• ঢাকা রোববার, ২৪ জুন ২০১৮, ১০ আষাঢ় ১৪২৫

পিতা-মাতার নেক আমলের ভাগিদার সন্তানও

আরটিভি অনলাইন ডেস্ক
|  ১২ জানুয়ারি ২০১৮, ১৭:৩৫
মহান আল্লাহ তায়ালার একটি গুণবাচক নাম হল ‘শাকুর’ অর্থাৎ তিনি তাঁর বান্দাদের কর্মের মূল্যায়ন করেন। তাদের ছোট ছোট আনুগত্যকেও খুশি হয়ে গ্রহণ করেন এবং এর কারণে বড় পুরষ্কার দান করেন। এ সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে মূসা (আ.) এবং খিজির (আ.) এর ভ্রমণের ঘটনাটি উল্লেখ করা যেতে পারে। আল্লাহ তায়ালার আদেশে মূসা (আ.) খিজির (আ.) এর সাথী হন এবং তাঁর সাথে ভ্রমণ করতে থাকেন। এই ভ্রমণে বিভিন্ন ঘটনা ঘটতে থাকে এবং মূসা (আ.) এসব ঘটনার তাৎপর্য উপলব্ধি করতে না পেরে খিজির (আ.) কে প্রশ্ন করতে থাকেন।

ভ্রমণের শুরুতে শর্ত ছিল মূসা (আ.) কোন প্রশ্ন করবেন না। কিন্তু তিনবার এরূপ প্রশ্ন করার পর খিজির(আ.) ভ্রমণ সমাপ্ত করেন। এরপর খিজির (আ.) সেসব ঘটনার তাৎপর্য মূসা (আ.) কে জানিয়ে দিলেন। সেসব ঘটনার মধ্যে একটা ছিল, মুসা (আ.) এবং খিজির (আ.) উভয়ে একটি গ্রামের মধ্যদিয়ে যাচ্ছিলেন। ভ্রমণের ক্লান্তি এবং সঙ্গে পাথেয় না থাকায় তারা সেই গ্রামবাসীর মেহমান হতে আগ্রহ প্রকাশ করেন, কিন্তু গ্রামবাসী তাদের আবেদন অগ্রাহ্য করে। সেখান থেকে চলে যাওয়ার সময় খিজির (আ.) দেখলেন একটি দেয়াল ধ্বসে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। খিজির (আ.)মুসা (আ.) কে বললেন, আসুন আমরা এই দেয়ালটি খাড়া করে দেই। দেয়াল খাড়া করে দেয়ার পর মূসা (আ.) আপত্তি করলেন, এই গ্রামের বাসিন্দারা আমাদের মেহমানদারী করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

আপনি ইচ্ছে করলে তাদের কাছে থেকে এই কাজের জন্য পারিশ্রমিক গ্রহণ করতে পারতেন। মূসা (আ.) এর আপত্তির উত্তরে হজরত খিজির (আ.) যা বলছিলেন পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা তা জানিয়ে দিয়েছিলেন। খিজির (আ.)বললেন, “আর ওই প্রাচীরটি সেটি ছিল নগরবাসীর দুই পিতৃহীন কিশোরের প্রাচীর, যার নিচে আছে তাদের গুপ্তধন এবং তাদের পিতা ছিলেন সৎকর্মপরায়ণ। তাই তোমার পালনকর্তা ইচ্ছা করলেন যে, তারা বয়প্রাপ্ত হোক এবং তাদের ধনভান্ডার উদ্ধার করুক। এটি তোমার পালনকর্তার করুণা। আমি নিজে থেকে কিছুই করিনি। আপনি যে বিষয়ে ধৈর্য্যধারণ করতে অক্ষম হয়েছিলেন, এই হল তার ব্যাখ্যা।” (সুরা কাহ্ফ, আয়াত ৮২)

এখানে তাদের পিতা সৎকর্মপরায়ণ মানুষ ছিলেন’ এই অংশটি বিশেষভাবে মনোযোগের দাবিদার। এ থেকে বুঝা যাচ্ছে যে, পিতার প্রতি সন্তুষ্টির কারণে আল্লাহ তায়ালা তার সন্তানদেরকেও হেফাজত করেন।

এটা হল মহান আল্লাহর অনুগ্রহ এবং তাঁর বান্দার কর্মের মূল্যায়ন। তবে এর অর্থ কখনো এই নয় যে, পিতামাতা বা পূর্বপুরুষের নেক আমলের কারণে আখেরাতে পরবর্তীদের মুক্তি মিলবে। আখেরাতে মুক্তি পাওয়ার জন্যে প্রত্যেককে ইমান ও নেক আমলের প্রতি যত্নবান হতে হবে।

এ সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেন. “যারা ইমান আনে আর তাদের সন্তান-সন্ততি তাদের অনুগামী হয় ইমানের সাথে, আমি তাদের সঙ্গে শামিল করে দিব তাদের সন্তান-সন্ততিকে এবং তাদের কর্মফল কিছুমাত্র হ্রাস করব না। প্রত্যেক ব্যক্তি নিজ নিজ কর্মের সঙ্গেই আবদ্ধ।” (সুরা তূর: ২১)

এই আয়াত থেকে স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে যে, জান্নাতে পূন্যবান পিতাকে পেতে হলে ইমানের সঙ্গে নেক আমল করে যেতে হবে। পিতা যে পথে চলে আল্লাহ তায়ালার প্রিয়ভাজন হয়েছেন ছেলেকেও সে পথে চলতে হবে। অন্যথায় শুধু বংশীয় সম্পর্ক আখেরাতে কোন কাজে আসবে না।

আল্লাহ তায়ালা আরো বলেন,, “যেদিন শিঙ্গায় ফুঁ দেওয়া হবে অপরের খোঁজ-খবরও নিবে না।” (সুরা মুমিনুণ, আয়াত: ১০১)

আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকল পিতা-মাতা ও সন্তান সন্ততি সবাইকে নেক এবং সুন্দর জীবন দান করুন। (আমিন)

এমকে 

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়