• ঢাকা রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৮ আশ্বিন ১৪২৫

হজ পরবর্তী জীবন কেমন হওয়া উচিত

হাফেজ মাওলানা মো. নাসির উদ্দিন
|  ১৭ আগস্ট ২০১৮, ১৪:৫৩ | আপডেট : ১৭ আগস্ট ২০১৮, ১৫:২০
হজ ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। যে পাঁচটি বিষয়ের উপর ইসলামের মূল ভিত্তি, তার চতুর্থটি হল হজ। নামাজ, রোজা থেকে হজের বিধানটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। কেননা, এটি মুসলমানের ওপর প্রতিদিন অথবা প্রতি বছর ফরজ হয় না। বরং জীবনে মাত্র এক বারই ফরজ হয়ে থাকে। হজের সফরের পূর্ণ সময়টা মূলত মানুষের জীবনে তাকওয়া ও খোদাভীতি অর্জনের এক মোক্ষম সময়।

এ স্বল্প সময়ের প্রশিক্ষণে একজন মানুষ নিজেকে পরিপূর্ণ মুত্তাকি হিসেবে গড়ে তোলে। তাই দেশে ফিরেও যেন সেই তাকওয়া অটুট থাকে সেদিকে লক্ষ্য রাখা আবশ্যক। আর হজের সফরের আগে থেকে পেশাগত অথবা অন্য কোনো কারণে কোনো প্রকার গুনাহর কাজে জড়িত থাকলে হজ সফরের পূর্বেই তা থেকে সম্পূর্ণভাবে পৃথক হয়ে যাওয়া এবং হজের সময় জুড়ে আল্লাহর কাছে বারংবার কায়মনোবাক্যে ক্ষমা প্রার্থণা করতে থাকা জরুরি।

আর হজ শেষে দেশে ফিরে সব রকমের গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা আবশ্যক। এজন্য আল্লাহ ওয়ালাদের সংস্পর্শে  থাকা উচিত। এ সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে ঈমানদারগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং সত্যনিষ্ঠদের সঙ্গে থাক।’ (সুরা তাওবা, আয়াত: ১১৯)

------------------------------------------------------------------
আরও পড়ুন : এবার ৬০৬ জনের হজে যাওয়া হচ্ছে না : ধর্মমন্ত্রী
------------------------------------------------------------------

এই আয়াতে প্রথমত মুমিনদেরকে সম্বোধন করে বলা হয়েছে যে, হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর। আর এই ভয় করার উদ্দেশ্য হল, আল্লাহর অবাধ্যতা না করা ও গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা। তবে যেহেতু আমাদের পরিবেশে গুনাহ থেকে বাঁচা খুবই কঠিন, তাই এ পরিবেশে তাকওয়া অবলম্বনের সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি হল আল্লাহ ওয়ালাদের সোহবত ও সাহচর্যে থাকা। কারণ আল্লাহ তাআলা তাকওয়া অবলম্বনের আদেশ দেওয়ার পাশাপাশি আল্লাহ ওয়ালাদের সাহচর্যে থাকারও নির্দেশ করেছেন, ভালো লোকদের সাথে থাকলে  একজন ভালো মানুষে পরিণত হবে।  মানুষ স্বভাবগতভাবেই পরিবেশের প্রভাবে প্রভাবিত হয়ে থাকে।

ফলে গুনাহর পরিবেশ বর্জন করে নেক ও সৎ লোকদের পরিবেশে নিজেকে অভ্যস্ত করে বাকি জীবন গুনাহমুক্তভাবে কাটিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। একজন হাজি সাহেবের হজের পরে কিছু কিছু অভ্যাসও এমন করা উচিত যা তার সারা জীবন চলমান থাকবে। আর তা হল এই যে, ১. প্রতিদিন নিয়মিতভাবে কিছু পরিমাণ কুরআন তেলাওয়াত করা। ২. পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ মসজিদে গিয়ে আদায়ের চেষ্টা করা। ৩. প্রতিদিনের ফরজ ও সুন্নত নামাজের পাশাপাশি কিছু পরিমাণ নফল নামাজেরও অভ্যাস গড়ে তোলা। ৪. তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ার চেষ্টা করা। ৫. প্রতিদিন দুরুদ শরিফ, ইস্তেগফার ও অন্যান্য দুয়া জিকির ইত্যাদি পাঠ করা। এইভাবে চলতে পারলে আমাদের হজ পরবর্তী জীবন স্বার্থক হবে, আমাদের জীবন ধন্য হবে এবং আমরা সফলতা অর্জন করতে পারবো ইনশাআল্লাহ । আল্লাহ আমাদের সকলকে কবুল করুন।(আমিন) 

আরও পড়ুন : 

এমকে

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়