• ঢাকা শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৭ আশ্বিন ১৪২৫

ইবিতে শিক্ষার্থীদের পাশে কেবল বাম ছাত্র সংগঠনগুলো

ইমানুল সোহান, ইবি, কুষ্টিয়া
|  ১৮ জুলাই ২০১৮, ১৬:২২ | আপডেট : ১৮ জুলাই ২০১৮, ১৯:৩৯
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে বিকল্প শক্তি হিসেবে ভূমিকা রাখছে বাম ছাত্র সংগঠনগুলো। শিক্ষার্থীদের নায্য দাবি আদায়ে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা থাকছেন সামনের কাতারা। ক্যাম্পাসে বিরোধী অন্য কোনো সংগঠন সক্রিয় না থাকায় কর্মীসংকট সত্বেও বাম সংগঠনগুলোই শিক্ষার্থীদের আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছে। 

অনুসন্ধানে জানা গেছে, নব্বইয়ের দশকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে বামদের দোর্দণ্ডপ্রতাপ থাকলেও সেটি এখন অনেকটাই কমে এসেছে।  নেতা-কর্মীর অভাবে সংগঠনগুলো নিভু নিভু করছে। তবে সাম্প্রতিক বিভিন্ন আন্দোলনে বামপন্থী সংগঠনগুলোকে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে দেখা গেছে। বামপন্থীদের মধ্যে ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্রমৈত্রী ও ছাত্রফ্রন্টই সক্রিয়। তবে এদের মধ্যে ছাত্র ইউনিয়ন ও ছাত্রমৈত্রীকে বেশি সক্রিয় হতে দেখা যায়।
--------------------------------------------------------
আরও পড়ুন : কোটা আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে জাবিতে বিক্ষোভ
--------------------------------------------------------

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে নায্য দাবি আদায়ে বাম সংগঠনগুলোকে সব সময় সেচ্চার। চলতি ১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি ফি তিন গুণ বৃদ্ধির প্রতিবাদে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলো সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে প্রতিবাদে নেমেছিল। সে সময় ছাত্র ইউনিয়নের পাশাপাশি ছাত্রমৈত্রীও ছিল মাঠে সক্রিয়। সংগঠন দুটি ভর্তি ফি কমানোর দাবিতে ধারাবাহিকভাবে আন্দোলনে কর্মসূচি পালন করেছে। এছাড়া সাম্প্রতিক কোটা সংস্কার আন্দোলনেও দলটির কর্মীরা মুখ্য ভূমিকা পালন করে আসছে।

এ বিষয়ে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী তানজীম পিয়াস বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলন করতে শিক্ষার্থীরা বেশ কয়েকবার ছাত্রলীগের কাছে হামলা শিকার হতে হয়েছে। ওই সময় অন্য কেউ আমাদের পাশে দাঁড়ায়নি। বাম ছাত্র সংগঠনগুলোই আমাদের পাশে ছিল। আইন বিভাগের শিক্ষার্থী নুরুন্নবী সবুজ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শুরু থেকেই দেখে আসছি, ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠন শিক্ষার্থীদের কোনো আন্দোলনেই থাকে না। উল্টো বিভিন্ন সময় বিরুদ্ধে গিয়ে হামলা করে। এসব ক্ষেত্রে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলোই ভরসা। যখন কেউই শিক্ষার্থীদের পক্ষে বলছেন না, এমন কি শিক্ষকরাও মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন, তখন এই সংগঠনের নেতাকর্মীরাই আমাদের পাশে দাঁড়ান। 

এ নিয়ে কথা হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক মারুফ ওয়াহাবের সঙ্গে। তিনি আরটিভি অনলাইনকে বলেন, ছাত্র ইউনিয়ন সাধারণ অধিকার আদায়ের সংগঠন। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যে কোনো নায্য দাবি আদায়ের কর্মসূচিতে আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার চেষ্টা করি। সংগঠনের দুর্বলতা সম্পর্কে তিনি বলেন, বুর্জোয়া ছাত্র সংগঠনগুলো সন্ত্রাস, টেন্ডারবাজি নিয়েই ব্যস্ত থাকে। সেখানে আমরা অল্পসংখ্যক কর্মী নিয়েও শিক্ষার্থীদের পাশে দাড়ানোর চেষ্টা করি। এজন্য শিক্ষার্থীদের আস্থা অর্জন করতে পেরেছে বাম ছাত্র সংগঠনগুলো।

ইবি ছাত্রমৈত্রীর সভাপতি মোরশেদ হাবিব আরটিভি অনলাইনকে বলেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রগতিশীলতার চর্চা করে বাম-সংগঠনগুলোই। সাধারণ শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি আদায়ে ছাত্রমৈত্রী সর্বদা মাঠে ছিল, ভবিষৎতে থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নানারকম সংকট আছে। সেগুলো নিয়ে শিগগিরই আমরা মাঠে নামবো। আর ছাত্রফ্রন্টের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি লিটন রায় জানালেন, বুর্জোয়া ছাত্র সংগঠনগুলোর বাইরে ক্যাম্পাসে বিকল্প শক্তি তৈরির চেষ্টা করছি। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সব আন্দোলন সংগ্রামেই থাকে বামেরা। সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাই বাম ছাত্রসংগঠনগুলোর ওপরেই আস্থা রাখে।

আরও পড়ুন : 

এসজে

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়