• ঢাকা শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৬ আশ্বিন ১৪২৫

ইসলামে মাতৃভাষার গুরুত্ব

মাওলানা নাসির উদ্দিন
|  ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১৯:৩৫ | আপডেট : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১৯:৫২
আল্লাহ তায়ালা আমাদের যত নেয়ামত দান করেছেন তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি নেয়ামত হলো ভাষা বা কথা বলার শক্তি।

মনের আকুতি প্রকাশ করার জন্য আমরা মুখের মাধ্যমে যে শব্দ বের করি তার নাম ভাষা। ভাষা আল্লাহর দেওয়া বড় নেয়ামত।

আল্লাহ তায়ালা নবী ও রাসুলগণকে স্ব স্ব ভাষায় অভিজ্ঞ করেছেন। যাতে তারা আল্লাহর দেওয়া হুকুম-আহকামকে সুন্দর ও সহজ করে মানুষের কাছে তুলে ধরতে পারেন। তাছাড়া সুন্দর ও বিশুদ্ধভাষায় কথা বলা উঁচু ব্যক্তিত্বের পরিচয়। আর নবী রাসুলগণ নিঃসন্দেহে বড় ব্যক্তিত্বের অধিকারী ছিলেন।

আল্লাহ তায়ালা হজরত আদম (আ.) কে সৃষ্টি করেছেন। তারপর তাকে সমস্ত ভাষা শিক্ষা দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা আদমকে শিখালেন সমস্ত বস্তু সামগ্রীর নাম। (সুরা বাকারাহ, আয়াত:৩১) অর্থাৎ হজরত আদম (আ.) কে সমস্ত ভাষার জ্ঞান তাকে শিখিয়েছেন। এই আয়াতের আলোকে বোঝা যায় পৃথিবীর সমস্ত ভাষা আল্লাহ কর্তৃক সৃষ্ট। সারা পৃথিবীর যে মানুষ যে জনপদে বাস করে সে ওই অঞ্চলের ভাষায় কথা বলতে পারে।

--------------------------------------------------------
আরও পড়ুন: শরীরে কাপড় না রেখে গোসল করলে কী গুনাহ হবে?
--------------------------------------------------------

আল্লাহ তাআলা বলেন, আমি সব পয়গম্বরকেই তাদের স্বজাতির ভাষাভাষী করেই প্রেরণ করেছি, যাতে তাদেরকে পরিষ্কারভাবে সব কিছু বোঝাতে পারে। (সুরা ইব্রাহীম, আয়াত: ৪)

এই আয়াত দ্বারা বুঝা যায় যে, স্বজাতির ভাষা আয়ত্ত করা এবং তাতে বিশুদ্ধতা অর্জন করা কুরআন-সুন্নাহর আলোকে কর্তব্য। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন, তিনি (আল্লাহ) মানবজাতি সৃষ্টি করেছেন। শিখিয়েছেন বর্ণনা করার জ্ঞান। (সুরা আর রহমান, আয়াত: ৩-৪)

নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ আমাকে আরব দেশে প্রেরণ করেছেন, আরবি ভাষায় পাণ্ডিত্যদান করেছেন এবং আমি আরবে সবচাইতে বিশুদ্ধ ভাষায় কথা বলি।  (মেশকাত শরীফ)

প্রাতিষ্ঠানিক কোন জ্ঞান না থাকার পরেও আল্লাহর রাসুলের মুখ নিঃসৃত শব্দগুলো ছিল ভাষাশৈলীর দৃষ্টিকোন থেকে এবং ভাষা-সাহিত্যের মানদন্ডের অত্যন্ত উঁচু মাপের।

আজও আল্লাহর রাসুলের মুখ দিয়ে নিঃসৃত হাসিদগুলো সাহিত্যর সমৃদ্ধ ভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত এবং এ হিসেবে হাদিসের গবেষণা করা হয়।

ফেব্রুয়ারি মাস বাংলাদেশের বাংলাভাষী মানুষের জন্য ভাষার মাস। মায়ের ভাষাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দেওয়ার জন্য ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি তারা রাজপথে নেমেছিল এবং বুলেটের আঘাতে আহত হয়েছিল, রক্তাক্ত হয়েছিল, শহিদ হয়েছিল।

এই অঞ্চলের মানুষ রক্ত দিয়ে তাদের মায়ের ভাষাকে রক্ষা করেছে। প্রশ্ন আসতে পারে এ ব্যাপারে ইসলাম কী বলে? এ ব্যাপারে ইসলাম একথাই বলে যে, মুসলমানরা যে অঞ্চলে প্রেরিত হবে সে অঞ্চলের ভাষাই হবে তার ভাষা। সে ভাষায় তাকে অভিজ্ঞ হতে হবে। এটা নবী রাসুলগণের সুন্নত। কারণ, নবী রাসুলগণ স্বজাতির ভাষায় অভিজ্ঞ ছিলেন।

আল্লাহ আমাদের সকলকে বাংলা ভাষা তথা মায়ের ভাষার মর্যাদা রক্ষা করার তাউফিক দান করুক। (আমিন)

আরও পড়ুন: 

এমকে

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়