রমজানে শিশুর সুস্থতায়

প্রকাশ | ২৪ জুন ২০১৭, ১৪:২৩ | আপডেট: ২৪ জুন ২০১৭, ১৪:৩০

আরটিভি অনলাইন ডেস্ক

রমজান মাস চলছে। এ সময় বড়রা সেহরি ও ইফতারের সময় বিভিন্ন খাবার গ্রহণ করে থাকেন। বড়দের পাশাপাশি শিশুরাও এ সময় অংশগ্রহণ করে থাকে। পুরো রমজান জুড়ে নানান ভাবে জীবাণু দ্বারা আক্রমণের শিকার হতে পারে বড়দের পাশাপাশি শিশুরাও। শিশুদের সুস্থতার কথা এ সময় বেশি খেয়াল রাখতে হবে। তাছাড়া আবহাওয়ার রদবদলের এই সময়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছে বড়রা। বাসার শিশুটি যেন অসুস্থ না হয়ে পড়ে এবং এর জন্য ভোগান্তি পোহাতে না হয় তার জন্য শিশুর খেয়াল রাখার পাশাপাশি তাকে কিছু নিয়ম মেনে চলা শিখিয়ে দিতে হবে। শিশুরা প্রতিনিয়ত বিভিন্ন বস্তু বা উপাদান ছুঁয়ে থাকে যার সাহায্যে জীবাণু শরীরে প্রবেশ করে থাকে। তাই হাত ধোয়ার ব্যাপারে শিশুটিকে শিখিয়ে দিতে হবে।

পবিত্র এই রমজানে সবার মাঝে গড়ে ওঠে সচেতনতা তা খেয়াল রাখতে হবে। দেশের সব শিশু-কিশোরর যেন সুস্থ স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠে সেটাও মাথায় রাখতে হবে। সেহরি ও ইফতারের আগে ভালো ভাবে হাত ধোয়ার বিষয়টি যেন বাড়ির সবার খেয়াল থাকে সেদিকে সচেতন থাকতে হবে। সাবান দিয়ে হাত না ধুয়ে খাবার খেলে এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন না থাকলে কি ধরনের সমস্যায় পড়তে হয় সেটা সবাইকে জানাতে হবে। শিশুরা হয়তো ভুল করে খাবার গ্রহণের আগে সাবান বা হ্যান্ডওয়াশ দিয়ে হাত ধুতে ভুলে যায়। সাবান দিয়ে হাত না ধুয়ে খাবার খাওয়ার ফলে শিশুর যে সব মারাত্মক অসুখ হতে পারে তার মধ্যে আছে ডায়রিয়া, জ্বর, কাশি, গলা ব্যথা, পেট ব্যথা সহ নানান অসুখ। তাই শিশুর হাত ধোয়ার বিষয়টি বাবা-মাকে খেয়াল রাখতে হবে সবসময়। শিশুটি ভুলে গেলেও তার ভেতরে যাতে এই অভ্যাস তৈরি হয় তার দায়িত্বও কিন্তু বাবা-মায়ের। এমনকি বাসার বড় যারা আছে তাদেরও।

কখন কখন হাত ধুতে হবে এবং কিভাবে হাত ধুতে হবে সেটা জানা থাকলে শিশুটি অনায়াসে জীবাণু থেকে দূরে থাকতে পারবে। হাত ধোয়া সম্পর্কে জেনে নিই।

হাতের স্বাস্থ্যবিধি আমাদের দৈনন্দিন সুস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের হাত ও কনুইয়ে প্রতিদিন প্রায় ২ থেকে ১০ মিলিয়ন জীবাণু জমা হতে পারে। হাতের মাধ্যমে জীবাণু দেহে প্রবেশ করে। এর ফলে কফ, বমি, ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এভাবে জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত জীবন বেশ দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। তবে নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাস থেকেই এসব জীবাণু থেকে দূরে থাকা যায় এবং জীবাণু সংক্রমণের মাত্রাও কমিয়ে আনা যায়। যত্নশীল মানুষগুলো এভাবে ভালো থাকতে এবং পাশের জনকেও ভালো রাখতে পারে।

বিশ্বব্যাপী হাতের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ক্ষেত্রে শিশু মৃত্যুর হার কমে যেতে পারে। শিশুদের স্কুলে উপস্থিতি বৃদ্ধি, অসুস্থতা ঝেড়ে কর্মক্ষম করে তোলা এবং উন্নত মেধা তৈরিতে এটি কাজ করে থাকে।

তাই কোনো ঝামেলা ছাড়াই হাতের স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে জেনে সে অনুযায়ী চললে সুস্থ থাকা কোনো ব্যাপারই না। 

হাত ধোয়ার জন্য অন্তত ১৫ সেকেন্ড আপনাকে ব্যয় করতে হবে। যদি এর থেকে কম সময় ব্যয়িত হয় তাহলে হাতের গোপন ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস নাও হতে পারে। হাত ধোয়ার নিয়ম হলো।

প্রথমে হাতের ঘড়ি, আংটি, চুড়ি ইত্যাদি খুলে পানি দিয়ে হাত ভিজিয়ে নিতে হবে

হাতের কনুই অবধি ভালোভাবে সাবান বা হ্যান্ডওয়াশ লাগান এবং প্রচুর ফেনা তৈরি করতে হবে।

এবার নিম্নের বর্ণনানুযায়ী ভালোভাবে হাত ঘষে পরিষ্কার করতে হবে।

  • দুই হাতের তালু পরস্পর
  • ডান হাতের তালু বাম হাতের পিঠে
  • বাম হাতের তালু ডান হাতের পিঠে
  • এক হাতের আঙুলের পিঠ অন্য হাতের তালুতে
  • এক হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি অন্য হাতে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে
  • দুই হাতের তালু পরস্পর ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে
  • পরিষ্কার পানির ধারায় দুই হাত ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে
  • শুকনো ও পরিষ্কার কাপড়ে হাত মুছে নিন বা বাতাসে শুকিয়ে নিতে পারেন।

আরকে/ এমকে