• ঢাকা বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৪ আশ্বিন ১৪২৫

সকল নবী রাসুলের যুগেও রোজার বিধান ছিল

হাফেজ মাওলানা মো. নাসির উদ্দিন
|  ৩০ মে ২০১৮, ১৮:২৮ | আপডেট : ৩০ মে ২০১৮, ১৮:৫৮
মহান আল্লাহ তাআলা পবিত্র রমজানের ঐতিহাসিক পটভূমির প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, হে ইমানদারগণ তোমাদের উপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেরূপ ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের উপর, যেন তোমরা অধিক পরহেজগারি অর্জন করতে পার। (সুরা বাকারাহ, আয়াতঃ১৮৩)

উল্লেখিত এ আয়াত দ্বারা এ কথাই বুঝা যায় যে, পূর্বে সকল শরিয়তেই রোজা ফরজ ছিল বলে ঘোষণা করা হয়েছে।

হজরত আদম (আঃ) এর যুগে রোজা পূর্বের শরীয়তসমূহে রোজা কোন ধরনের বা কত দিনের ছিল, কোন মাস বা কোন নির্দিষ্ট সময় নির্ধারিত ছিল কিনা এ সর্ম্পকে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা সহজ নয়।

--------------------------------------------------------
আরও পড়ুন : ঈদের প্রধান জামাত হবে সকাল সাড়ে ৮টায়
--------------------------------------------------------

আল্লামা আলুসী (রহ.) এর মতে, হজরত আদম (আঃ) এর প্রতিও রোজার হুকুম ছিল, কিন্তু সেই রোজার বিস্তৃত বর্ণনা আমাদের জানা নেই। এ সর্ম্পকে শাইখুল হিন্দ আল্লামা মাহমুদুল হাসান (রহ.) উল্লেখিত আয়াতের তাফসীরে বলেন, রোজার হুকুম যথারীতি হজরত আদম (আঃ) এর যুগ থেকে শুরু করে অদ্যাবধি বিদ্যমান রয়েছে। এ সর্ম্পকে অন্যান্য তাফসীর কারকগণ এ ধরনের মত পোষণ করেছেন।

হজরত নূহ (আঃ) কে পৃথিবীর বুকে সর্বপ্রথম রাসূল হিসেবে ঘেষণা করে বলা হয়েছে, আপনি বিশ্ববাসীর মাঝে শরিয়ত বর্ণনাকারী প্রথম রাসূল। আল্লামা ইবনে কাছীর (রহ.) তার স্বীয় প্রসিদ্ধ তাফসীরে লিখেছেন, হজরত নূহ (আঃ) এর যুগ থেকে প্রত্যেক মাসেই তিনটি রোজা পালন করার হুকুম ছিল এবং এ হুকুম বিশ্ব নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগ পর্যন্ত বহাল ছিল। অতপর যখন রমজানের রোজা পালনের হুকুম হলো, তখন থেকে প্রতি মাসে তিনটি রোজা পালনের হুকুম রহিত হয়ে গেল। এই বর্ণনা দ্বারা সুস্পষ্ট বোঝা যায় যে, হজরত নূহ (আঃ) এর যুগেও রোজার বিধান চালু ছিল।

আল্লাহ তাআলা যখন হজরত মুসা (আঃ)-কে তুর পাহাড়ে ডেকে তাওরাত প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিলেন, তখন আল্লাহ তাআলা হজরত মুসা (আঃ) কে সেখানে ত্রিশ রাত অবস্থানের নির্দেশ দিলেন। এ সর্ম্পকে আল্লাহ তাআলা বলেন, এবং স্বরণ কর ওই সময়কে, যখন আমি মুসার জন্য ত্রিশ রাত নির্ধারণ করে ছিলাম এবং আরও দশ দ্বারা এটা পূর্ণ করে ছিলাম। এভাবে তার প্রতিপালকের নির্ধারিত চল্লিশ রাত পূর্ণ হয়। হজরত ইবনে আব্বাসের মতে, হজরত মুসা (আঃ) জিলকদ মাসের ৩০দিন ও জিলহজ্জ মাসের প্রথম দশদিন রোজা পালন করে আল্লাহর দরবারে হাজির হন এবং তাওরাত লাভ করেন। এ বর্ণনা দ্বারা বোঝা যায় যে, হজরত মুসা (আঃ) এর যুগেও রোজার হুকুম ছিল।

হজরত দাউদ (আঃ) অর্ধ বছর রোজা রাখতেন। অর্থাৎ তিনি একদিন রোজা রাখতেন আর একদিন রোজা ভাঙ্গতেন। বুখারী ও মুসলিমের বর্ণনায় পাওয়া যায় যে, হজরত ইবনে আমর (রাঃ)-কে নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রোজা পালনের আদেশ এভাবে করেছিলেন, আল্লাহর কাছে যে রোজা উত্তম সেই রোজা রাখে। আর সেই রোজা হলো যা হজরত দাউদ (আঃ) রেখেছেন। তিনি একদিন রোজা রাখতেন আর একদিন ইফতার (রোজা ভাঙ্গতেন) করতেন। এই হাদিস থেকে হজরত দাউদ (আঃ) এর যুগের রোজার সন্ধান পাওয়া যায়।

বাইবেলে ‘দার’ বাদশাহের যুগে বাইতুল ইলের বাসিন্দা ও বনী ইয়াহুদাদের প্রতি রোজা রাখার হুকুমের কথা সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে।

এমনিভাবে ইতিহাস পর্যালোচনা করলে সব শরিয়তেই রোজার সন্ধান পাওয়া যায়।

আরও পড়ুন :

এমকে

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়