• ঢাকা বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৪ আশ্বিন ১৪২৫

ছোট দলের বড় দাবি নিয়ে বিপাকে বিএনপি

সিয়াম সারোয়ার জামিল, আরটিভি অনলাইন
|  ২৮ জুলাই ২০১৮, ১৬:৩৬ | আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০১৮, ০৯:৫০
বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটভুক্ত দলগুলোর বেশির ভাগই ভোটের রাজনীতিতে খুবই ছোট। ২০ দলের মাত্র ৭টি দল নিবন্ধিত থাকলেও রাজনৈতিক মাঠে দু'একটি দল ছাড়া অন্যদের তেমন কোনও অবস্থানও নাই। তবে এসব দল যা আসন চেয়েছে তা সংখ্যায় একশ'র বেশি। তবে এতেও খুশি নন তারা। তাদের অভিযোগ, এ বিষয়ে বিএনপির কাছ থেকে কোনও আশ্বাসই মিলছে না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিএনপির কাছে জোটের প্রধান শরিক জামায়াতে ইসলামী চায় অন্তত ৫০টি আসন। জোটের লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি এলডিপি ও খেলাফত মজলিশ চায় অন্তত ৩০টি করে আসন। এ ছাড়া জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) ১৬টি, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি ১০টি, বিজেপি ৩টি, জমিয়তে ওলামায়ে ইসলাম এবং লেবার পার্টি চায় ৬টি করে আসন, বাংলাদেশ ন্যাপ ৫টি, এনডিপি ২টি, জাগপা ও এনপিপি চায় ৪টি করে আসন, ডেমোক্র্যাটিক লীগ ও ন্যাপ চায় ২টি করে আসন এবং সাম্যবাদী দল চায় ১টি আসন।

এ বিষয়ে জোটের শরিক দল কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) ইবরাহিম বীর প্রতীকের সঙ্গে কথা হয় আরটিভি অনলাইনের। তিনি বলেন, অন্তত ১০টি আসনে আমাদের অবস্থান শক্ত। এ কারণে ১০টি আসনে আমরা প্রার্থী দিতে চেয়েছি। বিএনপির সঙ্গে আলোচনা করে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হবে। বিএনপি যে সিদ্ধান্ত দেবে তাতেই সম্মান দেখাবে কল্যাণ পার্টি।

--------------------------------------------------------
আরও পড়ুন: ‘অধ্যাপক আকমলকে নয়, ঢাবি শিক্ষক সমিতিকেই ক্ষমা চাইতে হবে’
--------------------------------------------------------

এদিকে সংসদে বিএনপির একক সংখ্যা গরিষ্ঠতা ঠেকানোর পক্ষে তৎপর বিকল্পধারা। দলটি বিএনপির সঙ্গে দেড়শ' আসনের জন্য দর-কষাকষি করছে বলে শোনা যাচ্ছে। জানা গেছে, সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর ছেলে মাহী বি চৌধুরী গত ৩০ জুন যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফেরেন। পরদিনই বৃহত্তর ঐক্যের প্রস্তাব নিয়ে চূড়ান্ত আলোচনা করতে বি চৌধুরীর বাসায় যান বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বৃহত্তর ঐক্যের প্রশ্নে বি চৌধুরীর গুরুত্ব ও সম্মানজনক নেতৃত্বের কথা উল্লেখ করে এ প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেয়ার অনুরোধ করেন। জবাবে ওই সময় উপস্থিত মাহী বি চৌধুরী স্পষ্ট করে বলেন, ঐক্য গড়তে হলে ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষায় যুক্তফ্রন্টসহ সুধীসমাজ এবং অন্য দলগুলোর জন্য বিএনপিকে দেড় শ আসন ছেড়ে দিতে হবে।

এ বিষয়ে বিকল্পধারার যুগ্ম মহাসচিব মাহী বি চৌধুরী আরটিভি অনলাইনকে বলেন, আমরা একটি জাতীয় ঐক্যের ভিত্তি নিয়ে কাজ করছি। এখানে আসন সংখ্যা মুখ্য হতে পারে না। আমরা জাতীয় রাজনীতির ভারসাম্য চাই, যাতে এককভাবে কোনও দল ক্ষমতায় না থাকে। বিএনপি একটি বড় দল হিসেবে তাদের আসন সংখ্যা বাড়তেই পারে তবে সেটা যেন ১৫০ এর বেশি না হয়।

এলডিপির যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম আরটিভি অনলাইনকে বলেন, আমরা এখনও জোটবদ্ধ নির্বাচনের দিকেই আছি। দলে অনেক সাবেক এমপি-মন্ত্রী আছেন। নিজেদের নির্বাচনী আসনে তারা কাজও করছেন। তিনি আরও জানান, দল পুনর্গঠনের কাজ চলছে।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোটের অন্যতম শরিক খেলাফত মজলিস। দলটি রংপুর, খুলনা, সিলেট, মৌলভীবাজার, টাঙ্গাইলসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ৬০টি আসনকে টার্গেট করেছে বলে জানিয়েছেন মহাসচিব আহম্মদ আবদুল কাদের। তিনি বলেন, জোটগতভাবে নির্বাচনের চিন্তা এখনও আছে। পাশাপাশি বিকল্প প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি গত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এককভাবে ৩৬ আসনে প্রার্থী দিয়েছিল। এবারও তারা বসে নেই। সারা দেশে ৪০টি আসন নিয়ে দলটি প্রস্তুতি নিচ্ছে। জোটের কর্মসূচি পালনের পাশাপাশি দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম চলছে বলে জানান পার্টির মহাসচিব এমএম আমিনুর রহমান।

ডেমোক্রেটিক লীগ সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি ও বাংলাদেশ মুসলিম লীগ মহাসচিব অ্যাডভোকেট শেখ জুলফিকার বুলবুল চৌধুরী দুটি আসনের কথা বলেছেন। ৬টি আসন চাওয়ার কথা জানিয়েছেন লেবার পার্টির চেয়ারম্যান এমদাদুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জোটের সঙ্গে আছি। তাদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব।

তবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান আরটিভি অনলাইনকে বলেন, আসন ভাগাভাগিসহ বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলার বিষয়ে উদারপন্থী দলগুলোর কার কী পরামর্শ সে বিষয়ে আলাপ-আলোচনা হচ্ছে। দেশের বৃহত্তর স্বার্থের কথা চিন্তা করে সবাইকেই ছাড় দেয়ার মানসিকতা থাকতে হবে।

তিনি বলেন, তবে আপাতত আসন ভাগাভাগি নয়, চেয়ারপারসনের মুক্তির বিষয় নিয়েই সবার চিন্তা করা উচিত। তিনি ফিরলেই এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

আরও পড়ুন:

এসজে/সি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়