয়ে যাওয়ার সময় তার প্রতিপক্ষ তাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এসময় তার দুই সহযোগীও আহত হয়। সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ দেলোয়ার হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আরটিভি অনলাইনকে বলেন, বিকেল ৫টার দিকে কলেজ এলাকায় দুই গ্রুপের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে দাউদ সম্রাট নামে এক যুবলীগ নেতা খুন হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। আরএস/পি
সীতাকুণ্ডে যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা
বিএনপি-জামায়াতের বিদায়ঘণ্টা বেজে গেছে: ইনু
বিএনপি-জামায়াত নির্বাচনে পরাজিত হলে ফলাফল মানে না। যুক্তি ছাড়াই পুনঃনির্বাচনের দাবি তোলে। এটাই তাদের ইতিহাস। বললেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনু। সোমবার দুপুরে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা ডাক বাংলো বাসভবনে কুষ্টিয়া-২ আসন থেকে নৌকা প্রতীকে বিজয়ী হওয়ার পর শুভেচ্ছা গ্রহণকালে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। ইনু বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিএনপি-জামায়াতের রাজনৈতিক বিদায়ঘণ্টা বেজে গেছে। এবার জাতীয় পতাকা হাতে গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে এগিয়ে যাবে। যেভাবে ভোটের মাধ্যমে দেশবিরোধী অপশক্তি বিএনপি-জামায়াত ঐক্যফ্রন্টকে প্রত্যাখ্যান করেছে জনগণ। এসময় ইনু আরও বলেন, বিপুল বিজয়ের মাধ্যমে দেশবাসী যে দায়িত্ব শেখ হাসিনা ও আমাদেরকে দিয়েছে সেই দায়িত্ব পালনে উন্নয়নের অগ্রযাত্রা ধরে রাখতে হবে। রাজনৈতিক শান্তি বজায় রাখতে হবে। বৈষম্য-দুর্নীতি রোধ করতে সুশাসনের জন্য আরও শক্ত হাতে কাজ করব। কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর-ভেড়ামারা) আসন থেকে নৌকা প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হওয়ার জন্য বিভিন্ন মহল থেকে দেওয়া ফুলেল শুভেচ্ছা গ্রহণ করেন হাসানুল হক ইনু। এসময় স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও জাসদের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। আরএস/পি
বিএনপি-জামায়াতের বিদায়ঘণ্টা বেজে গেছে: ইনু
এ নির্বাচন কলঙ্কিত হয়ে থাকবে: ফখরুল
কখনোই দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না এটাই প্রমাণিত হয়েছে। এ নির্বাচন কলঙ্কিত হয়ে থাকবে। বললেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সোমবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে নির্বাচন পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, এ নির্বাচন সুপরিকল্পিতভাবে ইঞ্জিনিয়ারিং করা হয়েছে। তফসিল ঘোষণার পরপরই প্রশাসনের সহযোগিতায় ব্যালটে আগেই সিল মারা হয়েছিল। তাই আমরা এ নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করছি। এসময় প্রত্যাখ্যান শব্দটি কয়েকবার উচ্চারণ করেন মির্জা ফখরুল। বিএনপি মহাসচিব বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আমাদের দলের ২১ হাজারের বেশি নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে শত শত মামলা দেওয়া হয়েছে। এ নির্বাচন বাতিল করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নতুন করে নির্বাচন দেওয়ার দাবি জানান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, এত নির্যাতনের পরেও বিএনপি নির্বাচনে গিয়েছিল, গণতন্ত্রের ধারা অব্যাহত রাখার জন্য। জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনতে। নতুন নির্বাচনের জন্য শিগগিরই কর্মসূচি দেয়া হবে। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের পরে নেতাকর্মীদের বাড়ি পুড়িয়ে দেয়াসহ হামলা ভাংচুর করা হচ্ছে। সারাদেশে বিএনপির ২১ হাজারের বেশি নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। ঢাকার বাইরের কারাগারগুলোতেও একই অবস্থা। অবিলম্বে এসব বন্দীদের মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি। এসময় লিগ্যালি কার্যক্রমের পাশাপাশি আন্দোলনও চলবে বলে জানান ফখরুল। গতকাল রোববার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৯ আসনে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। এরমধ্যে স্থগিত রয়েছে একটি আসনের ফল। প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে ভোট হয়নি একটিতে। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট জয় পেয়েছে ২৮৮টি আসনে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন মহাজোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ৭টি আসনে জয় পেয়েছে।  পরে রাতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ভোট প্রত্যাখান করে। এমসি/পি
এ নির্বাচন কলঙ্কিত হয়ে থাকবে: ফখরুল
আরও পড়ুন
ধানের শীষ প্রার্থীকে মিষ্টি খাওয়ালেন নৌকার বিজয়ী প্রার্থী
নির্বাচনে ১৯ নারী প্রার্থী বিজয়ী
কে কোন আসন থেকে জয়ী হলেন
জোরপূর্বক নৌকায় সিল মারছে: বিএনপি প্রার্থী অমি